প্রচলিত তাবলীগ জামাআতের সংশোধনী সমুহ
ভূমিকাঃ জীবনের সবটুকু প্রসংশা আল্লাহু সুবহানাহু তায়ালার জন্য,উজাড় করা প্রেম মহব্বতের দরূদ ও সালাম সরোয়ারে দোয়া আলম বিশ্বনবী জনাবে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সল্লললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি।বহুল প্রচলিত তাবলীগ জামাতের কারণে সাধারণ মুসলমানদের যেমন উপকার সাধিত হয়েছে তেমনিভাবে এই সংগঠন নিয়ে বিতর্কের ও শেষ নেই।তবে প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে যারা ওজু,গোসল,পাক পবিত্রতা,নামাজের নিয়োম কানুন ইত্যাদী সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের জন্য এটা খুবই উপকারী।বযস্ক মানুষদের জন্য এখন মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে মাসআলা মাসায়েল শিক্ষা করা সম্ভব না।সেই দৃষ্টিকোন থেকে এর উপকার অপরিসীম।তবে শিক্ষা প্রদানের পদ্ধতি এবং কিছু বিষয়াদী ইসলামী শরীয়তের তথা কোরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে নানা দিক হতে বিতর্কের যে ঝড় উঠেছে তা নিরসনের লক্ষ্যেই আমার এই পদক্ষেপ।তাবলীগ জামাতের মাধ্যমে প্রকৃতভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং ইসলামের খেদমত করতে চাইলে সংশোধনী সমুহকে নিজের জীবনে মেনে নিতে হবে।নিজের জীবন হতে ধর্মান্ধতাকে দূর করে প্রকৃত সত্যকে উৎঘাটন করার লক্ষেই আমি চেষ্ট করেছি,
তাবলিগ জামাত
১৯২৬ সালে মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভি কর্তৃক ভারতের মেওয়াতে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি ইসলামের বিভিন্ন বিষয়কে অবজ্ঞা ও নৈতিক মুল্যবোধের সমসাময়িক অবক্ষয়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তাদের যাত্রা শুরু করে। তাবলিগ জামাত-এর মুল ভিত্তি হিসেবে ৬টি উসুল বা মূলনীতিকে ধারণ করা হয়। এগুলো হলো: কালিমা, নামায, ইলম ও যিকির, একরামুল মুসলিমিন সহিহ নিয়ত বা এখলাসে নিয়ত (বিশুদ্ধ মনোবাঞ্ছা), এবং দাওয়াত-ও-তাবলিগ
সংগঠনটির সাথে সন্ত্রাসবাদের কোন সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই বলে জানা গিয়েছে, যদিও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলো তাদের মধ্য থেকে লোক নিয়ে সদস্য নিয়োগ দিয়েছে তাবলিগী জামায়াতের নেতৃবৃন্দ সন্ত্রাসবাদের সাথে যোগসূত্রের বিষয় অস্বীকার করেছেন। তাবলিগ জামায়াত স্বীকার করে যে এটি সামাজিক বা রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল ধরণের ব্যক্তিকে আকৃষ্ট করে এবং এর সদস্যপদ নিয়ন্ত্রণ করে না।প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠার সময় তিনি তার পান্ডিত্য, বক্তব্য দক্ষতা বিষয়সমূহ নিয়ে নিজের মধ্যে অনেক সীমাবদ্ধতা অনুধাবন করেছিলেন তবে আন্দোলন বাস্তবায়নে দৃঢপ্রতিজ্ঞ ছিলেন শুরুতে তিনি একগুচ্ছ মসজিদ-ভিত্তিক ইসলামি পাঠশালা-বয়স্কশিক্ষা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন যাতে সনাতন সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মুখোমুখি মেওয়াত অঞ্চলের অশিক্ষিত দরিদ্র মুসলিমদেরকে সঠিক আকিদা ও ধর্মচর্চার শিক্ষা দিতে পারেন। তবে কিছুকাল পর তিনি অনুধাবণ করেন যে এ পদ্ধতিতে বেশকিছু নতুন ইসলামি পন্ডিত তৈরী হলেও কোন ধর্মপ্রচারক তৈরী হচ্ছে না।
এই ধর্মপ্রচার আন্দোলন শুরু করার জন্য ইলিয়াস মাদ্রাসা মাজহারুল উলুমে তার শিক্ষকতার চাকরীটি ছেড়ে দেন যাতে মুসলিমদের আত্নশুদ্ধির কার্যক্রমে নিজেকে পুরোপুরি আত্ননিয়োগ করতে পারেন। অতঃপর তিনি দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকাতে চলে আসেন এবং ১৯২৬ বা ১৯২৭ সালে আন্দোলনটি শুরু করেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুহাম্মাদ সঃ যে কর্মপদ্ধতী অনুসরণ করেছিলেন; আন্দোলনের কর্মপন্থা, নীতিনির্ধারণ করার সময় ইলিয়াস তা থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। যে স্লোগানটিকে সামনে রেখে তিনি আন্দোলন শুরু করেছিলেন; "!اﮮ مسلمانو! مسلمان بنو", তার অর্থ হল, "হে মুসলমান, [সত্যিকারের] মুসলমান হও!" যা প্রকৃতপক্ষে তাবলীগ জামাত আন্দোলনের মূল লক্ষ্যকে প্রকাশ করে। আর, পুনঃজাগরণ ঘটিয়ে সর্বোক্ষেত্রে মুহাম্মাদের সঃ জীবনপদ্ধতী দৃঢভাবে অনুসরণ করে সমগ্র মুসলিম সমাজকে তার আমলের ন্যায় একত্রিত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য, বলে তারা দাবী করেন। এই আন্দোলন দ্রুতই গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছিল এবং জানা গিয়েছিল যে, ১৯৪১ সালে তাদের বার্ষীক আলোচনাসভায় ২৫,০০০ জন অনুসারী অংশগ্রহণ করেছিলেন।
আন্দোলনটি এমন সময়কালে শুরু হয়েছিল যেসময় ভারতবর্ষের কিছু মুসলিম নেতা আশঙ্কা করছিলেন যে মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় পরিচয় হারিয়ে ফেলছেন এবং ধর্মীয় প্রথা-প্রার্থনাও (প্রধানত নামাজ) ঠিকমতো মান্য করতে পারছেন না। তবে এই আন্দোলনটিকে কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও নাম দেয়া হয়নি, ইলিয়াস এটিকে 'তাহরিক-ই-ঈমান' বলতেন।
উৎপত্তিস্থান দিল্লির মেওয়াত অঞ্চলটিতে, মেও নৃগোষ্ঠীর কৃষিসংশ্লিষ্ট দরিদ্র জনগন বসবাস করতেন যারা রাজপুত জাতীগোষ্ঠীর অর্ন্তভুক্ত। ভারতবর্ষে ইসলামপ্রচার শুরু হওয়ার পর এবং মুঘল আমলে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তবে পরবর্তীতে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটার সময়কালে অনেকেই পুনরায় সনাতন ধর্মাবলম্বন ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মুখে পড়েন। রজার ব্যলার্ড এর মতানুসারে, তৎকালীন সময়ে বাঁকী মেও জনগোষ্ঠীর পক্ষেও তাদের জনজীবনে এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা সম্ভব হতনা যদিনা তাবলীগ জামাত আন্দোলনের উত্থান ঘটতো।
সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তাবলীগ জামাতের প্রাথমিক উদ্দেশ্য অত্যান্ত মহৎ এতে কোন দ্বীমত নেই।গোমরাহ দ্বিন না জানা না মানা লোক গুলোকে মসজীদ মুখি করে তাদের ওজু গোসল তালিম তরবিয়্যত দিয়ে কিছুটা হলেও নামাজমুখী করাটা অনেক ভালো কাজ। তাবলীগ জামায়াত যতদিন আলেমদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলো ততদিন সোজা পথেই ছিলো।যখনই বে এলেমদের হাতে নিয়ন্ত্রনের ভার পড়েছে তখন হতেই তাবলীগ জামাত গোমরাহীর পথে পা বাড়িয়েছে। কিছু মনস্তাত্বিক কারনে বেএলেমদের হাতে তাবলীগ জামাতের নিয়ন্ত্রন পড়েছে।
বে এলেদের হাতে তাবলীগের নিয়ন্ত্রনের প্রথম কারণ,আর্ন্তজাতিক চক্রান্তঃ
ভারতবর্ষের মেওয়াত এবং বিশ্বের বেশ কিছু স্থানে ধর্মীয় দুর্বলরতা থাকলেও বিশ্বের অধিকাংশ স্থানে কিন্ত ইসলামের জাগরনের চলছিল আর সময়ই তাবলীগ জামাতের উত্থানের যে উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তার অব্যাহত স্রোতধারা যদি গোটা বিশ্বে এভাবে আলেমদের দ্বারা চলতে থাকে তবে সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর ভয় জাগ্রত হবে,মানুষ এবাদত ও আল্লাহ মুখী হবে,খোদায়ী বিধান পালনের মধ্যে দুনিয়াতে শান্তি ও পরকালে মুক্তির লক্ষে দুনিয়াতে মানুষ আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার প্রতি ঝুকে পড়বে বিশ্বব্যপী ইসলামের বিপ্লব শুরু হয়ে যাবে,কাফের মুশরিক বজ্জাত মোনাফেকদের হাত হতে ক্ষমতার মসনদ হারিয়ে যাবে এবং শাসনভার আল্লাহ ওয়ালাদের হাতে ন্যাস্ত হয়ে যাবে।এর কারণ আলেমেরা মানুষকে কোরআন হাদিস হতে সরাসরি দরসের মাধ্যমে বোঝাচ্ছেন।সরাসরি কোরআন হাদিসের আলোচনার আকর্ষনের ভিতর আল্লাহ প্রদত্ত মোজেজা লুকায়িত আছে যা মানুষকে আকর্ষিত করে।কোরআন হাদিসের আলোচনার স্থানে যদি কিচ্ছা কাহিনী বর্ণনা করা হয় তবে মানুষ তাৎক্ষনিক শুনবে ঠিকই কিন্ত কোন আচর হবেনা।বিশ্বেরে তাগুত শক্তি তাবলীগ জামাতের এই উদ্দেশ্য আচ করতে পেরেই তারা তাদের লোকদেরকে ছদ্দবেশে তাবলীগ জামাতের ভিতর অনুপ্রবেশ করাই।তবে তাবলীগ জামাতের উদ্দেশ্য বুঝতে তাদের যে সময় লেগেছে এই সময়ের মধ্যে তাবলীগ জামাত জনবল সংগ্রহের দিকে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিলো।আর্ন্তজাতিক চক্রান্তের স্বীকারের ফলে তাবলীগ জামাতের ভিতর শুরু হলো মুখস্থ কিছু কথা বার্তার প্রচলন। ছয় উসুলের মুখস্থ ব্যাক্ষা শিখানো হলো অন্যভাবে।দিন দিন আলেমদের কোন ঠাসা করে জাহেলদেরকে শিক্ষার নামে মজলিসে বক্তব্য প্রদানের জন্য উৎসাহিত করে তাবলীগ জামাতের মূল উদ্দেশ্য হতে দূরে সরিয়ে আনা হচ্ছে।তাবলীগ জামাতের ভিতর এখন সকল নসিহত,উপদেশ,আলোচনা কথাবার্তা মাটির নীচের আর আসমানের উপরের।জমিনে কি হচ্ছে না হচ্ছে সে ব্যাপারে কোন কথা বলা যাবেনা।পুরা জাতির বৃহত্তর নামে মুসলমানেরা সুদ,ঘুস,জ্বিনা,ব্যভিচার,ধর্ষন লুট পাটে যেখানে নিমগ্ন সেখানে তাদের কথা ওগুলো দেশের আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনকারীরা দেখবে, ওদের ব্যপারে প্রচলিত তাবলীগের বেএলেম লোকদের কথা হলো মানুষ যত অপরাধই করুক একবার লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বললে তার সব গোনাহ মাফ হয়ে যাবে।আর্ন্তজাতিক চক্রান্ত এটাই তাদেরকে শিখিয়েছে।বিশ্বাসের সাথে কালেমা পাঠ করলে অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত দিবেন কিন্ত মানুষের হক্ব নষ্ট করলে শাস্তি কেমন হবে?অন্যান্য পাঁপ করলে কেমন শাস্তি হবে ?জান্নাত,ক্ষমা এগুলোর পাশাপাশি শাস্তির কথাও যে বলার দরকার সেগুলোর কোন খবর নেই।তাহক্বীক করে দেখা গেছে তাবলীগ জামাতের সাধারণ মানুষেরা আলেদের সংশ্রবে না থাকার কারণে তাবলীগ জামাতের মূল আকিদা সম্পর্কে জনসম্মুখে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কথাবার্তা প্রচার করে যেমন ইজতেমাতে গেলে কবুল হজ্জের সওয়াব,ইজতেমমার মাঠে নামাজ পড়লে উনপঞ্চাশ কোটি রাকাত নামাজ পড়ার সওয়াব,একবার ঢীলা কুলুপ করলে পনের পারা কোরআন খতমের সওয়াব।এটা ক্রুসেডের বিকল্প একটা মনস্তাত্বিক যুদ্ধ।এটা বৃটিশ ধর্মত্বত্ববীদদের একটা পরিকল্পনা,বিশ্বের ইহুদী, খৃষ্টান,মাজুসী এবং অন্যান্য ধর্মের ঐব্যবদ্ধ প্রচেষ্টা হচ্ছে ইসলাম ঠেকাও।এজন্য তারা অতিতে সম্মুখ সমরে মুসলমানদের ঈমানী শক্তির সম্মুখে টিকতে পারেনি।তারপর মুসলমানদের ঈমানকে নষ্ট করার জন্য তারা ইসলাম ধর্ম ত্বত্ত্বের উপর গবেষনা করে মুসলমানদের ভিতর জাল দলিল প্রবেশ করিয়ে ক্রুসেড যুদ্ধ শুরু করে।সেখানে তারা পরাজিত হলেও অনেক মুসলমানকে পথভ্রষ্ট করতে সক্ষম হয়।তাবলীগ জামাতকে ইসলামের মূল আক্বিদা এবং আলেম উলামাদের কোনঠাসা করে বেএলেমদের দ্বারা পরিচালনা করা তাদেরই ষড়যন্ত্রের একটা অংশ।
বে এলেদের হাতে তাবলীগের নিয়ন্ত্রনের দ্বিতীয় কারণ,অভ্যান্তরীন অজ্ঞতা ও ছদ্দবেশের আড়ালে অপরাধঃ
