হান্নান নির্বাচিত কবিতাবলী

অবশেষে

হান্নান
ভ্রমের মহা ভাবনায় ক্লেদাক্ত নতশীর
অতিত অন্ধ ভ্রম আবেগ, ঝরায় আঁখি নীর
গুটি গুটি নব উঠন্ত লোম বয়সের আবেশে
অন্ধ ভ্রমে পড়েছিনু যত নফসের খাহেশে
রাজারে বানিয়ে প্রজা চলেছি এ জিন্দেগী
জীবন ভরে করেছি আমি তাগুতের বন্দেগী
পৌঢ়ের শুভ্রলোম আর স্নায়ুর ক্লান্তি
খুলিল রঙ্গিন চশমা কাটিল মহাভ্রান্তি
ক্লেদাক্ত অস্থিজোড় আজ দিচ্ছে মোরে ডাক ।
তুমি থামো তুমি থামো দিয়োনা মোরে হাক।
কিশোরের কলতান যৌবনের মহাগান সবই আজ স্মৃতি
অলখ্খে ডাকিয়া কহেমোরে আসছে এপারের ইতি
নিদ্রাতে গুজরাইল র্অ্ধ জীবন
এখন সামনে দেখি শধুই মরন।
কোথায় আমার বন্ধু বান্ধব কোথায় আপনজন?
সবার চোখে কেমন যেন আমি বিয়োজন
বুকের শ্লেষ্মা মুখের কাশি আর থু থু
সবার কাছে আমি ঘৃনার এক হু হু
ভঙ্গ দাঁতের চর্বনে সৃষ্ট ফেলি যখন পিক ।
নাক শিটকায়ে অতি আপনও দেই তখন ধিক
দিশিবিসি না পেয়ে যায় বাশের মাচাঙে
যুবক কিশোরেরা কথাবলে কত বঙে চঙে।
কোথাও হয়না মোর একটু যেন ঠায়
তিন পায়ে মসজীদে যায়।

ব্যর্থ লেখা

হান্নান

তুমি কার বিরুদ্ধে লিখবে বিদ্রোহী কবিতা
শেষ করতেপারবেনা তোমার রচনার পাতা
মানবের সাথে মানবের হয় বিদ্রহীতা
দানবের সাথে মানবের হয় হিংস্রতা
দুপায়ের আকৃতি হলেই হয়না মানব,
শুধু পশু বেশেই থাকলে হয়না দানব
বিংশ শতাব্দীর পরের মানব মেলা
এ যেন এক হিংস্র হায়নার শিকারধরা খেলা
এরা উন্মত্ত নিজ স্বার্থের বিভরে
আদব শিষ্টাচার নাই তাদের তরে
তুমি কী বলবে আর কী লিখবে তাদের নিয়ে,
তোমার লেখা শুধু লেখায় থাকবে
যাবে ওরা বেদনা দিয়ে
পৃথিবী বাসীর জন্যে এ এক বেদনা দায়ক নৈরাশ্য
অকালকুমান্ডে হারালো কত নব ফুল
তাও ভাঙ্গলনা ওদের খেয়ালে

মুক্তিদাও

হান্নান

আর কত ত্রাস খুন গুমের রাজনীতি করবে ?
আর কত মায়ের কোল তোমরা খালী করবে ?
মায়ের আর্তনাদে আকাশ ভারী হয়ে আসছে,
গজবের গর্জ্ন যেন মোদের পাছে।
মাতোয়ারা হয়ে তবু কি করবে উল্লাস ?
মনে রেখো এটা ক্ষনিকের বিধাতা অবকাশ।
যখনি পৌছাবে পাঁপের প্রান্ত সীমায়,
বিনা কারণেই তখন হয়ে যাবে লয়।
আর রক্তে রন্জিত করোনা রাজ পথ,
এখন একটু ধরো মানব মুক্তির রথ।
রাজনীতির অন্তরালে চলছে যেন বিশ্বব্যাপি মেলা,
অস্ত্র ব্যাবসার নামে চলছে মানব মারা খেলা।
আমি কেমনে বাঁচাবো বিংশ শতাব্দীর সোনামণিদের?
কোন ভাষায় বোঝাব রাজনীতির ধ্বজাধারীদের।
কে বাঁচাবে আমার নব প্রজন্মের গোলাপ কুড়ীদের ?
কে রক্ষা করবে নির্যাতিত নিপিড়িত নারীদের ?
আর শুনতে চায়না মোরা অস্ত্রের ঝনঝনানী,
বানাতে চাই বিশ্বব্যাপি শান্তির কলোনী।
অশান্তি ছেড়ে শান্তির পথে সকলে ফিরে যাও,
ধ্বংসের পথ হতে দুনিয়া বাসীকে মুক্তি দাও।

ফেরাউন

হান্নান

মিশর দেশে ছিল এক বড় নাফার মান
গোরস্থানের দারগা তাই বড় অতিমান
গোরস্থানে মুর্দ‍া গেলে তবেই কড়ি পাই
সেই কড়িতে কোন মতে সংসার চালায়
এক মড়কে লাখে লাখে মানুষ ম্যোলো ভাই
দারোগার এবার আর খুশির সীমা নাই
রেট বাড়ালো মুর্দা নিল
কোটি টাকার মালিক হলো
রাজার হাতে হাত মিলালো
উজিরের ভার বুঝে নিল
কদিন পরেই রাজা মলো
দারোগা এবার ফেরাউন হলো
ফেরাউনের কারবার বুঝা অতি ভার
কদিন পরে করলো দেখি খোদা দাবীদার
ঐ যামানায় ছিল আবার মুসা অবতার
নির্দেশ নামা দিলেন প্রভূ মুসারে
অতিব ত্বরা যাও ফেরাউন দরবারে
শতবার বুঝায়েও বুঝ মানেনা
নিজেকে ছাড়া কারো খোদা মানেনা
বিদ্রোহ করলো সে মুসার সাথে
আবশেষে ডুবে মলো নীল দরিয়াতে

বিজ্ঞের প্রতি আহবান

হান্নান

হে বিশ্ব বিজ্ঞানে পৌঢ় পর্ব্ত সম জ্ঞনীরা
একটু মস্তক উঠায়ে নেত্র ঘুরাও বিশ্ব ধরনীতে
দেখবে এ ভূবন ছেয়েছে রাক্ষশ পুরিতে
মানবের খুন নিয়ে চলছে যেন তমাশার এক খেলা
নিঃশেষ হতে চলেছে হে ‘¡নী আর নাই যে বেলা
তবে কি শেষ হয়ে যাবে মানবতার পদচিন্হ
ফিরে কি আসবেনা আর শান্তির মধ্যাহ্ন
বিশ্ব ব্যাপি চলছে মানবতার নির্ম্ম পরিহাস
নির্যাতন আর নিপিড়নের যেন এক কালো ইতিহাস
তোমাদের একটু পরিকল্পনা আর নিঃস্বার্থ্ই এখন সম্বল
একটু করুন হও মানবতার প্রতি দেখাইওনা আর বাহুবল
শান্তির নামে যে সংঘ করেছ একটু রাখ তার মান
বড়রা করোনা ছোটদের প্রতি ব্যাঘ্রের অভিমান
ওরা কোথায় যাবে এ ছোট্ট পৃথিবী ছেড়ে
আর নিওনা তোমরা ওদের জীবন কেড়ে
তোমরা জাতীর হোতা নেতা সবাই মানে তোমাদের কথা
তোমরা একটু বলেদাও আর দিওনা মানবকে ব্যাথা
হারানো ব্যাথায় শত কোটি মায়ের ঝরছে আখি নীর
কেউবা হচ্ছে কোর বানীর গরু কেউবা বলছে আমি বীর
হে বি‘ শান্তির পথিকৃৎ হয়ে এগিয়ে আসো
জঞ্জাল মুক্ত করার প্রয়াসে ধরনীকে ভালবাস
শান্তির পয়গাম তুলে ধরো বিশ্বের দ্বারে দ্বারে
আশার বাণী পৌছিয়ে দাও মজলুমের ঘরে ঘরে

বিজয় সংগীত

হান্নান

বিজয় বিজয় নব ধ্বনি,
গাইব আমরা বিজয়ের
আকাশে বাতাসে কলরোল ধ্বনি,
গাইবে বাঙালী বিজয়ের গান।
রক্ত তরংগে ভাসিয়ে ভেলা,
এসেছিগো বাংলার বুকে।
আজ হতে রবে কোটি মানবের
হারানো হাসি মুখে।
রক্তের ফোঁটায় ফুটেছে আজ
লাল গোলাপের বাগান,
বৃদ্ধ বনিতা শিশু কিশোর
সবে গাইবে বিজয়ের গান।
পদতলে লাঞ্চিত হয়েছে যত শয়তান,
রাজা বাদশাহ কুলি মজুর নাই আজ ব্যবধান।
উল্লাসেতে বলি সবে মোর একসমান,
হাতে হাত ধরে আজ গাইব সবে বিজয়ের গান।

ওপৃথিবী

হান্নান

শুন্য আকাশের নীচে প্রকৃতির শোভা কত সুন্দর
মনে হয় কত পবিত্র বার বার
সত্যই পবিত্র মরোরম নির্ভূল সৃষ্ট এই পৃথিবী
আমরা অধম কাংগাল পারিনা তাকে মুক্ত রাখতে
তাই আমাদের পাপে পাত্রস্থ পৃথিবী হয়েছে পশান্ড
এ আমাদের অপমান কলংক কুচক্রী লারসার ফসল
মোহের অন্ধে নিপতিত গোটা পৃথিবী
অলক্ষে উন্মাদ পাগলা ঘোড়ারা তছনছ করে ছুটে চলছে
পাগলা কুকুরের দল পিছু ধেয়ে আসছে
যেন ঠেলে দিচ্ছে সিংহের মহা গর্জ্ন মুখে কেন হে পৃথিবী বলে দাও তুমি যে নিঃস্পাপ
ঊষা গধুলীর মালিক কি দেইনি তোমার সে শক্তি
তবে কেন পরাস্থ হচ্ছেনা কুচক্রী শয়তান দল।
আমরাতো টিকতে পারছিনা তাদের সমর সমারোহের স্বমুখে
আমরাতো তাদের মুখের গ্রাস ক্ষুধিত খাদ্য
মুক্তি কি দিবেনা হে পৃথিবী আমাদের ?
না না তুমি কলংক,তুমি ধ্বংস,তুমি অপমান
তুমি স্বার্থের তুমি রাজ প্রাসাদের হুংকার
তুমি আমাদের নও, আমরা তোমার অপবাদ
বুঝেছি আমরা তোমার বুকের ময়লা
আমরা শুধু অপমানের অতিথি,রাজী নই থাকতে
তোমার বুকে হে পৃথিবী।