আর্ন্তজাতিক ভাবে যাই হোক বাংলাদেশে যারা তাবলীগ জামাত করে তাদের বৃহৎ একটা অংশ কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া বেশ ভালো জেনারেল শিক্ষিত।তাদের তো একথা বোঝা উচিৎ যে একজন আলেমের উপদেশ আর একজন সাধারণ মানুষের উপদেশ কি এক হতে পারে?প্রথমত তারা বক্তার লেবাস দেখে প্রথমে বুঝতে না পারলেও এক সময় কিন্ত বুঝতে পারে।যিনি আমির থাকেন তিনি কিন্ত বিষয়টা শতভাগই জানেন। জেনারেল শিক্ষিত যারা দ্বীনের ভিতর আসে তারা কিন্ত আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্যই আসে,কোন জিনিস তাদের মাথায় চেপে বসলো যে আলেমকে বসিয়ে রেখে বে এলেমকে দ্বারা বক্তব্য দেয়াতে হবে? মনে রাখতে হবে আলেমকে বসিয়ে রেখে জনগণকে যখন বে এলেম ব্যক্তির দ্বারা বক্তব্য দেয়ানো হয় তখন শয়তান খুশি হয়ে যায়,সে ভাবতে থাকে যাক কোরআন হাদিস ছাড়া নসিহত উম্মতকে আমার পথেই নিয়ে আসবে।বর্তমানে তাবলীগ জামাতের ভিতর এমনটি হবার একমাত্র কারন নিজেদের ভিতর ধর্মীয় অজ্ঞতা।আর একটা ছদ্দবেশের আড়ালে অপরাধ,এটা কেমন? দেখবেন সুদখোর,ঘুষখোর,লুটেরা পরের হক্ব নষ্টকারী,ব্লাকার যারা আছে তারা কিন্ত অত্যান্ত বিচক্ষন।তারা নিজেদের পাঁপ আর অপরাধকে আড়াল করে কাজ চালিয়ে যাবার জন্য তারা এখানে আশ্রয় নেয়। এই সংস্থার আমলের ছওয়াব আর পরকালীন নাজাত অল্প আমলে এত বেশি যে যত পাঁপই করুক একবার সুবহানাল্লাহ বললেই সব পাঁপ মোচন হয়ে যাবে এ ভাবনায় তারা এখানে আশ্রয় নেই।এখন একজন আলেম যখন নসিহত করবেন তখন সে তো বলবে যে একবার সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহু আকবার বললে আসমান জমিনের ভিতর যত খালী জায়গা আছে সব ছওয়াবে পরিপূর্ণ হবে সত্য কিন্ত এই সওয়াব সুদ খেলে ঘেুষ খেলে,চাঁদাবাজী করলে,টেন্ডারবাজী করলে,পরের হক্ব নষ্ট করলে কোন কাজে আসবেনা।এই বয়ান আলেম সাহেব যখন করবেন তখন এই অপরাধ পার্টির গায়েতো কাটার মত বিধবে।এই সমস্ত কারনে আলেমদেরকে আজ তাবলীগ জামাত হতে কোন ঠাসা করে রাখা হয়েছে।
বিভিন্ন ব্লগ ওস্যোসাল মিডিয়াতে তাবলীগ জামাত সম্পর্কে যে সমস্ত নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে তা হুবহু তুলে ধরা হলোঃ
১. মৌলভী ইলিয়াছ মেওয়াতীর আবিষ্কার করা তাবলীগ জামাত ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য পেত। যেমন জমিয়তে ওলামায়ে দেওবন্দ এর মহাসচিব মৌঃ হেফজুর রহমান সাহেব নিজেই স্বীকার করেছেন যে, “মৌলভী ইলিয়াসের তাবলীগী আন্দোলন প্রথমদিকে হুকুমতের (ব্রিটিশ সরকারের) পক্ষ থেকে হাজী রশীদ আহমদের মাধ্যমে কিছু টাকা পেত। পরে বন্ধ হয়ে গেছে। (মোকালামাতুস সাদারাইন, পৃষ্ঠা নং-৮ দেওবন্দ হতে প্রকাশিত, সূত্রঃ তাবলীগী জামাত, পৃষ্ঠা নং ৯৯)। আর এজন্যই ইলিয়াছ মেওয়াতী তার মালফুজাত ১৫৯ এ উল্লেখ করেন, “আমি রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা সরকারকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করে রেখেছে। সেজন্য আমি নিশ্চিন্তে নিজের কাজ (তাবলীগ) করতে পেরেছি।”
আমার মুল্যায়নঃ এখানে আমার মুল্যায়ন ইতিবাচক,ইসলামের খেদমতে আর্থিক সাহায্য যে কোন কৌশলে সরকারের পক্ষ হতে পাওয়া দোষের কিছু না।দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলরা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সরকারকে ব্যস্ত রেখেছে আর এর ফাঁকে তিনি ধর্মীয় দীক্ষা মানুষকে দিচ্ছেনে এটা ইসলামী শরীয়তে দোষের না।
২. ভারতে যখন হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা হল, তখন হাজার হাজার মুসলমানদের হিন্দুরা হত্যা করেছিল। এর প্রতিবাদ সব ইসলামী দলই করেছিল। একমাত্র তাবলীগী দল চুপ ছিল। এর পুরস্কারস্বরূপ তারা ইন্দ্রিরা গান্ধীর সময়েও তাদের তাবলীগী দাওয়াত চালানোর অনুমতি পায়, যখন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক অন্য সকল ইসলামী দলকে নিষিদ্ধ ও বাঁধা দেওয়া হয়।
আমার মুল্যায়নঃ এর দুটি কারণ হতে পারে,ক।তখনো তাবলীগ জামাতের ভিতর শক্ত ইমানের প্রতিবাদী লোক তৈরী হয়নি।
খ। ইসলামী রাজনৈতিক দল এবং হিন্দুরা যে সমস্ত মুসলমানকে হত্যা করেছে তাদেরকে মুসলমান হিসাবে না জানা।(এমন ভাবাপন্ন তাবলীগ নেতৃবৃন্দের অন্যায় ছিলো)
৩. ইলিয়াছ মেওয়াতী বলেন, “ইলিয়াছি তাবলীগ দুশমনকে খুশি করে এবং দোস্ত কে নাখোশ করে।” (দেখুন মালফুজাত নং ১৭৯)।
পাঠকগণ! গভীরভাবে খেয়াল করুন! ইলিয়াছ মেওয়াতীর কথায় স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তারা ইসলমী আকিদার বিরোধী। তা নাহলে দুশমনগণ কেন তাদের কাজে খুশি হবে? দোস্ত বা বন্ধু কেন নাখোশ বা বেজার হবে? যারা ইসলামের বন্ধু তারা কোনদিন ইসলামের কাজে নাখোশ হয় না। যারা ইসলামের শত্র“ কেবল তারাই অনৈসলামিক কাজে খুশি হয়। অতএব তাবলীগ জামাত যে ইসলামী আকিদার পরিপন্থী তা ইলিয়াছ মেওয়াতীর কথায় স্পষ্ট বোঝা যায়।
আমার মুল্যায়নঃ
এর দ্বারা মুসলমানদের সাথে শত্রুতামী বুঝাই না।এটা নিজেদের ভিতরের কথা,যেমন নিজেরা অনেক কষ্ট করে একটা মহল্লায় গিয়ে বেনামাজীদের সন্তুষ্ট করে এক প্যাকেট বিস্কুট কিনে দিল যাতে সে মসজীদে যায়,তিনি এটাই বুঝিয়েছেন।
৪. মৌলবী ইলিয়াছ মেওয়াতীর শ্যালক এবং প্রচলিত তাবলীগ জামাতের প্রধান কর্মকর্তা মাওলানা এহতেশামুল হাসান দেওবন্দী যিনি যৌবন কাল হতে বৃদ্ধাবস্থা পর্যন্ত প্রচলিত তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মৌলবী ইলিয়াছ মেওয়াতীর সাথে কাটিয়েছেন এবং তাঁর প্রধান খলিফা। তিনি (এহতেশামুল হাসান) তার লিখিত উর্দু কিতাব ‘যিন্দেগী কি সিরাতুল মুস্তাকিম’ এ বলেন- “বস্তি নিজাম উদ্দীনের বর্তমান তাবলীগ আমার জ্ঞান, বিবেক, কুরআন, হাদিস অনুযায়ী সঠিক নহে বরং মুজাদ্দিদ আলফেসানী (রহ.), হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (রহ.), মুহাদ্দিস দেহলবী (রহ.) ও হক্কানী আলেমগণের মত ও পথের খেলাফ। যে সমস্ত আলেমগণ এই তাবলীগে শরীক আছেন, তাদের দায়িত্ব এই যে, সর্ব প্রথম এই কার্যকে কুরআন হাদিস এবং অতীতকালের ইমাম ও হক্কানী আলেমগণের মত ও পথের সাথে সামঞ্জস্য করা। কেননা, ইহা দ্বীন ও তাবলীগের নামে একটি বিভ্রান্তিকর বিষয় প্রচার করছে। এই বিভ্রান্তিকর বিষয় প্রচারের কারণে সকল প্রকার বালা মুসিবত নাজিল হবার হেতু বলেও আমি মনে করি। তাই জনসাধারণকে সাবধান করতে এই বিষয় লিখতে বাধ্য হচ্ছি। তাবলীগ জামাতের ৬ উসুল ও তাদের আকিদা তথা কর্মকান্ড দেখে আমার কাছে দিনের আলোর মতই পরিস্কার যে, তারা বিদআতে সাইয়্যাহ (মন্দ বিদআত) এর মধ্যে ডুবে গেছে। কেননা এই তাবলীগের আন্দোলন কুরআন, হাদিস ও পূর্ববর্তী উলমাগণের মতামত ও দলিলের উপর ভিত্তি করে করা হয়নি। (সূত্রঃ যিন্দেগী কি সিরাতুল মুস্তাকিম)
আমার মুল্যায়নঃ অবস্থা দৃষ্টে ইহা সত্য হলেও কিছু খেদমত হচ্ছে।
৫. মাওলানা আব্দুর রহিম যিনি ১৩/১৪ বছর তাবলীগ জামাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তিনি ১৯৬৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী মাদরাসা দারুল উলুম নোমানিয়া তাওয়ালী, জেলাঃ মোজাফফরনগরে দেওবন্দ ও সাহারানপুরের খ্যাতনামা মুহাদ্দিস, মুফতি মুবাল্লেগ উলামায়ে কেরামগণের উপস্থিতিতে বলেছিলেন, “আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে, যে কাজ উলামায়ে কেরামের তা এমন এক শ্রেণীর লোক আঞ্জাম দিচ্ছে যারা দ্বীন সম্পর্কে কেবলমাত্র অজ্ঞই নয়, অধিকন্তু নিজেদের হীনতা, মূর্খতা ও অপকর্মের দরুণ সমাজের চোখে সমাদৃত নয়। কবির ভাষায়ঃ ‘যদি কোন জাতির পথ প্রদর্শক হয় কাক (মূর্খ লোক), তবে উহা তাদেরকে ধ্বংসের পথ প্রদর্শন করে।’’ তিনি বক্তৃতায় আরও বলেন, আমি খোদার শপথ করে বলছি যে, অনিচ্ছা সত্বেও ধর্মীয় প্রয়োজনে আমি তাবলীগ জামাতের সমালোচনা করছি। কেননা এ জামাতের নাবালেগ মুবাল্লোগগণ যখন জনসাধারণের মধ্যে ওয়াজ করতে আরম্ভ করে অথচ মূর্খদের জন্য ওয়াজ করার অনুমতি শরিয়তে নেই। তারা তাবলীগ জামাতের ফজিলত বয়ান করতে করতে সীমা অতিক্রম করে চলছে। চিন্তার বিষয়, সনদ ব্যতিত কোন ব্যক্তি কম্পাউন্ডার পর্যন্ত হতে পারে না। কিন্তু লোকেরা দ্বীনকে এত সহজ মনে করে নিয়েছে যে, যার ইচ্ছা হয় ওয়াজ করতে দাঁড়িয়ে যায়। তাই বলা যায় অনভিজ্ঞ ডাক্তার জীবনের জন্য বিপদ এবং নিম-মোল্লা (তাবলীগ জামাতের সদস্য) ঈমানের জন্য বিপদ। যে কাজ আলেমের, সে কাজের দায়িত্ব যদি অজ্ঞ লোকেরা গ্রহণ করে উহার গুরুতর পরিনাম সম্পর্কে নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন ‘যখন কাজের দায়িত্ব অপাত্রে ন্যস্ত হবে-তখন তোমরা কিয়ামতের জন্য অপেক্ষা করতে থাক।’ আপনারা অবগত আছেন যে, কৃষি কাজের অনভিজ্ঞ লোকের হাতে লাঙ্গল দিলে সে হালের বলদকে ক্ষত-বিক্ষত করে ছাড়বে। কামারকে ঘড়ি তৈরি করতে দিলে, উহার পরিণাম মারাত্মক হবে। তিনি বক্তৃতায় আরও বলেন, তাবলীগ আন্দোলন কোন দলিল ভিত্তিক নহে। হইাকে লইয়া কেউ যদি দলিল প্রমানের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়, তাকে অবশ্যই পরাজয় বরণ করতে হবে এবং তাবলীগ আন্দোলন বিফল সাব্যস্ত হবে। (‘উসুলে দাওয়াত ও তাবলীগ’ নামক উর্দু কিতাবের ৫০-৬০ পৃষ্ঠা দেখুন, তাবলীগ জামাত-১৫৬-১৬৯ পৃষ্ঠা দেখুন)
আমার মুল্যায়নঃ আমি এই মন্তবের সাথে একমত,বেএলেম মানুষ কখনো পথ প্রদর্শক বা আলেমের স্থলাভিসিক্ত হতে পারেনা।
তাবলীগের সাধারণ মানুষের দাবী তারা নবীঅলা কাজ করছে , অশিক্ষিত মূর্খ ব্যক্তিগণ তাবলীগের নামে দাওয়াত দিয়ে নবীওয়ালা কাজ করছেন তা সঠিক নয়, বরং নবীজির শানে চরম বেয়াদবী। নবীওয়ালা কাজ সকল উম্মত করতে পারে না। একমাত্র যারা নবীজির গুণে গুণান্বিত হতে পেরেছে, তারাই নবীওয়ালা কাজ করতে পারে। যেমন নবীজি (সা.) এরশাদ করেন ﺍﻻﻨۢﺒﻳﺎﺀ ﺔﺜﺮﻮ ﺀﻠﻤﺎﺍﻠﻌ ﻦﺍ (ইন্নাল উলামউ ওয়া রাসাতুল আম্বিয়া – আল হাদিস) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আলেমগণ হলো নবীর ওয়ারিশ।” এই হাদিস শরীফ হতে বোঝা যায় যে, নবীজির ওয়ারিশ সকলে নয়, একমাত্র আলেমগণ। হাদিস শরীফে আল্লাহর নবী আরও বলেন, ﺨﻳﺭﺍﻠﺧﻳﺎﺮ ﺨﻴﺎﺮﺍﻠﻌﻟﻤﺎﺀ ﻮﺸﺮ ﺍﻠﺸﺮﺍﺮ ﺷﺮﺍﺭ ﺍﻠﻌﻟﻤﺎﺀ (খায়রুল খিয়ারি খিয়ারুল উলামা ওয়াশাররুশ শিরারি শিরারুল উলামা – আল হাদিস) অর্থাৎ “ভালোর চেয়ে ভাল হলো আলেম এবং খারাপের চেয়ে খারাপ হলো আলেম।” এ হাদিস শরীফ হতে বোঝা যায় যে, আলেম দুই প্রকার। যথা উলামায়ে হক্কানী বা প্রকৃত আলেম এবং উলামায়ে ছু অর্থাৎ অসৎ আলেম। আর উলামায়ে হক্কানীগণ হলেন নবীজির ওয়ারিশ বা নায়েবে নবী। এই নায়েবে নবীগণই তাবলীগ বা নবীওয়ালা কাজ করার যোগ্যত রাখে, সাধারণ লোক নয়।
আমার মুল্যায়নঃ আমি একমত পোষন করি ,উপদেশ ও নসিহতের কাজটা আলেমরা করবেন আর তিনার সহচর বেএলেমরা পাশে পাশে থাকতে সমস্যা নেই বরং উপকার আছে।
জনাব আজমল সাহেব প্রচলিত তাবলীগ সম্পর্কে কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক কিছু আপত্তি করেছেন সেগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো।
আল্লাহ শিরক এর গুনাহ মাফ করেন না । (সূরা নিসা-৪:৪৮)
শিরক সম্বন্ধে মহানবী সাঃ কে বাদ দিয়ে ১৮ জন নবীর নাম উচ্চারণ করে বলেছেন, তারা যদি শিরক করতো আল্লাহর সাথে তাহলে তাদের আমলগুলো বরবাদ হয়ে যেতো । (সূরা আনআম-৮৮) এবার নবী মোহাম্মদ সাঃ কেই বলা হইছে, (হে নবী) যদি তুমি আল্লাহর সাথে শিরক করো তোমার আমলও বাতিল এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাবে । (সূরা যুমার-৬৫) নবীকেও ছাড় দেওয়া হয় নাই ।
সর্বশেষ যারা শিরক করে তাদের জন্য জান্নাত হারাম করে দেওয়া হইছে । (সূরা মায়িদাহ-৫:৭২)
ফাজাযেলে আমল পড়লে অনেক আমল শিখা যায় । কিন্তু যদি শিরকও করি আমলও করি । তাহলে সেই আমলের কোন মূল্য নাই আল্লাহর নিকট । সত্য সঠিক অল্প আমলই এনাফ । কারণ আল্লাহর নিকট এখলাসপূর্ণ শিরকমুক্ত ইবাদাতও গ্রহণযোগ্য । (সূরা যুমার-৩)
কি কি বিষয় তাবলীগ বা প্রচার করবো আমরা ?
আল্লাহ আমাদের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত নবীর উম্মত করেছেন এবং আমাদের জানিয়েছেন কি কি বিষয় তাবলীগ বা প্রচার করতে হবে ।
সূরা মায়িদাহ-৫:৬৭ হে রসূল, পৌছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে ।
এখানে যা অবতীর্ণ হয়েছে বলতে কোরআন ও সহীহ হাদিসকে বুঝানো হয়েছে পৃথিবীর সকল আলেমদের মতে ।
যদি নবী কোরআন বাদ দিয়ে অন্তর বা মনের বা খেয়ালখুশির অনুসরণ করতেন তাহলে কি হত ?