অবিশ্বাসী

হান্নান

হে পৃথিবী বলে দাও, তোমার বুকের মানুষ কেন অবিশ্বাসী ?
কেন এত সংশয় আর মায়া জড়ানো কাঁন্না ?
কেন এত করুনার সুর আঁখি ভরা জ্বল তরঙ্গ ?
দাওনি কি তুমি জীবন সহাহ্নে একটু ঠাই ?
দাওনি কি জীবনের পূর্নতা?
তবে কেন এত অবিশ্বাসী ?
কেন তোমার বুকে এত উত্থান পতন ?
কেন এত ধ্বংসের দামামা ?
মানুষ কেন এত অবিশ্বাসী? মেনে নিতে পারেনা,
তার ধরনীর আদর্শকে।
কেন তারা অবিশ্বাস করে মহামহিম দাতাকে ?
মানতে পারেনা আদির্শ্ বাদী মানুষকে।
বিশ্বাস নামের বস্তুটি কি তাহলে হারিয়ে যাবে ?
আজ পিতার বিশ্বাস নাই সন্তানের প্রতি,
সন্তানের বিশ্বাস নেই পিতার প্রতি।
স্বামী বিশ্বাস করতে পারছেনা স্ত্রীকে,
স্ত্রী বিশ্বাস করতে পারছেনা স্বামীকে।
জনগণের বিশ্ব‍াস নাই সরকারের প্রতি,
সরকারের বিশ্বাস নেই জনগণের প্রতি।
আর এটাই বাস্তবতার নিরিখে মহা সত্য।।
অবিশ্বাসের মহা বন্ধনে আবদ্ধ আজ ধরনী।
দেশে দেশে ধ্বংস লীলা যুদ্ধ জিঘংসা,
সন্ত্রাস রাহাজানী আর মানব হত্যা।
আর্ত্ মানবতার প্রতি যুলুম অত্যাচার।
সবের মূলে রয়েছে অবিশ্বাস।
গায়ের রং হোক যতই ভিন্ন ভিন্ন
ভিতরের রং সবার সমান,
বিধাতাই দেন সবার অন্ন
সবে মোরা এক সমান।
হে মানব তবে বিশ্বাসে কেন ব্যবধান ?
কারণ আজ একটাই,
যে জন গড়িয়াছে যে যে যন্ত্র,
সে ই দিয়েছে তা চালনার মন্ত্র।
ভেবে কি দেখেছ হে মানব?
তুমি তো নও কোন দানব।/br> পাঠিয়েছে তোমাকে যে বিধাতাই,
তুমি কি চলছো তার ইশারাই ?
কোন শয়তানের হাতছানী করেছে তোমাকে গ্রাস,
কারো প্রতি নাই কেন তোমার বিশ্বাস ?
যতই সাজো তুমি মহাসন্যাসী,
সফল হবেনা হলে অবিশ্বাসী।

বাংলার পতাকায়

হান্নান

বাংলার পতাকায় দেখা যায় কিরে ? দেখ দেখ চেয়ে,
রক্তে রন্জিত সংগ্রামী ভায়েরা আছে যে, ওতে শুয়ে।
মনে হয় যেন নব শস্যের মাঝে উদিত নব রবি,
না না সে তো রবি নয় শহীদি ভাইদের প্রতিচ্ছবি
। ও যে সন্তান হারা মায়ের চোখের বেদনা বিদুর জ্বল,
ধরেছি ওকে ধরনী বুকে করেছি রক্ত বদল।
আ হা সোনার ভায়েরা কোথায় তোমরা এই তোমাদের ছবি,
লুকিয়ে আছ বুঝি বাংলার পতাকায় রক্ত মেখে সবি ?
কাঁদিতেছে সেই দুখিনী মাতা বল কত দেব সান্তনা ?
পতাকা থেকে নেমে এসে একবার ঘুচাও মায়ের যন্ত্রনা।
ঘরে ঘরে আজ তোমাদের নাম ওহে সংগ্রামী নিশান,
সবুজের মাঝে লাল হয়ে বুঝি দিয়েছ মহা প্রান।
ক্ষমা করে দিও সোনার ভায়েরা কত করি তোমাদের অপমান,
নাড়ী ছেড়া ধন তোমরা মোদের করি যেন সদা সম্মান।
ধন্য ধন্য জীবন তোমাদের ধন্য সে মায়ের উদর,
ধন্য তোমাদের শহীদ ধন্য মহা সমর।।

ছোট্ট মণী

হান্নান

ছোট্ট মণি মান করোন,
রাগ করে পথে যেওনা।
সব সময় থাকবে বাড়ী,
নইলে চাপা পবে গাড়ী।
তুমি আমার ছোট্ট সোনা,
আর যেন রাগ করোনা।
লেখা পড়া শিখবে তুমি,
হবে অনেক নামী দামী।
ভরবে আমার বুকটা,
থাকবেনা আর দুঃথ টা।।
আমার মেয়ে হাজেরা,
অভিমানের পায়রা।
ছোট্ট কথায় রাগ তার,
কে তারে বুঝাবে আর।
দাদীর বাড়ী নানী বাড়ী,
শুধু করে গড়াগড়ি
মাথায় বাধে টাইরা
যেন সাধের পায়রা
যেতে চাই রাস্তায়,
তাই লিখলাম কবিতাই।।

হে তরুন

হান্নান

একবিংশ শতাব্দীর সিংহদ্বার তোমার রাহে উন্মুক্ত,
অলসতার জিম্মী শিকল ছিন্ন করো।
জাগ্রত হও মহিমাময়ের আহকাম তামিলে।
পবনে হিল্ললে নব দিগন্তে শুধু একই প্রতিধ্বনী,
বার বার তোমাকে হাতছানী দিয়ে ডাকছে।
কেন স্তব্ধ?
বেরিয়ে এসো জুলমাতের আবৃত ছেড়া কাঁথা থেকে,
অসত্য বর্বর জালিম সন্ত্রাসী সমাজের করালো গ্রাসের
মস্তকে কুঠারাঘাত করো।
অশান্ত ধরনীকে পাঁপ পঙ্কিলতার বিষবাস্প
হতে এ সমাজকে মুক্ত করো।
মজলুমের রাহবার হয়ে নেমে এসো মুক্তির পথে।
তোমার লোহিত রক্তের শিহরন
, সত্যের পথে আজ বড় প্রয়
পিলাও হে তরুন শাহাদাত
তোমার রক্তে উঠবে ইনসাফের ইমারত।
নই কোন সংশয় নই কোন ভাবনা,
ছিন্ন করো প্রবৃত্তির যত কামনা।
শপথ নাও ঐশী কালামের,
ঘাড় মচকাবে যত জালিমের।
দিক দিগন্তে ছড়াও সত্যের হুংকার,
ঘরে ঘরে দাও শান্তির ঝংকার।
হে তরুন তুমি কি শুনবেনা এ আহবান?
ন্যায়ের পথে কি হবেনা আগুয়ান।

মনে থাকবে

হান্নান

দীর্ঘ্ দিনের পরিচয়ে মিলেমিসে ছিলাম সবে
খোদার কাছে দোয়া মাঙ্গি সকলে সুখে রবে
দুদিনের পরিচয়ে মনে হয় যেন সবে মোরা ভাই ভাই
কর্তব্যের তরে ছিন্ন হয়ে সবাইকে যেতে
ভূলবনা কোন দিন স্মৃতীর পাতায় থাকবে এই নাম
সকলে আমার শ্রদ্ধার পাত্র জানাই হাজার ছালাম
জানি বিদায়ে দিতে য় কিছু তবু দিতে পারি নাই
দিলাম শুধু ভালবাসা প্রেম এছাড়া কিছু নাই
কথার মাঝে ভূল করে যদি কোন ব্যাথা দিয়ে থাকি
ভূলের ক্ষমা চাব চীরকাল এটাই আমার বাকী
প্রতিদিন সকালে বিকালে হাওয়া খেতে যেতাম বাগানে
আমদের মাঝে সবুর ভাইয়া থাকতো কোন সন্ধানে
দুরুল ভায়ের মুখের কথা শুনলে মধুর লাগে,
আনোয়ার ভাই মজার গল্প শুনাত তার ফাঁকে।

নিরবে থাকত চুন্ন ভাইয়া অতি শান্ত হয়ে,
ভূলিব কেমনে এই স্মৃতি আজ দুঃখ যে,যায় বয়ে।
শান্ত সুষ্ঠ ন্যায়ের কথা শুনাতেন যিনি বারে বার,
ওহাব ওস্তাদ নামটি তিনার ছালাম হজার বার
মনে যদি হয় ছোট ভায়ের কথা কভু একদিন,
দোওয়া করবেন সবার কথা মনে থাকে যেন চীরদিন।।

নিবেদন

হান্নান

শোনহে আমার সোনার ভায়েরা ছোট্ট একটি নিবেদন
দীর্ঘ্ দিনের পরিচয়ে হয়েছে ভাতৃত্বের বন্ধন
হাসিও আঘাতে কাটিয়েছি মোরা দীর্ঘ্ কটি দিন
স্বরণ থাকবে সকলের কথা আমার চীরদিন
আজকে সকলের বন্ধন কেটে যাচ্ছি আমি চলে
একটি কথা বিদায়ের বেলা যাচ্ছি শুধু বলে
সদা সর্বদা রাখিবে স্বরন করিবে স্রষ্টার গুণগান
কাজের শুরুতে নাম নিবে তার হবে না কভু অপমান
শান্তি যদি পেতেচাও মনে, পড়বে নামাজ জামাতে,
শান্তির লেশ দেখিবে তুমি সে দিন প্রথম প্রভাতে।
জীবনকে কখনো দিবেনা ফাঁকী মনে রাখবে চীরদিন,
হা হুতাশ আর অশান্তি তাহলে আসবেনা কোনদিন।
সৃষ্টির সেরা মানবের মনে কখনো দিবেনা ব্যাথা,
কারো অগোচরে কোনদিন বলবেনা কোন কথা।
কারো উপকার যদি নাও করো অনিষ্ট করোনা,
সৃষ্টির প্রতি দয়া করতে কভু ভূল করোনা।।

মুক্ত করো

হান্নান

শুকিয়েছে আখি জ্বল শুন্য মায়াবী অন্ত
হারিয়েছি আজ শক্তি খুজি জীবনের সীমান্ত
অসহায় হয়েছি অর্থের তরে প্রতিবাদে তাই ক্ষ্যান্ত
কাপুরুষ কাপুরুষ নাই আজ প্রতিবাদের অন্ত
না না নহি অসহায় খোদা সহায় তবে কেন ভয়
পাড়ি দেব আজ বিপদ সাগরে হবে জীবনের জয়
হারানো ধনকে ফিরে পাব জানি নিশ্চয়
তবেই হবে মহাপুরুষ প্রতিবাদে যার নাই ভয়
ওহে বাংগালী কেন এত আজ রিক্তের আবেদন
আদায় করো নিজের অধিকার নিতে শেখ সম্মান
আজো বেঁচে আছে ইংরেজ শাসন ও দালাল
ছদ্দবেশি ভাবে বাংলার বুকে গড়েছে টাকশাল
চিন আর ধরো শক্র দলে তাদের করে যুক্ত
ছদ্দবেশি হাত হতে আজ বাংলারে করো মুক্ত
স্বাধিনতা নামের ছাফাই গেয়ে করছ বাঙ্গালী নিধন
সোনার ছেলেরা জানবে যেদিন সেদিন তোমার পতন

বিধাতা না দিলে

হান্নান

ছোট্ট একটি ভাংগা ঘরে বাস করে দুইজন
আষাঢ়ের বৃষ্টি তখন পড়িতেছে ঝণঝন
হৃদয় জুড়ে বহে সদা কাঁন্নার ঝংকার
দুঃখ তাদের জীবন সাথি সুখ করে পরিহার
বালিশ ভেজে কাঁথা ভেজে সাথে বাশের মাচা
ভিজবেনা আর মরনের পর থাকবে শূন্য খাচা
শিমুল তলীর ছোট্ট ঘরে দুঃখ সদা বয়
চোখের জলে ভেসে ভেসে দুইজনেতে রয়
অপবাদের অনল শিখায় দগ্ধ দুটি প্রাণ
স্বার্থের মোহে আপন জনেরাও করে অপমান
প্রলয়ের ডংকা যেন সদয় ধেয়ে আসে
তবু আছে দুজন দুজনের পাশে
কর্ম্ জীবনে হয়নি সুখি পায়নি পূর্নতা
বিধাতা না দিলে কভু পাইনা স্বাধিনতা

পাহাড়ী প্রকৃতি

হান্নান

ওহে বাংলার স্বর্ন শিখর পাহাড় ও পর্ব্ত,
তোমার তলে দেখি যেন আজ স্বর্গের শরবত।
তাঁপিত হৃদয়ে পেয়েছি তোমাকে মিটাব মনের পিপাসা,
বৃক্ষ লতায় আবৃত তুমি বাংলার নব ভরসা।
পাহাড়ী বাংগালী সবে মিলে আজ গাহিছে তোমার গান,
ইতিহাসের পাতায় হয়ে থেকো তুমি মহা সম্মান।
তোমার বুক থেকে তাঁকিয়ে দেখি নব বৃক্ষ বাগান,
উচু নিচু হয়ে গাহিছে যেন বিধাতা নামের গান।
পাহাড়ী বালিকারা দল বেঁধে চলে কাস্তে কোদাল নিয়ে,
পাট্টা পরে পাড়ি দেই তারা গুন গুনিয়ে গান গেয়ে।
তোমার বুকের বাঁশ বৃক্ষ তন্নী তরুলতারাজি,
সকলে মিলে আছে যেন তাই উল্লাসে সাজাসাজি।
মাতৃ হৃদয়ের গৌরব তুমি ধন্য তোমাকে পেয়ে,

ছায়ায় ভরা স্বর্গের সুখ বাংলাকে দিয়েছো দিয়ে।
তোমার সকাশে গড়েছে শিবীর বাংলার সেনা সমাহার,
রণ তরঙ্গের পূর্ন কৌশল আর দিয়েছ নির্যাস সার।
আলু আর অটল টিলাতে দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম নীচু চেয়ে,
আলু টিলার নীচুতে গেছে চেঙ্গি নদী বয়ে।
বারোটি বছর কাটিয়ে দিলাম পাহাড়ের প্রকৃতিতে,
শেষ দৃশ্য হৃদয়ে নিলাম রাঙ্গামাটির স্মৃতিতে।

দ্বার খুলে দাও

হান্নান

চতুর দিকে মর্ম্র কাঁন্নার সুর ভেসে আসে
জানালা খুলে তাঁকিয়ে দেখি পিপাসিত যুবক
স্বাধীনতার রক্তমাখা জামা গায়ে বুকে গুলি বিদ্ধ
কন্ঠে হুংকার কোথায় আমার জননী কোথায় বাংগালী
হাতে হাতিয়ার কোমর বাঁধা গুলি যেন ক্ষিপ্র ব্যাঘ্র
রক্তের তরঙ্গ পাড়ি দিয়ে ফিরেছে মায়ের কোলে
কিন্ত কোথায় পিতা মাতা ভাই বোন
কালো রাতের আঁধার নিঃশেষ করেছে শক্র সেনা
লুন্ঠন করেছে নির্বি্চারে মা বোনের চরিত্র
সাহসার বাণী মুখে দিয়ে পিতাকে করেছে হত্য‍া
তারা কোথায় বল তারা কোথায়া আর সইতে পারি না
সেজেছি আজ রিক্তের কাংগাল পথের ভিখারী
স্বাধীনতার দায়ে হারিয়েছি জীবনের গান
কোথায় সে শক্র সেনা দাও দ্বার খুলে দাও
করিব হত্যা রক্ত পান করে মিটাব তৃষ্ণা
দাও দ্বার খুলে দাও

ওগো জননী

হান্নান

ওগো সোনার জন্মভূমী রেখেছি মাথা তোমার বুকে
মাতৃস্নেহে রেখেছ তুমি তাইত আছি মহা সুখে
কোথায় তোমার সংগ্রমী জনতা
কোথা আজ সেই স্বাধীনতা
তাদের বিহনে হারিয়েছি মোরা আমাদের বৃþ মুলে
শোষন করছে আমাদের তারা ভাসিয়ে নদীর জ্বলে
ও আমার মাতৃভূমী সদয় আছো মা আমাদের তুমি
দাও না আমাদের প্রতিবাদ শক্তি সম অধিকারে আনিব আমি
মানবের অধিকার দানিব মানবকে
সহায় থাকবে খোদা

দাও খোদা

হান্নান

তুচ্ছ করি কলুষিত নির্ম্ম পৃথিবীকে,
পদাঘাত করি লাঞ্চিত কলুশিত সমাজকে।
যে পৃথিবীতে আছে লাঞ্চনা আর গঞ্জনা্।।
যে সমাজে আছে অপমান নৈরাজ্যতা
যে পৃথিবীর বুকে আছে শুধু যন্ত্রনা
অপমানিত সেই সমাজ
যে সমাজ ভূলেছে তার বিধাতাকে,
যে সমাজ ভূলেছে পবিত্র কোরাআনকে
যে সমাজ অপমানিত করেছে নবীর আদর্শকে,
আমি সেই সমাজ, সেই পৃথিবীকে দেই অপবাদ,
আমি সেই পৃথিবী চাই,
যেখানে আছে আল্লাহর নাম
আমি ঐ সমাজ চাই
যেখানে আছে রাসুলের আদর্শ॥
আমি ঐ পৃথিবী চাই যেখানে আছে
শুধু শান্তির নিকেতন
আমি ঐ সমাজ চাই যেখানে নাই কোন
দ্বিধা সংকোচ নাই কোন সন্ত্রাসী
দাও খোদা আমাকে সেই পৃথিবী
দাও হে খোদা আমাকে সেই সমাজ

দাও আমাকে

হান্নান

আমি একাই থাকি, একাই থাকবো,
একা এসেছি একাই যাবো।
আমি চাইনা সঙ্গময়ী কোন জীবন,
আমি চাইনা কারো করুনার ভূবন।
কেন উৎতপ্ত আমার জীবন,
ভেঙ্গনা আমার ভাব্য ভূবন।
আমাকে নিঃসঙ্গ থাকতে দাও,
আমাকে বার বার ভাবতে দাও।
আমাকে একা থাকতে দাও,
বিধাতার মধুর পিয়াস নিতে দাও।
সবই শূন্য কেমন যেন অসহায়,
জানিনা নেমে আসে কোন দুর্জয়।
আমাকে একা থাকতে দাও,
ভাবার মত কিছু ভাবতে দাও।
হয়তবা ভাববে আমি নিষ্ঠুর পাষান্ড,
আমি উৎতপ্ত আমি বরফের কান্ড।
আমি পর্বতের কৃষ্ট পাথর,
জলহীন নয়নের পাতা,
দাও আমাকে একা থাকতে,
দাও আরো কিছু ভাবতে।।

কেন অবিচার

হান্নান

মানুষ কত নিস্ঠুর মানবীন প্রতি নির্মম অত্যাচার।
খবরের কাগজ আর টেলিভিশনের পর্দার বাস্তব চিত্র,
কখনো কখনো মনকে করে উশৃংঙখল।
আবার গভীর ভাবে যথন ভাবি ,
তখন নিস্তব্ধ হয়ে যায়
জীবনের সব আবেগ।
সুন্দর সুন্দর রূপরানীদের মুথে এ্যাসিডের উৎতপ্ত চিত্র,
ঝলসে দিয়েছে তার জীবনের স্বপ্ন।
কখনো অপহরনে ধর্ষিত হয়ে মস্তিস্ক বিকৃত।
কখনো বা উদামের দাবানলে দগ্ধ হৃদয়।
হে জাতী একবার কি ভেবে দেখেছ ?
কেন এ করুন দৃশ্য ?
নারীদের প্রতি কেন এ নির্মম অবিচার ?
হে জাতী আমি জানি তোমরা এর উত্তর পাবেনা।

ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নগ্ন দংশনে,
জাতীর বিবেক আজ বিষাক্ত।

অপসংস্কৃতি বন্ধনে জাতীর বিবেক আজ বন্দি।
পাশ্চাত্য সংস্কৃতি মানবকে করেছে স্বার্থপর,
আর কামাসক্ত।
তাই সে ভুলেছে বাংগালী মাতৃত্বের সম্মান।
এরকম নারীর গর্ভেই তার জন্ম।
সে কি ভাবে অবিচার করে এই মা জাতীর প্রতি ?
আমি এর কিছু কারণ খুজে পেয়েছি
হে জাতী মনি মুক্তা স্বর্ণ্ রাজী কি
সদা উন্মুক্ত করে ফেলে রাখা যায়?
যা শোভা বর্ধন করে শুধু নারীর অংগে
দোকানে সাজানো থাকলেও থাকে খুব সাবধানে
শুধু ক্রেতাদের দর্শনের জন্য
সন্ত্রাসীরা সুযোগ পেলে হামলা করতে মোটেও দেরী করবেনা
মণি মুক্তার বিধান তাকে সাবধানে গোপনে রাখতে হবে
নারীর বিধান সে পুরুষের আকর্ষনের পাত্রী
তার শরীরটাই আকর্ষনের
নারীকে কাছে পাবার ইচ্ছাই পুরুষের কাম্য
হোক তা বিধানগত অথবা অবৈধ
যারা প্রকৃত মানুষ তারা না হয়
নিজেকে সংযত রাখল
কিন্ত ডিশ এ্যান্টিনার নগ্ন চিত্রে দংশিত যুবকটি
সে তো এ সুযোগ হাত ছাড়া করবেনা
অর্ধ্ নগ্ন এক নারীকে দেখে সে কি ভাবে ঠিক থাকবে
সে করবে প্রেম নিবেদনের আবেদন
না শব্দ উচ্চারিত হলে নিবে অন্য পদক্ষেপ
হয় অপহরণ না হয় এ্যাসিড নিক্ষেপ
এই যুবককে কে বানালো উত্তেজিত
এই নারীকে কে শিখালো এমন পোষাক পরতে
জানি ঘুনে ধরা জাতী এর উত্তর পাবেনা
মহামহিমের বিধানকে অবজ্ঞা করে
যারা জাতীর ঘাড়ে এই নগ্নতা
আর পাশ্চাত্য সংস্কৃতি চাঁপিয়ে দিয়েছে
তরাই এর জন্য দায়ী
আর এই পাগলা কুকুরদের যারা
অনুকরন করে তারা দায়ী
এর জন্য দায়ী এ সমাজকে যারা পরিচালনা করছে
কোনদিন যদি হতো এর বিচার
তাহলেই হবে এর প্রতিকার
যাদের কারণে মানবতার প্রতি এত নির্মম অবিচার