সূরা রা'দ-১৩ এমনিভাবেই আমি এ কোরআনকে আরবী ভাষায় নির্দেশরূপে অবতীর্ণ করেছি । যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন আপনার কাছে জ্ঞান পৌঁছার পর, তবে আল্লাহর (আজাব) কবল থেকে আপনার না কোন সাহায্যকারী আছে এবং না কোন রক্ষাকারী ।
হে মানুষ, চিন্তা করেন নবীকে কতবড় থ্রেট । যদি মনো বাসনা বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন তো আল্লাহর আজাব উনাকেও ঘিরে ধরবে ।
প্রচলিত তাবলিগ জামাআতের কিছু প্রমান পত্রঃ-
০১) আমরা মসজিদে জামাতে নামায পড়ার পর অর্থাৎ সালাম ফেরানোর পর বিভিন্ন ধরনের কায্যকলাপ করে থাকি । আমাদের ইবাদতের গুরুত্বের ক্রমানুসারে ঐগুলো কত নম্বরে পড়ে ? যেমন ফরজ, ওয়াজীব, সুন্নত, নফল ইত্যাদি । কোনটার গুরুত্ব বেশী ?
আরো সহজ ভাবে বলি- ফরজ নামাযের পর যারা তাবলিগ জামায়াত করেন তারাও উচ্চস্বরে কিতাবি তালিম আছে, ঈমান-আমল সম্বব্ধে আলচোনা হবে ইত্যাদি বলে থাকেন যা পরে আসা নামাযী ব্যক্তির নামাযে বিঘ্ন ঘটে ।
ফরজের ক্ষতি সাধন করে বা ফরজ আমল বিনষ্ট করে অন্য কোন আমল করা কুরআন হাদিসের কোন দলিল কেউ কি দেখাতে পারবে ?
০২) ফাজায়েল আমাল বইয়ের লেখক জনাব মাওলানা যাকারিয়া বইটির ভূমিকায় তাবলীগ জামাআতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াসকে লক্ষ করে লিখেছেনঃ
এত বড় বজুর্গের সন্তুষ্টি হাসিল করা আমার পরকালে নাজাতের উসীলা হইবে মনে করিয়া আমি উক্ত কাজে সচেষ্ট হই ।
সুপ্রিয় দ্বীনি ভাইগণ ! আমরা জানি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া কোন মানুষই কিয়ামতের দিন নাজাত পাবে না । তাই সকল এবাদত একমাত্র আল্লাহকে রাজী-খুশী করার জন্যই করতে হবে । এটি সকল প্রকার আমল কবুল হওয়ার মূল শর্ত । সুতরাং আল্লাহ ছাড়া অন্যকে খুশী করার জন্য আমল করা শির্ক । এতে কোন সন্দেহ নেই । আল্লাহ তাআলা বলনঃ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ
তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে । (সূরা বায়্যেনাহঃ ৫)
এখন তাবলীগি ভাইদের কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আপনারাই বলুন ফাযায়েলে আমাল বইয়ের ভূমিকার কথাটি যদি শির্ক না হয়, তাহলে এটি কোন পর্যায়ের কথা ? দয়া করে জানাবেন কি ?
০৩) “আবু আলি রোদবারি (রঃ) বলেন, ঈদের দিন একজন ফকির আসিয়া আমাকে বলিল যে এখানে কি কোন পরিস্কার জায়গা যেখানে একজন ফকির মরিতে পারে ? আমি ইহা বাজে কথা মনে করিয়া বলিলাম, ভিতরে এসে যেখানে এসে মর । সে ভিতরে আসিয়া ওযু করিয়া দুই রাকাত নামাজ পড়িল ও মারা গেল । আমি তাহার কাফন দাফনের ব্যবস্থা করার পরে দেখিবার জন্য কাফন হটাইয়া দেখিতেই সে চোখ খুলিয়া ফেলিল । আমি তাকে বলিলাম, মৃত্যুর পরেও জীবন ? সে বলিল আমি জীবিত ও আল্লাহর প্রত্যেক আশেকই জীবিত থাকেন । আমি তোমায় কাল কিয়ামতে স্বীয় প্রতিপত্তিতে সাহায্য করিব” । (ফাজায়েল সাদাকাত, ২য় খণ্ড, ২৮০ পৃষ্ঠা)
এখন দেখা যাক কুরআন কি বলে- আল্লাহ বলেন,
“কেউ জানেনা আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানেনা কোন স্থানে সে মৃত্যুবরন করবে ।” (সূরা লুকমানঃ ৩৪)
এই আয়াতের ব্যখ্যায় নবী (সঃ) বলেন, “এগুলো গায়িবের কথা এবং এগুলো আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেনা ।” (সহিহ বুখারি)
আল্লাহ বলেন, “মৃতকে তো তুমি (নবী) কথা শুনাতে পারবে না” । (সূরা নামলঃ ৮৪)
তাহলে কিভাবে ঐ ব্যক্তি মৃত ফকিরকে প্রশ্ন করল এবং সে শুনল ?
আল্লাহ বলেছেন, “জীবিত ও মৃত কখনো সমান না” । (সুরা আল ফাতিরঃ ২২)
অর্থাৎ, কিন্তু গল্পে জীবিত ও মৃত- উভয়েই কথা বলছে অর্থাৎ উভয়েই সমান ।
০৪) বিষয় বস্তু (সংক্ষেপে লিখে দিলাম)ঃ- নামাযের হেফাজত করিলে পাঁচটি পুরুষ্কার লাভ করিবে ।
অর্থঃ একটি হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি এহ্তেমামের সহিত ও গুরুত্ব সহকারে নামায আদায় করিবে আল্লাহ তায়ালা তাহাকে পাঁচ প্রকারে সম্মানিত করিবে ,
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নামাজে শৈথিল্য প্রদর্শন করে, আল্লাহ পাক তাহাকে পনের প্রকার শাস্তি প্রদান করিবেন ।( ফাযায়িলে আমলের ফাযায়িলে নামায ৩৬ পৃঃ বাংলা অনুবাদ ৪৫ পৃঃ)
আমাদের ছিয়া সিত্তা সহ বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে যত হাদিস সংকলিত হয়েছে তাতে জ্ঞানীরা বিভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষন করে বলেছেন- মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) হাদীছ যথা- ছহীহ ও হাসান এবং (মারদূদ) অগ্রহণযোগ্য হাদীছ যথা- যঈফ (দুর্বল) ও জাল (বানোয়াট) ।
আর যে হাদিস কোন হাদিস গ্রন্থে হুবহু পাওয়া যায় না জুড়াতালি দিয়ে মনগড়াভাবে লিখা হয় ঐ হাদিসটি কোন প্রকারের হতে পারে ??!!!
প্রশ্নঃ হদিসটি খুজে পাওয়া যাচ্ছে না । হাদিসটি কোন গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ দলিল সহ জানাবেন ? (প্রয়োজনে আপনার জ্ঞানীদের সাহায্যে)
০৫) সালাতের ফযীলত বর্ণনা করতে গিয়ে জনাব শায়খুল হাদীস সাহেব তার ফাযায়েলে আমালে লিখেছেন, উম্মে কলসুমের স্বামী আব্দুর রহমান অসুস্থ ছিলেন, একবার তিনি এমন অচেতন অবস্থায় পতিত হলেন যে, সকলেই তাকে মৃত বলে সাব্যস্ত করল, উম্মে কলসুম তাড়াতাড়ি নামাজে দাড়ালেন, নামাজ শেষ করা মাত্রই আব্দুর রহমান জ্ঞান লাভ করলেন, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমার অবস্থা কি মৃত্যুর অনরুপ হয়েছিল ? লোকজন বলল, জি হাঁ, তখন তিনি বললেন, আমি দেখলাম দু জন ফেরেশতা এসে বলল, চল আল্লাহর দরবারে তোমার ফয়সালা হবে, এই বলে তারা আমাকে নিয়ে যেতে উদ্যত হল, ইত্যবসরে তৃতীয় এক ফেরেশতা এসে তাদেরকে বাধা প্রদান করে বলল, তোমরা চলে যাও ইনি এমন এক ব্যাক্তি যিনি মাতৃগর্ভেই সৌভাগ্যবান বলে সাব্যস্ত হয়েছেন, তার সন্তান সন্ততিগণ আরও কিছুদিন তার কাছ থেকে অনুগ্রহ লাভের সুযোগ পাবে, তার পর তিনি আরো একমাস জীবিত ছিলেন (ফাযায়েলে নামাজ ৫৫)
মুহতারাম শায়েখ উক্ত ঘটনা উল্লেখ করার আগে বা পরে কোন রেফারেন্স উল্লেখ করেননি, জনাব শায়েখ উক্ত ঘটনার মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন, মানুষরাই শুধু ভুল করেনা বরং ফেরেশতা এবং আল্লাহ তায়ালাও ভুলের উদ্ধে নন, নাউযুবিল্লাহ, নইলে শায়খের দ্বারা এমন বর্ণনা কিভাবে লিখা সম্ভব হল যে, দুজন ফেরেশতা ঐ ব্যক্তির জান কবজ করার জন্য যখন উদ্যত হলেন তখন অপর ফেরেশতা এসে বাধা প্রধান করে তাকে মৃত্যু থেকে এক মাসের জন্য অব্যাহতি দিতে পারলেন, এ থেকে কি প্রমাণিত হয়না যে ,প্রথম দুজন ফেরেশতা ভুল করে এসেছিলেন তাহলে ব্যাপারটা কি আল্লাহ তায়ালার অগোচরেই ঘটেছিল, নাকি আল্লাহ তায়ালা প্রথমে ভুল করে পাঠিয়ে পরে সংশোধন করলেন অন্য ফেরেশতা দিয়ে, আর আজরাইল আ: ইবা ছিলেন কোথায়, মহান আল্লাহ তায়ালাও ভুলের উদ্ধে নন .এটাকি খৃষ্টানী আকিদার বীজ বপন নয়, সুপ্রিয় ভাইয়েরা : এ ব্যাপারে আপনাদের যথার্থ মন্তব্য দিয়ে সত্যান্বেষী মানুষকে সঠিক পথ দেখাবেন বলে আশা করি ।
০৬) ফাযায়িলে আমলের ফাযায়িলে রমাযান ২০ পৃঃ বাংলা অনুবাদ ৩০ পৃঃ দেখুন ।
প্রশ্নঃ ইফতারের দু’আটি কি হাদিসের মোতাবেক ? (দেখুন আবু দাউদ ১ম খন্ড ৩২২ পৃঃ; মারাসিলে আবু দাউদ ৮ম পৃঃ)
০৭) ফাযায়িলে আমলের ফাযায়িলে যিক্র ৩৬ পৃ বাংলা অনুবাদ ৫০ পৃঃ দেখুন ।
অর্থঃ রাছুলুল্লাহ (ছঃ) এরশাদ করেন, যদি কাহারও নিকট অনেক অনেক টাকা থাকে এবং সে উহা আল্লাহর রাস্তায় দান করে আর অপর এক ব্যক্তি শুধু আল্লাহর জিকির করিতে থাকে তবে জিকিরকারীই উত্তম ।
প্রশ্নঃ উক্ত হাদিসটি কি কুরআন ও সহীহ হাদিস বিরোধী নয় ?
দেখুন সুরা তাওবা আয়াত ২০ -ঃ যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে; নিজেদের মাল ও জান দিয়ে জেহাদ করেছে; তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে আর তারাই সফলকাম ।
নবী প্রেমের বিভিন্ন কাহিনী শিরোনামে একটি অধ্যায় । যেখানে আল্লাহ বলেছেন কোরআন ও সহীহ হাদিস তাবলীগ করতে সেখানে তাবলীগ করা হইতেছে নবী প্রেমের কাহিনী । দেখেন কোন শিরক আছে কি না ?
০৮) শায়েখ আবুল খায়ের বলেন, একবার মদীনা মোনাওয়ারায় হাজির হইয়া পাঁচ দিন পর্যন্ত আমাকে উপবাস থাকতে হয় । খাওয়ার জন্য কিছুই না পেয়ে অবশেষে আমি হুজুর এবং শায়ইখানের কবরের মধ্যে সালাম পড়িয়া আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল । আমি আজ রাতে আপনার মেহমান হবো ।
এই কথা আরজ করে মিম্বর শরীফের নিকট গিয়ে আমি শুইয়া পড়লাম । স্বপ্নে দেখি, হুজুরে পাক (সাঃ) তাশরীফ এনেছেন । ডানে হযরত আবু বকর, বাম দিকে হজরত ওমর এবং সামনে হজরত আলী রাঃ । হযরত আলী রাঃ আমাকে ডেকে বলেন, এই দেখ, হুজুর সাঃ তাশরীফ এনেছেন । আমি উঠা মাত্রই মহানবী সাঃ আমাকে একটা রুটি দিলেন, আমি অর্ধেক খেয়ে ফেলি
তারপর যখন আমার চোখ খুলিল তখন আমার হাতে বাকী অর্ধেক ছিল (রুটি অবশিষ্টাংশ) । সূত্রঃ ফাজায়েলে হজ্জ্ব-২৫৬ পৃষ্ঠা ।
সম্মানিত মুসলিম ভাইগণ ! আল্লাহকে ছেড়ে মৃতু্র পর নবীর রওজায় গিয়ে খাদ্যের প্রার্থনা করা স্পষ্ট শিরক নয় কি ?
মৃতুর পর নবী কবরে থেকেও খাওয়াতে পারেন এ আক্বিদাহ পোষন করা শিরক নয় কি ? এই রকম শিরকী আকিদাহ কি মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়, নাকি জাহান্নামের দিকে ?
অথচ মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর । (সূরা হুদ-৬)
০৯) বিখ্যাত সূফী (?) ও বুজুর্গ হজরত শায়খ আহমদ রেফয়ী (রঃ) ৫৫৫ হিজরী সনে হজ্জ সমাপন করিয়া নবীজির রওজা জিয়ারতের জন্য মদিনায় হাজির হন । সেখানে তিনি নিম্নোক্ত রওজার সামনে দাঁড়াইয়া নিম্নোক্ত দুটি বয়াত পড়েন ।
"দূরে থাকা অবস্থায় আমি আমার রুহকে হুজুর সাঃ এর খেদমতে পাঠাইয়া দিতাম । সে (রুহ) আমার নায়েব হইয়া আস্তানা শরীফে চুম্বন করিত । আজ আমি শ্বশরীরে দরবারে হাজির হইয়াছি । কাজেই হুজুর আপন হস্ত বাড়াইয়া দেন যেন আমার ঠোট উহাকে চুম্বন করিয়া তৃপ্তি হাসিল করে । বয়াত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে (??) কবর হইতে হাত মোবারক বাহির হইয়া আসে এবং হযরত রেফায়ী উহাকে চুম্বন করিয়া তৃপ্তি হাসিল করেন । বলা হয় যে, সে সময় মসজিদে নববীতে ৯০ হাজার লোকের সমাগম ছিল । সকলেই বিদ্যুতের মতো হাত মোবারকের চমক দেখিতে পায় । তাহাদের মধ্যে মাহবুবে ছোবহানী আব্দুল কাদের জিলানীও ছিলেন । সূত্র: ফাজায়েলে হজ্জ-২৫৮ পৃষ্ঠা ২৩ তম নবী প্রেমের কাহিনী ।
নবীজি সাঃ কখনো আবু বকর (রাঃ) ওমর (রাঃ), ওসমান (রাঃ), আলী (রাঃ) এর জন্য হাত বাড়ালেন না । কখনো নবী পরবর্তী এত যুদ্ধ হাঙ্গামার সময় হাত বাড়ালেন না । আর কোন জায়গার কোন রেফায়ীর জন্য কবর থেকে হাত বাড়ান । আবার দেখেন রুহকে ইমেইলের মতো সেন্ড করে, প্রতিবারই নবীজি সাঃ কবর থেকে চুমা দেন ।
এই সব কাহিনী একমাত্র সূফীদেরই হয়ে থাকে যেমন দেওয়ানবাগীর ১৯৯৮ সালের সম্মেলনে নাকি স্বয়ং আল্লাহ ও রাসূল সাঃ দেওয়ান শরীফে এসেছেন । নাউজুবিল্লাহ ।
বুখারীর প্রথমে দিকের সহীহ হাদিস, যে নবীর নামে মিথ্যারোপ করে সে জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয় ।
১০) জনৈক বেদুঈন হুজুর (ছঃ) এর কবর শরীফের নিকট দাড়াইয়া আরজ করিল,
হে রব ! তুমি গোলাম আজাদ করার হুকুম করেছো । ইনি (নবী সাঃ) তোমার মাহবুব, আমি তোমার গোলাম । আপন মাহবুবের কবরের উপর আমি গোলামকে (জাহান্নামের) আগুন হইতে আজাদ করিয়া দাও । গায়েব হইতে আওয়াজ আসিল, তুমি একা নিজের জন্য কেন আজাদী (ক্ষমা) চাহিলে ? সমস্ত মানুষের জন্য কেন আজাদী চাহিলে না । আমি তোমাকে আগুন হইতে আজাদ করিয়া দিলাম । (সূত্র: ফাজায়েলে হজ্জ্ব-২৫৪ পৃষ্টার ১ম কাহিনী)
সম্মানিত জ্ঞানী মুসলিম ভাইগণ, রাসুলের মৃত্যুর পর তার মাজারে গিয়ে প্রার্থনা করা মাজার পূজারীদের সাদৃশ্য নয় কি ?