ঝরাফুল

হান্নান

অজানা দুপরের ঝরা ফুল
তাকে চিনতে করোনা ভূল
নিওনা তোমার কমনীয় হাতে
নিঃস্ব হবে জীবন প্রভাতে
সে সমুদ্রে ভাসা জোয়ারের ফেনা
দূর অতিথি তাই তাঁকে চিননা
না চিনে যেন মুক্তা ভেবনা
তোমার সুন্দর আঁচলে নিওনা
বিলীন হয়ে যাবে নিমিশে
কষ্ট পাবে তুমি হৃদয় সকাশে

ওরা পাশান্ড শয়তান

হান্নান

ধিক্কার দেই পাশ্চাত্যের দুপায়া সাদা সাদা চামড়ার নরপশুদের,
মানবতার প্রতি একটু ও দরদ নেই যাদের।
হিংস্র হায়েনা পাগলা কুত্তার বিষাক্ত দন্তের কামড়ের ন্যায়
কামড় দিয়েছে মুসলিমের।
ওরা পাশান্ড জানোয়ার ওদের বুকে নেই মমতা,
ছোট ছোট শিশুদেরও ওরা þমা করেনা,
নির্ম্g ভাবে সবাইকে করছে হত্যা।
পাশ্চাত্যের মুসলমানদের বুক ভরা ব্যথা আর চোখের অশ্রুতে
স্নান হয়েছে বিশ্ব মুসলিম,
শিশু হারা মা স্বামী হারা বিধবার চোখের নীরে
পশু পাখি পর্য্ন্ত কেঁদে ফিরেছে,
তবুও দয়া হচ্ছেনা ওদের মনে।
হে রক্ত চুষার দল আর কত রক্ত চাও ?
বসনিয়া, চেসনিয়া, ইরাক, আফগান, ফিলিস্তিন
সবার রক্ত চুষার পরও তোমাদের তৃষ্না মেটেনি?
গণতন্ত্রের বুলি ছড়িয়ে করছো মুসলিম নিধন,
তোমাদের উপর কথা বললেই করছো তাদের পতন।
তোমরা কি বিশ্ব জয় করতে চাও ?
অত্যাচারী বেশে তা কখনো পারবেনা।
বরং বিশ্ব ইতিহাসে তোমরা পাশান্ড,
পাশান্ডই হয়ে থাকবে।।

বাংগালী সব ভাই ভাই

হান্নান

দুপুরের রবি কিরণ মালার প্রখর তপ্তময়ী শক্রুর অবিচার,
কলংকের দাগ মোচন করিতে মুক্তিরা আসিল দুর্বার।
শত শত মায়ের নয়নের মনিরা করল তাজা রক্ত দান,
রক্তের বদলে পেলাম মোরা স্বাধীন এক বাংলা নিশান।
পরাধিনকে আমরা স্বাধীন করেছি বন্দিকে করেছি মুক্ত,
ধনী গরীব রাজা প্রজা একই বাঁধনে যুক্ত।
বাংলার একতা স্বাধীনতার জয় দেখিয়া দেশোদ্রহী,
কি ভাবে তা পতন করিবে ভাবে বসি বসি।
তারা বাংলার বিদ্রহী তারা দেশের শক্র,
তারা কারা ? তারা কর্ম্কর্তার ছদ্দবেশি কিছু মিত্র।
তারা অবহেলা করে অর্থ্ হীনকে স্বাধীনকে রাখে পরাধিন,
তারাই কা পুরুষ যারা থাকে তাদের অধিন।
পরাধিন যদি থাকবো তবে করলাম কেন রক্ত দান ?
এরা কি খোদা না দেবতা ? তাই এত সম্মান?
পাওনা যা নিবে তা অধিক কিছু নয়,
সকলে স্বাধীন কেউ নয় পরাধিন,
বাংগালী সব ভাই ভাই।
ওরে ও সয়তানেরা ক্ষমতার ভাব দেখাই যারা,
আর করিসনা দেরী তোরা পশু স্ব‍াভাব বদলা ত্বরা।।
আসবো দুর্বার ফিরে আবার নবীন মোরা বিদ্রহী
ধরবো টুটি মারবো লাথি থামরে ওহে দেশাদ্রহী।।
জনমের অনন্দ উপভোগ করো মোদের করে পরাধীন,
তোরা শাসক নয় তোরা শক্র, বাংগালীর করলি শক্তিহীন।

কবীদের কবিত্ব

হান্নান

কবীরা কেবল লিখে যায় কথা, স্মৃতি থাকার তরে,
উপদেশ বাণী আর নিজের নামকে ছড়ায় ঘরে ঘরে।
কতকের কথা লিখে গো তারা নিজেকে বড় করে।।
কবী আর সাহিত্যিকরা লিখে যায় পাতার পর পাতা,
প্রকৃতি আর বিধাতার নাম থাকে হেথা।
কবীর সন্ধান কবিত্ব, সাহিত্যিক করে রচনা
কবিতা আর রচনা নিয়ে কেন কুট আলোচনা ।
প্রকৃতি কৃত্তিম কালের গন্ডি, মূল রচনার কথা,
অতীত ভবিষৎ কবীর কল্পনা যায়না কভু বৃথা।।

গুরুর শিক্ষা

হান্নান

মহানশ্বরে আসে মানব থাকেনা বুদ্ধি জ্ঞান,
বুদ্ধির পরিচয়ে মানুষ,মানুষকে করে সম্মান।
অন্ধ ভূবনে জ্ঞানের সন্ধানে যায় পাঠশালায়,
জ্ঞানের পাহাড় হেথায় থাকেন শিক্ষক মহাশয়।
ভাল মন্দ বিধাতার কথা বুঝাতে থাকেন গৌরবে,
সে তো কভু নহে মহাশয় যিনি সময় কাটান নিরবে।
গুরুর মর্যাদা শিখানোর মাঝে শিক্ষক হলেন তিনি,
শিক্ষক নহে জাতীর দুশমন,কক্ষে বসে ঘুমান যিনি।
শিক্ষকের দান,বড় সম্মান সঠিক ভাবে দিলে,
পাবে নিশ্চয় মহা সম্মান সঠিক শিক্ষা পেলে।
কবীগুরু সাহিত্যিক যত আছেন গেছেন ইহলোকে
, পেয়েছে সকলে গুরুর শিক্ষা তাই পদবী বেঁধেছে বুকে।
চিন্তার ভাবে দেখি একবার কার কত মান,
যাদের শিক্ষায় হয়েছি বাদশাহ করি তাদের প্রনাম।

অজানা পথিক

হান্নান

অজানা পথিক চলছে ছুটে জানেনা কোথা তার স্থান
কোন মোহে বিভোর নাই যেন তার হিতাহিত জ্ঞান
সকল বাক পেরিয়ে এখন জীবনের শেষ প্রান্তে
সহসা এখন পড়ছে মনে জীবন ছিল মহা ভ্রান্তে
ইহধামে যেখানেই থাকরে মানব আছে তার এক নিশানা
এমন পথের পথের পথিক তুমি যার নাই কোন ঠিকানা
এমন যায়গাই যাবে তুমি যে জায়গায় নাই সাথি
এমন ঘরে থাকবে তুমি যে ঘরে নাই বাতি
দুনিয়ার মোহে পাগল তুমি এই দুনিয়া তোমার নই
সাড়ে তিন হাত মাটির নীচে ঐ দনিয়া তোমার হয়
ডইনে মাটি বামে মাটি শুধুই মাটির বিছানা
এমন জায়গায় থাকবে তুমি যার নাই কোন ঠিকানা
মিছিল মিটিং হরতাল বিপ্লব কোন কিছুই চলবেনা
নেকী ছাড়া ঐ জায়গাতে শান্তি কভু মিলবেনা
ছাড়রে পথিক বাহাদুরী করোনা শক্তির খেলা
জীবন শেষে বুঝবে তুমি বসবে যখন মেলা
কোথায় হাটছো কোথায় চলছো কোথায় যাবা চলিয়া
অজানা পথের পথিক তুমি সবাইকে যাবে ভুলিয়া

ভয় নাই

হান্নান

পরাধিনতার বাধনে ছিলাম মুক্ত হয়েছি এবার
সবুজ ও লাল পতাকা নিয়ে এসেছি গো দুর্বা্র
জয়ের নিশান উড়িয়ে দেব বদলে বুকের রক্ত দিব
স্বীকার করিনা পরাধীনকে বিজয়কে মোরা মানিয়ে নিব
সত্য সাহস দেখাব মোরা নাই তাতে কোন ভয়
বাংলার মানুষ দেখবে সবাই জয় আমাদের জয়
স্বাধীন রাজ্য পেয়েও মোরা আছি পরাধীনতায়
পরাধীনকে আমরা অধীন করবো নাই হবে কিছু ক্ষয়
বাংলার মানুষ চেয়ে আছে সদা মোদের দিকে চাহি
বিনিময়ে মোরা তাদের মুখে ফুটাবো মধুর হাসি
মুক্ত মানুষের মুক্ত করবো কিসের মোদের ভয়
ঝান্ডা হাতে ঝাপিয়ে পড়ো ভয় নাই কোন ভয়

অমর বাংগালী

হান্নান

স্বাধীন দেশের মানুষ মোরা গড়বো নব প্রাণ,
মাতৃভূমীর জন্য রক্ত করবো মোরা দান।।
সদা মুক্ত রাখবো মোরা মুখ করবো উজ্জল,
দেশের জন্য সদা সর্বদা থাকবো গো সবল।।
বিশ্বাস ঘাতকদের পতন করবো বাংলার জমিনে
ভাতৃত্বের বাঁধনে বাঁধিত হবো সবুজের লাল নিশানে।
অসহায় আর মজলুমের পাশে থাকবো মোরা সর্বক্ষন,
মনের বেদনা বুঝবো মোরা করবো আত্ন দান।
জন্ম নিয়েছি বাংলার বুকে হয়ে বাঘা বাংগালী,
জুলুম আর সন্ত্রসীদের করবো মোরা খালী।
আমার ভায়েরা রক্ত দিয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামে
তাইতো সবাই মুক্ত হয়েছি ফিরেছি সোনার আশ্রমে
আমরা যাদের বিশ্বাস করেছি তারাই অবিশ্বাসী
ঝঁপটে ধরে তাদের গলে পরাবো এবার ফাঁসী।
এরা ছদ্দবেশি আর কলমের আগাই করেছে রাহাজানী
, বিচারক,শাসক সবই এরা এরাই আবার খুনী,
এদের বিচারে করবো মোরা যাত্রা মোদের দুর্বার,
অসত্য থেকে সত্য আসতে ভয় কেন হে যাযা বর।।

স্বার্থ্

হান্নান

মানব মোরা দুনিয়া বুকে শ্রেষ্ট মাকলুকাত
, স্বার্থের তরে ডুবিয়া মোরা করি গো মুনাজাত।
নামাজের মাঝও মনে পড়ে শুধু মহা স্বার্থের কথা,
স্বার্খের জন্য মানুষকে সদা দিয়েই থাকে ব্যথা।
ঘুম থেকে জেগে ঊষার প্রান্তে গিয়ে কর্ম্ করে,
কর্ম্ শেষে গধুলী প্রান্তে আবার আসে ফিরে,
কিসের জন্য করি গো কর্ম্ নাইকো সবার অজানা,
আপন ঘরের কর্ম্ মোরা কিছুই করিনা।
ছদ্দবেশি ধারন করে সেজে বড় মুসল্লি
স্বার্থের মাঝে ডুব দিয়ে সদা মুখে আল্লা বলি
বিচারের জন্য বসে আছেন ভাই মহা বিচারপতি
স্বর্থের জন্য তিনিই আজ নিভান আলোর বাতি
কারো ফাঁসী হয় কেউ বেঁচে যায় সব স্বর্থের খেলা
কেউ কি জানে ন্যায় ইনসাফের বসবে একদিন মেলা