গায়েবী আওয়াজ শুনা তো নবুওয়াতের কাজ । ঐ বেদুঈন কি নবী ছিল যে গায়েবী আওয়াজ এলো " আমি তোমাদের আগুন থেকে আজাদ করিয়া দিলাম" ।কোরআন থেকে আমরা জানতে পারি আল্লাহ শুধু মাত্র মুসা আঃ এর সাথে দুনিয়ায় জীবনে কথা বলতেন । এবং অন্য আয়াতে আছে মানুষের এমন কোন যোগ্যতা নাই যে সে আল্লাহর সাথে কথা বলবে । কিন্তু তাবলীগি নিসাব পড়লে বুঝা যায় আল্লাহ গায়েবীভাবে মানুষের সাথেও কথা বলেন ।
আমরা মুসলিমরা বিশ্বাস করি না আল্লাহ নবীর পরে আমাদের সাথে কথা বলবেন । এই আক্বিদাহ একমাত্র দেওয়ানবাগী, সুরেশ্বরী, পীরগণ ও সূফীবাদিরাই রাখতে পারেন । কারণ তাদের হজ্জ করা লাগে না । কাবা এবং স্বয়ং আল্লাহ ও রাসুল তাদের বাসায় আসেন । নাউজুবিল্লাহ ।
১১) শায়েখ ইব্রাহিম এবনে শায়বান (রঃ) বলেন, আমি হজ্বের পর মদিনা পাকে পৌছাইয়া কবর শরীফে হাজির হইয়া হুজুর পাক সাঃ এর খেদমতে ছালাম আরজ করিলাম । উত্তরে হুজরা শরীফ হইতে ওয়ালাইকুমুস্সালাম শুনিতে পাই । সূত্রঃ ফাজায়েলে হজ্ব-পৃষ্ঠা-২৫৫ (৫ নং কাহিনী)
এই কাহিনী দিয়া এটাই বুঝাইতে চায় যে ইব্রাহিম এবনে শায়বান আল্লাহর অলী ছিল । তিনি পরকালে চলে গেছেন । অতএব এখন তোমাদের সামনে যারা আছে অর্থাৎ পীরগণ তাহাদের খেদমত কর । তাদের পুজা কর, সিজদা কর, ইবাদাতের না, সম্মানের সিজদাহ ।
১২) আল্লামা কাস্তালানী (রঃ) বলেন, আমি একবার এমন কঠিন রোগে আক্রান্ত হই যে, ডাক্তারগণ পর্যন্ত নিরাশ হইয়া যায় । অবশেষে আমি মক্কা শরীফ অবস্থানকালে হুজুর সাঃ এর উছিলায় দোয়া করিলাম । রাত্রি বেলায় আমি স্বপ্নে দেখি, এক ব্যক্তির হাতে একটি কাগজের টুকরা, তাহাতে লেখা রহিয়াছে, ইহা আহমাদ বিন কাস্তালানীর জন্য ওষুধ । হুজুরে পাক (সাঃ) এর তরফ থেকে তাহার নির্দেশে (?) ইহা দান করা হইয়াছে । আমি ঘুম হইতে জাগ্রত হইয়া দেখি আমার মধ্যে রোগের কোন চিহ্ন নাই ।
সূত্রঃ ফাজায়েলে হজ্জ্ব-২৫৫ পৃষ্ঠা (৬ নং কাহিনী)
মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম আঃ অসুস্থ হলে কি করেছিলেন আল্লাহ তায়ালা তা কুরআনে বর্ণনা করেন ।
আমি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন আল্লাহই আমাকে আরোগ্য দান করেন । (আশ শুয়ারা-৮০)
আইয়ুব আঃ অসুস্থ হয়ে প্রার্থনা করেনঃ "আর স্মরণ কর আইয়ুবের কথা যখন সে তার প্রতিপালকের আহ্বান করে বলেছিল, আমি দুঃখ কষ্টে পড়েছি, আর আপনি দয়াবানদের চেয়েও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবাদ । (সূরা আল আম্বিয়া-৮৩)
আল্লাহ তাদের আরোগ্যতা দান করেছিলেন । আর এই কাহিনী বলে নবীজির নির্দেশে এই ওষুধ । তাহলে আল্লাহ কই ?
বিশ্বনবী সাঃ যখন কোন অসুস্থ লোককে দেখতে যেতেন তখন এই দুয়া পাঠ করতেনঃ"হে মানবমন্ডলীর প্রতিপালক ! এই রোগ দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন । একমাত্র আপনিই আরোগ্য দানকারী । আপনার শিফা ব্যতিত আর কোন শিফা নেই । আপনার শিফা এমন যে কোন রোগকে ছাড়ে না । (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম মিশকাত হাঃ ১৫৩০, মুসলিমের দোয়া পৃঃ ১৩৪)
মৃত্যর পরও নবী সাঃ ডাক্তারী করেন, রোগী আরোগ্য করেন, স্বপ্নযোগে ফি ছাড়া ওষুধ পাঠান, এমন আক্বিদাহ কি মুসলিমরা রাখতে পারে ?
১৩) ছাবেত বিন আহমদ বলেন, তিনি একজন মোয়াজ্জেনকে মসজিদে নব্বীতে আজান দিতে দেখিয়াছিলেন । মোয়াজ্জেন যখন আচ্ছালাতু খায়রুম মিন্নাওম বলিল, তখন এক খাদেম আসিয়া তাঁহাকে একটি থাপ্পড় মারিল । মোয়াজ্জেন কাঁদিয়া উঠিয়া আরজ করিল, ইয়া রাসুলুল্লাহ, আপনার উপস্থিতিতে আমার সাথে এইরূপ হইতেছে ? (মানে বিচার দিল) সঙ্গে সঙ্গে সেই খাদেমের শরীর অবশ হইয়া গেল । লোকজন তাহাকে উঠাইয়া ঘরে লইয়া গেল এবং তিন দিন পর সে মরিয়া গেল ।(ফাজায়েলে হজ্জ্ব ২৬২পৃ)
যখন নবীকে এ্যাড করা হইছে তখনই আমাদের মুসলিমদের সমস্যায় পরিণত হইছে । কারণ নবীর নামে মিথ্যা বলা বা বানিয়ে অবাস্তব কাহিনী বলা, কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কাহিনী বর্ণনা করা, আক্বিদা বিনষ্টকারী কাহিনী প্রচার করা মুসলিমরা কখনো মেনে নেয় না । এই কাহিনী নিশ্চিতভাবে কবরপূজারী, মাজারপূজারীদের কর্মকান্ডকে সমর্থন করে । এই কাহিনী নিশ্চিতভাবেই মুসলিমদের কবর পুজায় উৎসাহিত করে ।
হাদিসে এসেছে
: ৪৫৮৪) আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে করিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, হ্যাঁ এখন তোমরা কবর জিয়ারত করবে । কারণ কবর (১) জিয়ারত হৃদয়কে কোমল করে, (২) নয়নকে অশ্রু সিক্ত করে ও (৩) পরকালকে স্মরণ করিয়ে দেয় । তবে তোমরা শোক ও বেদনা প্রকাশ করতে সেখানে কিছু বলবে না । (সহিহুল জামে, হাদিস নং ৪৫৮৪)
নবী যেখানে বলছেন বেদনা প্রকাশ করতে কিছু বলবে না, সেখানে মহিলা গিয়ে বিচার দেয়, শরীর অবশ হয়, মারা যায় । চিন্তা করেন । এই কাহিনীরে কোন ক্যাটাগরিতে ফালামু বুঝতে পারছি না ।
১৪) ইউসুফ বিন আলী বলেন, জনৈক হাশেমী মেয়েলোক মাদীনায় বাস করিত । তাহার কয়েকজন খাদেম তাহাকে বড় কষ্ট দিত । সে হুজুরের দরবারে ফরিয়াদ লইয়া হাজির হইল (বিচার চাইতে হাজির) । রওজা শরীফ হইতে আওয়াজ আসিল, তোমার মধ্যে কি আমার আদর্শের প্রতি আনুগত্যের আগ্রহ নাই । তুমি ছবর কর যেমন আমি ছবর করিয়াছিলাম । মেয়েলোকটি বলেন, এই সান্তনাবাণী শুনিয়া আমার যাবতীয় দুঃখ মুছিয়া গেল । ঐদিকে বদ আখলাক খাদেমগুলো মরিয়া গেল ।
(ফাজায়েলে হজ্জ্ব-২৫৯ পৃ)
সম্মানিত মুসলিম ভাইয়েরা ! উল্লেখিত ঘটনাদ্বয় পড়ুন আর একটু ভেবে দেখুন, নাবী সাঃ ক্ববরে থেকেও মানুষের মুসিবত দূর করেন এবং বেয়াদবীর কারণে মানুষ মেরেও ফেলেন । জীবদ্দশায় নবী সাঃ কাফিরদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেন, দাঁত শহীদ হল, মাথায় হেলমেট ঢুকে গেল । তখনতো নবী সাঃ এভাবে কাফিরদের মেরে ফেলতে পারতেন । কিন্তু তাতো করলেন না । কিন্তু মরার পরে এ জাতীয় ক্ষমতায় বিশ্বাস তো মাজার ভক্তরা করে থাকে । যা বিবেকেরও পরিপন্থী । যার সাধারণ জ্ঞান আছে সেও কি এ জাতীয় বিশ্বাস করতে পারে ?