সন্ধার পাখি

হান্নান

গধুলী গগণে চুম্বিত রবি ঘুমায় যেন প্রান্ত কোলে,
সারাটা দিন আহার যুগিয়ে ফিরেছে পক্ষি বৃক্ষ ডালে।
কর্ম্ থাকেনা সমাজে তখন গায় বিধাতার গান,
বুঝেনা মানব তাদের জিকির তাই করে বদনাম।
কিচির মিচির করে পাখিরা, ধৈর্য্য হারা হয় মানবেরা,
সময় পেলেও করেনা যিকির এ কেমন দানবেরা।
বিধাতার নাম গাইতে গাইতে ঘুমালো পক্ষি নীড়ে,
মানবের ঘুম আসেনারে ভাই চোর ডাকাতের ভীড়ে।
পশু পক্ষি খোদাকে চিনল মানব চিনলনা,
তাইতো তারা শান্তিতে থাকে মানব থাকেনা।

ভরসার যুবক

হান্নান
হে যুবক নিরবে আকাশের দিকে কি চাও
কি তোমার বেদনা কিসের অনুভূতি একবার ফিরে চাও
আকাশে হেলাল সেতারা সবে বিধাতার আদেশে মগ্ন
তোমার অপেþvয় জীবন মরণ সব উৎলগ্ন
বলো কি করবে কি গভীর ভাবাবেগ তোমার
মন যেন উশৃংখল মরনের বানী শুধু শুনাচ্ছে আমার
কিশোর পরের নবীন যুবক রণপ্রপাতে ধারা শক্তি
নিভছে রবি আসছে আঁধার নাইকো কোন মুক্তি
ফিরে চাও নিরব থেকোনা
নবীন তুমি বুঝছ সবি অতিতের কালান্তর
এত নই বীর সেইতো বীর ধৈর্য্য যার যুগান্তর
এই নও ঝান্ডা অগ্রগামী হও শত্রু সমাতলে
মরিব আমরা তবু মারিবনা চলো যায় সবে মিলে
তুমি আশার আলো নব জাগরণের পতাকা কিসের ভয়
হায়দারী হাকে ঝাপিয়ে পড়ো মুখে বলো জয় জয়
অসত্যের দাবানলে জলছে þন ভঙ্গুর পৃথিবী দাউ দাউ
সত্যের আলো অন্ধ পৃথিবীতে একটু ছড়িয়ে দাও
আর ভেবোনা হে যুবক এবার মস্তক উঠাও
অসহায় পৃথিবী বাসীকে একটু মুক্তি দাও

পথিক

হান্নান
আমি এসেছি জল তরঙ্গ সপ্ত সাগর পেরিয়ে
অজানা অচেনা মানুষের দুয়ার প্রান্তে
আমি এসেছি নির্যাতিত নিপিড়িত মানুষের
মুক্তির পথ নিয়ে ছিন্ন ভিন্ন জীর্ন্ কুঠিরে
নাই নাই আমার ক্লান্তির লেশ নাই কোন ভয়
আমি পৃথিবীর প্রান্তে প্রন্তে এক অজানা পথিক পায়।
আমি বিজয়ের আমি সত্য নিশানের স্তম্ভ
আমার দেখে সবাই হবে হত ভম্ভ।
দিবে কি আমারে একটু ঠায় ?
আমি নীড় ছাড়া চলেছি উড়ে আর ভেসে ভেসে
কৈ কেউ তো দিচ্ছে না আমাকে একটু ঠায়
আমি কি পাবো না একটু সত্যের ঠাই, ধৈর্য্যর সাথি
তোমরা কি এতই পাশান্ড এতই কঠিন এতই তিক্ত
ফিরিয়ে কি দিবে মোরে তবু দ্বারে দ্বারে
আমি পরাজয়ের নই আমি বিজয়ের
আমি মিথ্যার নই আমি সত্যের মুকুট
তোমরা কি আসবেনা সত্যের পথে
আমি পথ হারা পথিকের পরম সাথি
তুমি না হয় আমার সাথেই পা বাড়াও
দেখবে সত্যের সন্ধান পেয়ে যাবে
শোন একটু পথিকের কথা

ভাবনার জালে

হান্নান
আমি ভাবনার ভাবনায় বসে ভাবি সারাক্ষন
ক্ষনিকের প্রান্তশালাই আমার এ জীবন
পারবো কি পদচিন্হ রাখতে এ ধারায়
নাকি নিমেশেই মিশেযাবে সব সঞ্চয়
এত দিনতো হয়নি মনে আমি পথচারী
পথের সীমানাতে এসে করি আহাজারী
কি নিতে এসেছিলাম কি নিয়ে গেলাম
কখন করবে ধরনী আমায় সেলাম
কেন জীবন নিয়ে ছিলাম আমি বেখবর
মনে হয় আমি আজ এক রিক্ত রোনাজার
সিংহ বয়স কাঁটিয়েছি আমি দুনিয়ার সঞ্চয়ে
আজ শূন্যহস্তমোদী আমি চলি গুঞ্জয়ে
হয়রান পেরেশান কেন ভাবিনায় আমি আগে
সব ভূল ধরা পড়লো দেখি জীবন সন্ধা ভাগে
হুশিয়ার হে মানব গোষ্টী শুধরাও জীবনের ভূল
নইলে মরনের পরে তুমি পাবেনাকো কোন কূল

জীবনের পূর্নতা

হান্নান
আমি চাইনা রাজ সিংহাসন আমি চাইনা গাড়ি বাড়ি,
কিছুতেই শান্তি নেই যদি পাশে না থাকে লক্ষী নারী।
গাছের নীচেও শান্তি আছে শুধু লক্ষী নারীকে নিয়ে,
বলো কি হবে লক্ষী নারী বিহীন রাজ্য দিয়ে।
কেউ যদি বলে তুমি হবে এ দেশের রাজা,
দেবনা সাথে লক্ষী নারী নামের কোন প্রজা।
আমি রাজি নই আমি রাজি নই এমন রাজা হতে,
লক্ষী নিয়ে থাকবো গাছের নীচে রাজী আছি তাতে।
রাজার দরবার হবেনা ধন্য যদি না থাকে নারী,
নারী ছাড়া পুরুষে পূর্ন মূল্যহীন শূন্য রাজ বাড়ী।
ধন্য নারী পূন্য নারী নারী ধরনীর ফুল,
নারী ছাড়া পূরুষ জীবনের নাই কোন কূল।
নারী জীবনও মূল্যহীন যদি পুরুষ না থাকে পাশে,
নারীর জীবন ধন্য হয় মহাপুরুষের যশে।
স্বামী যদি না থাকে বলো সুন্দরীতে কি দাম,
স্বমীর সোহাগে থাকে যে নারী করি তার নাম।
সুখ দিয়েছে শান্তি দিয়েছে নারী মম জীবনে,
রজনীর বুকে মাথারেখে তাই শান্তি পেলাম মরনে।
নারী পুরুষ ছাড়া তুচ্ছ সবি তুচ্ছ মানবতা,
নারী পুরুষ ছাড়া আসেনা কভু জীবনের পূর্ণতা॥

ওরা ছাড়েনা

হান্নান
চতুর দিকে সন্ত্রাসী হিংস্র হায়েনার ডাক
নিঃস্তব্ধতা বিরাজ করছে নাই মানবের হাক
চারিদিকে হাহাকার মর্ম্র মরনের কাঁন্না
নারীরা সবাই ছেড়েছে নাওয়া খাওয়া রান্না
সন্ত্রস্ততা ছেড়ে পরিবারকে আনলাম শান্তির আলোতে
বদ্ধ খাচার ভিতরে থাকি আটকানো তার কাঁটাতে
একশ গজের ব্যবধনে নিঃসঙ্গতা বিরাজ করেগো মনে
শত আবেদনেও যায়নাগো দিতে ধরেছে ওদের শয়তানে
মানবতার সব আবেদন তুচ্ছ তাদের কাছে
স্ত্রী পুত্রের খবরের তরে কত ঘুরলাম তাদের পাছে
এপার হতে ছবিতে দেখি বউ ছেলে আর মেয়েকে
কথাও বলা যায়না তাই বলবো একটু ডেকে
জানার পরেও দিলনা জালিমরা একটু সময় মোরে
এ দুঃখের কথা আমি বলবো বলো কার তরে
সঙ্গ থাকতেও নিঃসঙ্গতা কি যে মম যন্ত্রনা
রজনী ছাড়া বিশ্ব ভূবনে কেহই তা বুঝলনা
অনুরোধ করি তাদেরকে আমি þমতা যাদের হাতে
করুনা করিও মানবের প্রতি þতি করিওনা প্রাতে
মানবের উপকারে এগিয়ে আসে যে সে হয় বড় ধন্য
অল‡þ সে অনেক বড় হয় জীবন ও হয় পূন্য

হে পৃথিবী

হান্নান
হে পৃথিবী তোমার বুকের এই মানব বেশি পশুরা কত হিংস্র
নিম্ন মানের পশুর চাইতেও যাযাবর এদের চাহিদা অজশ্র
সুদ আর ঘুষের কাছে তাদের আর্তমানবতা মূল্যহীন
এরা þ¨vপা কুত্তার মত হিংস্র মায়া মমতা হীন
এদের বিষাক্ত কামড়ে কত মানুষের সুখের বাশরে চোখের নীর
এদের অব্যক্ত নিঃশ্বাসে কত মানুষ হলো বধির
কবে যে মুক্তি পবে এ পৃথিবীর সত্যিকার মানুষ গুলি
হে পৃথিবী বলে দাও কবে ফুটবে তাদের মুখে হাসির ঝুলি
এরা আর কত দিন থাকবে এই পশু দের ভয়ে কাতর
না কি শোকে শোকেই হয়ে যাবে এরা পাথর
হে পৃথিবী এদের বিষ দাঁত ভাংগার জন্য আসবে কি কোন অবতার
যার কাছে করবে মানুষেরা তাদের চাওয়া পাওয়ার আবদার
হে পৃথিবী তোমার বুকে কবে আসবে আমার জাদুর মনিরা
যাদের হাতে শায়েস্তা হবে জালিম হিংস্র হায়েনারা
আমি দেখতে পাচ্ছ তাদের আগমন বার্তা হে পৃথিবী
তাদের হাতে নিপাত যাবে এই জালিমরা সবি

গোলাপের পাঁপড়িটা

হান্নান
হে গোলাপ যখন তুমি ছিলে কুঁড়ি,
কতনা পানি ঢেলেছে তোমার গোঁড়ায়,
শুধু তোমার ফোঁটার অপেক্ষায়।
সত্যই একদিন তুমি ফুঁটলে বড় মনোহরে,
কি যে তোমার আকর্ষন আর মূল্য,
তোমার সংস্পর্শে আসলো কতজন,
প্রাণ ভরে উপভোগ করলো তোমাকে।
বাসর শয্যার প্রত্যাশিত কত মনকে
তুমি করেছো ব্যাকুল।
কত কুশ্রীকে করেছ তুমি শ্রীমতি।
কিন্ত যথনি শুকিয়েছে তোমার পাপড়িগুলি,
তখন আর কেউ নেইনি তোমার খোজ।
তোমার গুনাগুন সব যেন মুছে গেছে,
তাই বলে তুমি কি আর ফুল ফোটাবেনা?
তোমার প্রয়োজন যুগ যুগান্তর।

বুঝলিনা

হান্নান
তোরা হিংসুক তোরা বর্বর তোরা ভাগ্যাহতের দল,
সামান্য স্বার্থেই মাতিশ তোরা ওহে পশুর দল,
ভায়ের মর্ম সাথির দরদ নেই বুকে তোর কুলঙ্গী
ভায়ের বদনাম সর্পের কাছে করিস হয়ে মাতঙ্গী,
জাতীর দরদ বুঝেনা যে সাথি সেতো নহে মানব
জাতীর মর্ম বোঝেনা যারা তারা মানববেশী দানব,
তোরা পারবিনা তোরা পারবিনা হতে উন্নত জাতী
দুঃখ বেদনা যন্ত্রনা ছাড়া তোদের হবেনা প্রভাত ভাতী,
এ আমার অভিশাপ নয়,যা দেখেছি তাই
ছোবল ধরে সাপেরে তোরা ডাকিস শুধু ভাই।
তোদের দুধে তোদের কলায় সর্প হলো তাজা,
সারা জীবন খেয়েই যাবি গোল গুল্লা ভাজা।

আর কত খেলবে খেলা

হান্নান
বিরামহীন সিরাতেই অগ্র যাত্রা,
শৈথিল্য আঁখি আর চিন্তনা।
কখনো চাহনী লাল সাদা সিতরাতে,
কোথাও রঙ্গ মঞ্চ কোথাও বুক ভরা বেদনা।
এ কি রহস্যভার ধরনীর।
রবির দৃশ্য অবলোকনে ছিল মেহেদী কংকন
জুমি ভরা মিলন হস্তাদী,
দিপ্র নিশিথ সুপ্ত না হতেই
ভেংগে গেল মনো মেলা।
পরে নিল সব ছেড়ে
বাসন্তীর সাদা শাড়ী।
কানণে কুহিলিকা বিহঙ্গ হরকরা,
প্রকৃতির মারজান সম স্বর্গ
সবই মূল্য হীন।
কে সে ডাকসু পিচাশ ?
কেড়ে নিল হৃদয়ের বাসনা।
এক আধ দিনের নহে এ খেলা,
শুণ্য এখন বাসন্তী মেলা।
লক্ষ হৃদযের লক্ষ মনি,
কেঁড়েছে রাক্ষস রাণী,
আর কতদিন খেলবে এ খেলা।

কর্ম

হান্নান
অলস জীবনের নেই কোন আশা
অলস মাথায় ভরা শয়তানের বাসা
অলস মানুষ যারা
সদয় চিন্তা করে তারা
তাদের চিন্তার নেই কোন কূল
চিন্তার জীবনটা অতি বড় ভূল
সসব রোগের ঔসধ আছে চিন্তা রোগের নাই
চিন্তা রোগের ঔষধ আমি বলে যায়
সদয় করিবে কর্ম্ ছাড়িয়া দেহ ঘর্ম
তখনি বুঝিবে তুমি কতযে ঘুমের মর্ম
ক্লান্ত শরীরে কভু চিন্তা নাহি আসে
ক্লান্তির পরে ঘুম আসে অনায়াসে
তাইতো কর্মীরা সদা সুখি হয়
কর্মীর সাথে থাকে মহা দয়াময়
কাজ করো খেটে খাও বসে থেকোনা
অকর্মা লোকেরা সুখি হয়না
কর্মের মাঝে খোজ নিজের ধর্মকে
ছোট মনে করিওনা নিজের কর্মকে

ত্যাগই জয়

হান্নান
নিত্য নুতন মুখের শ্লোগান,দিতে পারেনা জাতীর মুক্তি,
যদি না থাকে ত্যাগ তিতিক্ষা আর চারিত্রিক শক্তি।
তুমিই জাতীর মুক্তি কামী,তুমিই জাতীর নেতা,
তোমার পিছে থাকেনা যেন কোন শয়তান সন্ত্রাসী হোতা।।
যাদের হস্তে দেখছি মশাল,মনে হচ্ছে দর্পবীর,
শেষে ভাগিস না ওহে মশালচী নীচু করে তোর শীর।
আলপনা দের কল্পনাতে করিস না তুই ভয়,
কোমর বেঁধে নামরে ত্যাগি জয় হবে তোর জয়।
কেনরে হবেনা জয় তুই তো ভোগী নয়,
ত্যাগের মশাল হাতে নিয়ে নামরে রণে ভাই।
নিবনা আমি নিবনারে তোকে তুই ভোগী কুলঙ্গী,
তোর পদচারে হবে যে, পরাজয় তুই ভোগী বিহঙ্গী।
আমরা নই ভোগীর জাতি, চাইনা ভোগী সাথি,
কেহ না থাকিলে একাই জালাবো আমার বিজয় বাতী।।
তোমার ত্যাগের ফুল মনোহর ফুটবে রণ বাগানে,
গাঁথবো মালা খুনের সুতায় পরাবো বিধবার মনে।
তবুও চাহিনা ভোগীর করুণা যায় যাক এ প্রাণ,
আমি ত্যাগী, আমি সংগ্রামী, আমি নই অপমান।।

ফিরে কি পাবে

হান্নান
অমানিশার ঘোর কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত জাতী,
পূর্বাকাশে দেখেছিল নব মুক্তি রবি।
তাই ঝাপ দিয়েছিল স্বাধীনতার মুক্ত শ্লোগানে,
রক্তাক্ত করেছিল রণাঙ্গন।
শুভ্র রং দেখেই ভেবেছিল দুধের পিয়ালা,
জাতীর দর্শন মিথ্যা নয়, কিন্ত তাকে দেয়া হয়নি।
দু‡ধর পিয়ালা নিয়ে তাদের দেয়া হয়েছে,
শুভ্র রং এর বিষের পিয়ালা।
নেমে আসলো মানবতার বেদনা দায়ক নৈরাশ্য,
জাতী হারালো স্বাধীনতা।
বিধবা রঙ্গীন শাড়ী খুলে পরলো সাদা ধুতি,
মা সন্তান হারিয়ে অশ্রু আঁখিতে দ্বারে দ্বারে।
সকাল বিকাল বিহঙ্গ কুল কেঁদে ফেরে কবরে।
কোন দিন কি পাবে সে দুগ্ধ পিয়ালা ?
জাতী কি ফিরে পাবে তার স্বধীনতা ?
মা কি ফিরেপাবে তার সন্তান ?
বিধবা কি ফিরে পাবে তার স্বামী ?
যারা হারাবার তারা হারিয়েছে,
আর তারা ফিরে আসবেনা।
যাদের স্বাধীনতা তারা পেয়েছে,
স্বাধীন কারীরা পাবেনা।

সমাধি

হান্নান
হে কর্ম্ বীর শনীতের কর্ণধার
আমাকে করেছ তুমি যাযাবর
বঙ্গমেলা ছেড়ে এসেছি তোমার পাশে
একবার চেয়ে দেখ কে আছে বসে
তুমিতো আর ফিরবেনা ভাবাবেগে তবু ডাকি
তোমার বিহনে দগ্ধ হৃদয় অশ্রু ভরা আঁখি
কোথায় আমার জুমি কংকন
কোথায় আমার স্বর্গ ভূবন
তোমাকে হারিয়ে সব হারিয়েছি
তোমার সমাধিতে হাত মেলেছি
তুমি সার্থক তুমি ধন্য হে মহাবীর
তোমার অশি হস্তে নিলাম উচু করে মমশীর
নাথেকেও তুমি আছ হৃদয় জুড়ে সৃত্মির মমজালে
ধরিতে অশি বিধবা হস্তে এসেছি সন্ধাকালে
মজলুমের এ আত©নাদ শুনবে জানি বিধাতা

মার্শাল দুর্গ

হান্নান
হে বিপ্লবী সৈনিক কেন বসে আছ ?
কি তোমার এতো ব্যথা ?
তুমি কি শুনেছ নিভৃত অরন্যের
সেই মার্শাল দুর্গের কথা ?
যেথায় রয়েছে উচু নিচু পাহাড়
আর পাহাড়ী বনানী।
প্রকৃতির শোভা কি যে মনোহর
দর্শনে জুড়াই মণি।।
গাধুলী লগ্নে রবীর অস্তে
বিহঙ্গের কল কাকলী,
ঝর্না ধারার সম সম তলে
ফুটছে চম্পা চামেলী।।
উচু হতে সম নীচের দিকে
বসেছে মার্শাল দুর্গ,
নিঃসঙ্গ জীবনের সৈন্য সমাহারে
সে যেন এক স্বর্গ
মর্শাল দুর্গের পূর্বে রয়েছ
বিশাল ঝর্ণা ধারা,
মাঝ খানে তার শীতল গুহা
করেছে পাগল পারা।
গরু ছাগল আর মুরগী কবুতর
আমাদের স্বর্গ মালতী
সুখে দুখে সদা পাশে থাকে তারা
হয়ে প্রিয়ার মত সাথী
হে সৈনিক তুমি কি যাবে
ঐ দুর্গ্ আমার সাথে
মুছে যাবে তোমার দুঃখ বেদনা
মর্শাল দুর্গের প্রভাতে।

নিঃসঙ্গ প্রকৃতি

হান্নান
হে সুন্দর মঙ্গল নান্দ নিক প্রাকৃতি,
তোমার বুকে লুকিয়ে আছে বিজয় ভরা স্মৃতি।
বার বার তাঁকায় তোমার সৃষ্টিতে হে প্রভূ,
ব্যর্থ্ হয়ে ফেরে আখি ভূল নাহি কভূ।
সবুজে ভরা বনানীর মাঝে ঝর ঝর ঝর্ণা ধারা,
দেখিলে দৃশ্য নিঃসঙ্গ জীবনে দেই হৃদয়ে সাড়া।
প্রকৃতি তুমি সুন্দর উপভোগে আমি ব্যর্থ,
আমার প্রিয়া যদি থাকত কাছে তবেই হতো স্বার্থ।
হৃদয় আমার ব্যকুল হয়ে বারে বারে চাই প্রিয়ারে,
বসে বসে দুজন গল্প করতাম ঝর্ণা ধারার পাথরে।
কখনো ঝর্ণায়, কখোন পাহাড়ে, কখনো বনানী মাঝে,
গোলাপের ন্যায় উধতাম ফুটে নিত্য নুতন সাজে।
হাতে হাতে রেখে ঝর্ণা ধারায় ঘুরতাম মনের উল্লাসে,
স্বর্গেরসুখ পেতাম আমি প্রকৃতির এই মানসে।
ও প্রকৃতি আমি জানি আমি মানি এ আমার জল্পনা,
ব্যর্থতা ছাড়া নহে স্বার্থতা আমার এ সুদুর কল্পনা,
জীবনের কিছু শূন্যতা কভূ কারো পুরন হয়না।