সাহাবারা কখনো কবর থেকে বিপদের ফায়সালা পেল না, আর সাধারণ খাদেম রা গিয়ে বিপদের কথা বললেই শুধু গায়েবী আওয়াজ আসে । এই ধরণের আক্বিদাহ একমাত্র সূফীবাদীদেরই হয়ে থাকে । এমদাদউল্ল্যাহ মক্কী, রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী সহ উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ মোটামুটি সবাই ছিলেন সূফীবাদী । তাই তাদেরও দোষ দেওয়া যায় না । কারণ সূফীরা মিথ্যা বলে না, মিথ্যা অটোমেটিক তাদের মুখ দিয়ে বের হয় ।
মাত্র একটা উত্তর দেন, বিপদ থেকে উদ্ধারকারী নবী সাঃ না আল্লাহ ?
সূরা ফাতিহা-৪ নং আয়াতে আমরা বলি, আমরা তোমারই ইবাদাত করি, তোমারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি ।
কিন্তু এখানে কবরবাসীর নিকট সাহায্য চাওয়া হচ্ছে । অদৃশ্য বা গায়েবের নিকট কিছু চাইতে হলে সেটা একমাত্র আল্লাহর নিকটই চাইতে হবে । হ্যা এমনে পৃথিবীতে আমরা জীবিত মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে পারি । কিন্তু গায়েবী ভাবে সাহায্য একমাত্র আল্লাহর নিকটই চাইতে হবে । আরো পড়ুন সূরা বাকারাহ-১৬০, আনআম-১৭-১৮, আরাফ-৩৭, ১২৮, ১৯৭ ।
আল্লাহকে বাদ দিয়ে নবীকে বিপদ থেকে রক্ষাকারী, গায়েবী সাহায্যকারী হিসেবে নির্ধারণ করা কি শিরক ? নাকি সওয়াব ?
১৫) শায়েখ আহমেদ বলেন, আমি তের মাস পর্যন্ত ময়দানে, জঙ্গলে ঘুরিতে ফিরিতে থাকি । উহাতে আমার চামড়া পর্যন্ত খসিয়া যায় । অবশেষে হুজুর ও শায়খাইনের খেদমতে সালাম করিতে যাই । রাত্রি বেলায় স্বপ্নে হুজুর সাঃ আমাকে বলেন, আহমদ তুমি আসিয়াছ ? আমি বলিলাম, হুজুর আমি আসিয়াছি । আমি বড় ক্ষুদার্ত, আমি হুজুরের মেহমান । হুজুর বলিলেন, দুই হাত খুল । আমি দুই হাত খুলিলে দেরহাম দিয়া দুইহাত ভরিয়া দিলেন । জাগ্রত হইয়া দেখি আমার হাত দেরহাম দিয়া ভর্তি । আমি উহা দ্বারা কিছু খাইয়া আবার জঙ্গলে ফিরিয়া আসিলাম ।ফাযায়েলে হজ্জ-২৬২ পৃঃ
ভাইয়েরা, উপরোল্লিখিত ঘটনা কি এ শিক্ষা দেয় । শিক্ষা দেয় সব জায়গা থেকে ফিরিয়া গেলেও অলী আল্লাহগণের কবর থেকে ফিরার চান্স চাই । শায়খ আহমদ কাজ কাম না কইরা জঙ্গলে জঙ্গলে মোরাকাবা করে ঘুরে বেড়াইছে । পরে নবীর কবরে যেয়ে দেরহাম নিয়া আসছে । তাহলে যারা বলে নিচের কথাগুলো তাদের কি দোষ,
কেউ ফিরে না খালি হাতে, খাজার বাবার দরবার হতে
আল্লাহর ধন রাসূলকে দিয়ে, আল্লাহ গেছেন খালি হয়ে
ভাগ্যভাল নবীর সময় ফ্লেক্সীলোড ছিল না । থাকলে এটা নিয়াও কাহিনী শুরু করত যে নবী তার মোবাইলে ৫০০ রিচার্জ করছে, হের মোবাইলে ১০০০ রিচার্জ করছে ।
রাসুল বলেছেন, “নেতা, উপনেতা বা দাম্ভিক ধোঁকাবাজ লোক ছাড়া আর কেউ কিচ্ছা কাহিনী বর্ণনা করেনা” । (আবু দাউদঃ ৩৬২৪)
প্রচলিত তাবলীগ জামাতের সংশোধনী দিক নির্দেশনা সমুহঃ
সত্যিকার অর্থে তাবলীগ জামাতের প্রতি এবং ইসলামের প্রতি যদি মহব্বত থেকেই থাকে তবে তাবলীগের অনুসারীদেরকে নিম্নোক্ত বিষয় সমুহকে অবশ্যই আমলে নিতে হবে।
১।তাবলীগ জামাতের যে কোন ছোট দলের আমির যিনি হবেন তিনাকে অবশ্যই আলেম হতে হবে।উক্ত আলেম নিজের দলে থাকা তাবলীগ জামাতের পুরাতন মুরুব্বীদের সম্মান করবেন।
২।এলান সাধারণ মানুষ দ্বারা দিলেও বক্তব্য অবশ্যই আলেম যিনি আছেন তিনি প্রদান করবেন,দলে যদি আলেম না পাওয়া যায় তবে যে মসজীদে জামাত যাবে ঐ মসজীদের ইমামের নিকট অবশ্যই বলতে হবে যে ,আমরা দ্বীন শিখতে এসেছি,আমাদেরকে সময় দিন।আলেম চাইলে আলেমের অভাব হবেনা,নিয়্যত ছহী থাকলে আলেম পাওয়া যাবে।
৩।বক্তব্য অবশ্যই কোরআন এবং ছহীহ হাদিস দ্বারা দিতে হবে,কোরআন ও হাদিসের ব্যাক্ষা বুঝাতে উদারহণ দেয়া যেতে পারে তবে কোরআন হাদিসের জানা কিচ্ছা ব্যতিত অন্য কিচ্ছা কাহিনী হতে বিরত থাকতে হবে।
৪।আলেমদের জন্য ৪চিল্লার বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত করে তাদের প্রতি সহনশীল হতে হবে,মাকাসেদ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি হয় তবে আলেমদের কাছে দ্বীন শিক্ষা হলেইতো হইল তাদের উপর বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেবার কোন সঙ্গত যুক্তি নাই।
৫।যে এলাকায় তাবলীগ জামাত যাবে চেষ্টা করতে হবে তাবু,বিভোক নিয়ে মসজীদের বাহিরে থাকার ,নিহায়েত যদি মসজিদের আসেপাশে জায়গা না থাকে তবে অত্যান্ত আদবের সাথে ইতিকাফের নিয়্যতে মসজীদে থাকবে,খাবার দাবার সাবধানে খাবে,আসার সময় মসজীদের বিদ্যুত বিলের টাকা এবং টয়লেট বাথরুমের পরিচ্ছন্নতার বিল অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে ।
৬।

Comments
Post a Comment