জুলুম খানা

হান্নান
আমার গল্প কথা নহে মোর কল্পনা
বাস্তব ছাড়া কখনো মিথ্যা লিখিনা
শোন পথিক শোন গল্প কথা শোন
জীবনের সন্ধাবেলা কিছু হলেও মানো
শুনেছ দেখেছ কত যে ভিখারী দুয়ারে দুয়ারে
ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে সদয় তারা ঘোরে
বিনা দাওয়াতে খায় তারা খানা মঞ্চের বাহিরে
জুরাপতি কভু করেনা তারা কাহারো দুয়ারে
এদেরকে তোমরা সবাই চিন কভু ভূলনা
আরো কিছু ফকির আছে যাদেরকে চেননা
সব থাকতেও ফকির তারা
লুটে পুটে খায় যারা
শিক্ষা তাদের পুস্তক পাতায়
শয়তানী চিন্তা সদয় মাথায়
গরীবের খানা খায় বড় মজা করে

মাংস চিবাই দেখি দম্ভ ভরে
ছোট লোকের ছোট খানায় বড় তাদের লোভ
কোট প্যান্ট টাই পরে দেই তাতে ঝোপ
গরীবের মাথায় বসে খায় তাদের খানা
ঐ জুলুমের প্রতিবাদ কেউ করেনা

কমান্ডো

হান্নান
আমরা এতিম কমান্ডো চুল ছিলা কমান্ডো
লাফ ঝাপ দিয়ে চলি দেখতে আজব কান্ড
বউ ছেলে সবাই বলে বেতন এবার কোথায় দিলে
খরচ পাতি না দিলে সবাই আমার যাবে ভুলে
ওরে ও বৌ ছেলে মোর,কি দিয়ে বাঁচাব তোর
চার টাকার এক ডিমের খোলা
দেড টাকার এক ছোট কলা
না খাইলে কাঁদার ভিতর
হবে লন্ড ভন্ড ঐ
ইষ্ট‍াপ সবাই ঈমান দারী
করেনা কেউ দুনিয়া দারী
মন্ট‍ু তারা খাবেনা
দৌড়ে আর ধেলবে না
সব কিছুই কিনবে নুতন
এ কি আজব কান্ড ঐ
অল্প টাকা বেতন পাই
তাই পকেটে পয়সা নাই

ব্যাথা ভরা

হান্নান
হা হা কার মরু ভূমী আমার হ্নদর,
দুঃখ বেদনা তাই সদা সয়ে যায়।
শ্রাবনের বৃষ্টিতে ভিজেনা এ মন,
কি করি কি করি তাই ভাবি সারাক্ষন।
অশান্তির ঝড় মনে সদা বয়ে যায়,
একূল ও কূল হারা পথ নাহি পাই।
আছে কি কেউ ধরনীতে দেবে মোরে শান্তনা,
তপ্ত হৃদয়ে ব্যাথা আর যে সহেনা।
ফুটবে কি যবনিকা আমার এ বাগানে,
সুখ কি আসবে হায় আমার এ জীবনে।
তোমাদের রঙমহলে পাবো কিগো ঠাই,
না কি এ জীবন বয়ে যাবে ব্যাথায় ব্যাথায়।
চাইনাগো চাঁদ সুরুজ আকাশের তারা,
চাই শুধু শান্তি হৃদয় ভরা।
জীবনতো চলে গেল ব্যাথায় ব্যাথায়,
সুখের স্বপ্নটারে বলো কোথায় ।

কোন সে নাবিক

হান্নান
কাল বৈশাখীর ঘন কালো মেঘ ঝঞ্জা বিক্ষুব্ধ সাগরে,
অজানা নাবিক নাও ভাসিয়েছে সেই সাগরের তীরে।
উত্তাল তরঙ্গ মহা গর্জন কূল বেয়ে দেই হাতছানী,
যেন নিমিশেই গিলিবে জীবন প্রদীপ নামবে সন্ধা শনি।
কাঁঠের নৌকায় বৈঠা হাতে নামলো নাবিক সমুদ্র প্রাতে,
উচু নীচু ঢেউয়ে বৈঠা ধরে ভাসছে দরিয়া স্রোতে।
কোথায় যাবে এ নাবিক নাই তার কোন ঠিকানা,
কোথাকার নাবিক কোথায় যাবে সবি মোদের অজানা।
ঐযে দূরে লাল সাদা শাড়ী পরে আাসছে কারা ধেয়ে,
ধরো ধরো বুলি উঠেছে আহাযারী এতো দুটি মেয়ে।
বাবা ফিরে আয় তুমি ফিরে এসো যেওনা অচিন পথে,
না হয় মোদের নিয়ে চলো আমরাও যাবো তোমার সাথে।
আব্বু আব্বু বলে ডাকছে মানিক শোন ওগো দুটি কথা,
তুমি ফিরে এসো বলোনা কি তোমার ব্যাথা।
সব আবেদন ব্যার্থ্ হলো তুফান আর গর্জনে,
সেতো ফিরবেনা আর ফিরবেনা শান্ত মনে।

মুখোশ মেয়ে

হান্নান
তোমার অব্যক্ত হৃদয়ের চাওয়া বড় দুর্লভ,
কেন নিজেকে এত উন্মুক্ত করছো?
বার বার দেখছি পতির প্রতি নাক সীটকানী,
যাকে দেখে বার বার চুলের পরিপাটি,
স্ফীত আঁখিতে বাঁকা চাহনী।
তোমার জন্য সেতো আমাবশ্যার চাঁদ,
না হয়তো দীপ্রহরের জলন্ত সূর্য্য।
তুমি কেন হাত বাড়াচ্ছ তার দিকে,
তোমার আসনের পিছে বসে ,
ছয়টা ঘন্টা তোমাকে অবলোকন করলাম।
তোমার মত আমিও দূরের পথিক,
গাড়ীতে যখন বোরখা পরে উঠলে,
তখনতো ভবিনি তুমি এমন।
যাত্রা শেষ না হতেই কোথায় গেল
তোমার বোরখা পরা সে বেশভুষা?
এখনতো পুরা বোম্বের নায়িকা সেজেছ,
কি পেলে এত খনের মন কর্মে ?
যাকে চইলে তাঁকেতো পেলেনা,
পেলে শুধু ব্যাথা কুড়ালে পাঁপ।
আর আমার চোখে হলে মুখোশ মেয়ে,
প্রভুকে ভয় না করে স্বামীকে ভয় করছো?
তাই গাড়ী থেকে নামার সময় পরছো বোরখা।
এত খোদার সাথে বড় নাফারমানী,
তোমার কি হবে আমি জানিনা,
তবে ক্ষমা চাও প্রভূর দরবারে।

নারী

হান্নান
তুমি ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা,
তুমি ভয়ংকর অঙ্গবয়ী সুতরা।
তোমার অব্যক্ত অঙ্গনী ক্ষুরধার,
তোমার ব্যাক্ত মরন সাগর।
তুমি মাখলুকের প্রশান্তি,
হাহাকার মরুকেও করো শান্তি।
তুমি বিশ্ব মানবতার হিরক খন্ড,
তুমি উচ্চ মার্গের মহা কান্ড।
তোমার শূন্যতা মানবের বেদনা,
তোমার উশৃংখল মানবতার যন্ত্রনা।
জানিনা কি শক্তি তোমার হর্মনে,
তোমারী জন্য কত অশান্তি বিশ্ব ভূবনে।
তুমি একাই হাজারকে হার মানাতে পারো,
শত সাধনাকে তুমি ধুলিসাৎ করতে পার ।

স্বার্থ

হান্নান
কি অশান্তি বিশ্বলোকে
হিংস্র হায়েনার থাবা,
স্বার্থের মহাজালে বিভোর
কোথাও নাই শান্তির জবা।
খন্ড খন্ড মাংসের টুকরায়
কুকুর যেমন করে ঘেউ ঘেউ ,
একটার ঘাড়ে আর একটা পড়ে
ঠেকাইনা তাদের কেউ।
সৃষ্টির সেরা মানব যাতী
দুনিয়াবী স্বার্থ পিছে,
একের মথায় অন্যের লাঠি
কুত্তার মত হামড়া কামড়ী,
তাদের জীবন মিছে।
শিক্ষিত বেশের স্বার্থ বাদী
ঘুরছে দেশ জুড়ে,
খুনি আসামীকে জামীন করাতে
লেগেছে উঠে পড়ে।
ভাই এ ভাই এ হামলা,
হাসে কোটের কামলা।
কখন আসবে মৎস মাথা,
খেয়ে বাঁধাবে জুটি মামলা।

বৈশম্য

হান্নান
দুটি অর্থের তাগীদে এসেছি চাকুরীতে
মান সম্মান যেন রেখিছি সব বাড়ীতে
জিম্মি কারার কয়েদী হয়ে নির্বাক নিশ্চুপ
মাঝে মাঝে মেসে বসে খায় ডালের সুপ
কত ব্যাথা কত কথা সৈনিক হৃদয় মাঝে
বড়দের যন্ত্রনা নিঃসঙ্গ বেদনা কেÑই বা তা বুঝে
বড় খানার জন্য বসেছে সবে ত্বরা
খানা সামনে দিয়ে গালী দিল হালার পুতেরা
কত পাঁপে পাঁপি আমরা জানে খোদা তালা
খানার বাসন সামনে নিয়ে শুনতে হলো সালা
তরা নব প্রজন্মের বড় বুদ্ধিজীবি নামীদামী
ধর্মের নামে মাঝে মাঝে করে বড় ভন্ডামী
রুকু সিজদা কিছুই জানেনা নিজেকে বলে বুদ্ধিমান
বাহিরে হলে আলেম মহলে হতে হতো অপমান
তারাই এখন জাতীর নেতা আসলে স্বার্থপর
নীচুদের সুখ চোখে সহেনা মনে করে এরা যাযাবর
জানি কেহই পারবেনা করতে এর প্রতিকার
সবাই এখন পরিস্থিতি আর অর্থের স্বীকার

আমাদের মত হইও না

হান্নান
আমাদের মত ক্ষুদ্র মানুষ গুলি ধরনীর আপদ,
ইহ ধারার আগমন যেন আমাদের অন্যায়।
আমরা যেন ওদের চোখের বিষাক্ত কাঁটা,
আমাদের সব কর্মই ওদের নিকট মূল্যহীন।
পৃথিবীর সমস্ত অপকর্মের জন্য যেন আমরাই দায়ী,
ওদের নিকট আমরা যেন বস্তির সন্তান।
পৃথিবীর অপমান গুলি যেন শুধু আমাদের জন্য সৃষ্টি,
রাজা,বাদশা সবাই আমাদের ব্যবহার করে।
আমরা যেন তাদের হাতের খেলনা,
যখন ইচ্ছ‍া বারুদ ভরে বাজী ফাঁটায়।
যে কালো আইনের জন্য স্বাধীনতার যুদ্ধ
হয়েছিল,সে কালো আইন
এখনো মুছে যায়নি।।
সেই আইন দিয়েই ওরা আমাদের শাসন করে,
বড় সাহেবের কুওাটাও আমার থেকে অনেক সম্মানী।
কত জন আসে আর আদর করে।।
কুওার মত সম্মান ও কি আমাদের নেই।
তোমরা আমাদের মত কুওা সেজে থেকোনা।
প্রতি বাদী হয়ে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিও।

ওরা কলংকিত

হান্নান
আমি ভীত বিহব্বল হ্ইনা্ ত্রাসের রাজনীতিতে,
আমাকে র্স্প্স করেনা কারো গর্জিত হুংকার
আমি ভয় পায়না হিংস্র হায়েনার
আমি পিছুপা হইনা অস্ত্রের ঝনঝনানীতে
আমি কাতর নহি সন্ত্রাসীর চাঁদাবাজিত
কারণ এদের পদচিন্হ খুবই খনিকের
আমি ভয় করি ঐমুখোশ পরা ভদ্রলোকের
যার অন্তরটা হায়েনার চাইতেওনিকৃষ্ট

যার করাল গ্রাসের মুখে আমার প্রজন্ম
বাঘ সিংহ হিংস্রহায়েনার মুখ থেকেও ফেরা সম্ভব
কিন্ত ঐ শয়তানের হাত হতে ফেরা সম্ভব নয়
কারণ ওতো বসে আছে শিখ্খকের মুখোশ পরে
স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরুকরে
শিক্ষার প্রতিটা রন্ধে ওদের পদচারনা অব্যাহত
ওদের থেকে কি ভাবে পরিত্রান পাবে আমার প্রজন্ম
সে কথা ভাবতে আমার লোম শিহরে ওঠে
বই বদলানো কোচিং আর অংকের সংখ্যা
বদলানোর কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ কড়ি
উনার কাছে প্রাইভেট না পড়লে ফেল
এই হুমকিতে ছাত্র অবিভাবক সবাই আজ দিশেহারা
ওদের চরিত্র হননের দৃষ্টান্ত কম নয়
তাইবলে আমি সকল শিক্ষককে আঘাত করছিনা
বাস্তবতার নিরিখে ছাত্র সমাজ আজ জিম্মি
আমরাও ছাত্র ছিলাম আমাদেরওশিক্ষক ছিল
তাদের ছিলনা কোন লোভ লালসা
মনেহতো আমরা তাদেরই সন্তান
কে রুখবে জানোয়ারবেশীঐশয়তানদের ?
রাজনীতিবিদরা আছে নেতা আর দমন নীতির
খেলায় মত্ত প্রতিহিংসার সিলেবাস ধরিয়েদিচ্ছে নব প্রজন্মের হাতে।
জানিনা কখন শেষ হবে ওদের মতিভ্রম।
ওদের জন্য ঘৃনা আর ধিক্কার ছাড়া কিছু নেই।

ভাংরে ভাং

হান্নান
ভাংরে ভাং এ বাতিল সমাজ,
কায়েম কর আল কোরানের রাজ।
বীর দর্পে আয় ছুটে আয়
ভয় নাই তোদের ভয় নাই।।
কালো হায়েনার হিংস্র থাবায়
দিশে হারা যে হয়েছে সবাই,
ইহুদী খৃষ্টানী ধর্ম নিরেপেþ আর ব্রাম্মনী,
সবার দৃষ্টি আমাদের দিকে করবে তারা অপমানী।।
আমরা মানিনা এ আইন মানিনা
আল্লাহ ছাড় কারো ভয় করিনা
মন গড়া মত বাদে বাতিল সমাজ
অধ উলংগে সেজেছে সাজ
দেরে দে বীর তোরা হায় দারী হাক,
এই তো এসেছে জিহাদের ডাক
বারুদের মত উঠরে জ্বালে,
উলংগী পালাবে কপাট খুলে,
বাতিলের সাথে নেইরে আপোষ
ধররে সব শয়তান তাপষ।
ভাংরে ভাং এ কায়তালী কারা,
মুক্ত করো মুসলীম যারা।।

বিদায়

হান্নান
উলঙ্গ সমসের হস্তে অপেþ আমি
রশি ধরেছি অশ্বের বিদায় দাওগো তুমি
কেন জ্বলছল আঁখি ওহে মোর প্রিয়
তুমি কি জাননা শহীদি মরনই শ্রেয়
আমা বিচ্ছেদের বিরহ যন্ত্রনা
সবিতো বুঝি তবু ভূল করোনা
দাওনা বিদায় জিহাদে যায়
জান্নাত তো তরবারীর নীচে রয়
তোমার আঁখিজল আর আমার বুকের রক্ত
দুজনে মিলে হবো একাকার জান্নাতে হবো যুক্ত
আমার রণ মুক্তিতে তুমি পরবে সাদা শাড়ী
তুমি অবশ্যই হবে আমার বুকের পরশ জান্নাতীনারী
দেরী করোনা বিদায় দাও ডাকছে মম সমসের
এসো আামার বুকে মাথা রাখো তুমি ক্ষনিকের
হ্যাঁ দিব বিদায় দিব খুলবো রঙ্গিন শাড়ী
সাদা শাড়ী পরে অপেþvয় বসে থাকবো তোমার বাড়ী
তুমি যাও হাতে তুলে নাও তোমার উলঙ্গ তরবারী
তোমার কলিজার টুকরাদের নিয়ে থাকবো আমি নারী

লংঘিত জাতী

হান্নান
অশান্তি আর নৈরাজ্যই যদি হয় ধরনীর নিয়ম,
তবে প্রশান্ত চিত্তে কেন লিখে ছিলে হরদম।
কোথায় তোমাদের ক্ষুরধার লেখা আর কোথায় এ সমাজ,
কাগজের পাতায় লেখা আছে শুধু হয় নাই কোন কাজ।
হে নজরুল হে রবি শোন দুনিয়ার অলক্ষ্য কবী,
তোমাদের পাঠক বড় বেইমান বিশ্বাস ঘাতক সবি।
তারা মানে নাই তারা মানে নাই তোমাদের উপদেশ,
লংঘন করেছে সাহিত্য সংস্কৃতি উপেক্ষা করেছে নির্দেশ।
মুখোশধারী ভদ্রবেশী কিছু শিক্ষিত স্বার্থা নৈশী,
তোমাদের নামে নাচ গান করে জাতীর সাথে বসি।
উপরে দেখায় মোরা কত ভক্ত তোমাদের,
ভিতরে সন্ত্রাসী আর নৈরাজ্য অন্তর তাহাদের।
জন্ম জয়ন্তী আর মৃত্যু দিবসে শুধু জপে তোমাদের নাম,
শেষ হলেই ভূলে যায় সব তোমাদের আনজাম।

পুলসীরাত

হান্নান
আখেরাতের পুলসীরাতে পার হবি যদি মুসাফির,
আগে পার হও দুনিয়ার সীরাত নইলে ব্যার্থ সব ফিকির।
আখেরাতের সীরাত নীচে জাহান্নামের ঠিকানা,
পাঁপি যত পড়বে নীচে যার দুঃখের নাই সীমানা।
চুলের মত চিকন হবে ক্ষুরের চেয়েও ধার,
কেমনে পার হবি মুসাফির সেতো বড় অন্ধকার।
এ হায়াতে অভ্যাস করো পার হওরে পুল সীরাত,
সোজা পথে চলরে মন হাতে নাও পার সওগাত।
আঁখি মেলে দেখ তাকিয়ে দুনিয়ার পুলসীরাত,
দুই দিকে তার দুনিয়ার হুরী দাঁড়িয়ে রয়েছে দিন রাত।
সুখের সম্ভার কাতারে কাতারে রয়েছে দুই কিনারে,
মাঝ দিয়ে চলেছে সীরাত জান্নাতের দুয়ারে।
দুনিয়ার হুরী আর সুখের সম্ভারে বাড়াও যদি এ হাত,
বরবাদ হবে সব আমল তোমার হবেনা কোন নাজাত।
পার হও মুসলিম দুনিয়ার সীরাত,
আখেরাতে তুমি পাবেই নাজাত।
মানব নফসো বড়ই কঠিন মানতে চাইনা কোন বাঁধা,
নারী চাই পুরুষ আর পুরুষ চাই নারী লাগে গোলক ধাঁধা।
নফসের চাওয়া নারী আর সম্পদ দমিবে যেজন ভাই,
আখেরাতের মহা সংকটে তার কোন ভয় নাই।

ফিরে এসো জাতী

হান্নান
আমি তাদেরকে ঘৃনা করি যারা ভাবে
স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছা তাই
আমি তাদেরকে ধিক্কার দেই বিধির বিধানকে যারা লংঘায়
উশৃংখল বর্ব্রZv অর্ধ্ উলঙ্গী বেহায়াপনা যদি হয় সংস্কৃতি
অশ্লীল নোংরা স্বার্থ্পর লেখায় যদি হয় জাতীর সাহিত্যমতি
তবে এমন সাহিত্যকে করি আামার অপবিত্র কুলুফের কাগজ
এরা কবী নই এরা সাহিত্যিক নই এদের মাথায় শয়তানেরমগজ
লেখকের কলম বড় আশরাফী লেখাতে হয় জাতী ধন্য
Áv‡bi মার্গে উঠবে জাতী করবে তাদের মান্য
বিংশ শতাব্দীর দংশিত পোকা ঢুকেছে জাতীর শীরে
অশ্লীলকে তারা গ্রহন করেছে আদর্শকে ভাসিয়ে নীরে
আমি এমন সমাজকে পংখিত উইপোকা ছড়া কিছু ভাবিনা
যা গধুলী লগ্নে হবে পাখির খাদ্য যার বাঁচার নাই সম্ভাবনা
ফিরে এসো হে জাতী ঐ জুলমাত থেকে আলোর দিকে
বন্ধ করো অশ্লিলতার সব দ্বার সত্য তোমাকে ডাকছে হেকে
ওরা কবী সাহিত্যিক নই ওরা ময়লা পাত্রের পঁচা গন্ধ
ওদের পিছু ধরো যদি জাতী Áv‡b হবে তোমরা অন্ধ

পাহাড়ী মেঘলায়

হান্নান
পাহাড়ী মেঘলায় ঘন দিয়া উছলায় দুকূলে নদী ভরাভর,
সঞ্চিত দীয়ারাজী মারিতেছে ধাক্কা পাহাড়ীরা কাঁপছে থরথর।
নিঃঝুম বনরাজী বর্ষার প্রান্তে,
ঝর্ণার মল্লিকা ভরে ওঠে গন্ধে।
ত্রিপুরা গাহে গান উল্লাসে নাড়ে ঠ্যাং,
মেঘলা গেলে পরে ধরবে যে কোলাব্যাঙ।
টীন হাতে আজু ভাই ফিরে আসে দুয়ারে,
দেখিয়া বুড়ি কহে চাউল নেই ঘরে।
মগ মুরুং চাকমারা দল বেঁধে চলে তারা,
তাদের ভয়ে কাঁপে পাহাড়ী শুকরেরা।
ছুটেছে হরিণ পাল নিজ শাখা নীড়ে,
বন্য মোরগেরা চলে সদা উড়ে।
বাংগালী সৈন্যরা জেগে রয় সারাক্ষন,
মেঘলার ডিউটিতে গায় তারা জয়োগান।
ম্যালেরিয়া মশা সদা উড়িতেছে বনবন ,
টিনের চালে পানি পড়িতেছে ঝনঝন।
ক্যাট ক্যাট করিতেছে শফিউল্লা হালদার।
মশার ঔষধ ছিটাওরে তোরা বার বার।
কত সৈন্য মরলোরে ভাই ম্যালেরিয়া জ্বরে,
দুঃখের মাতনরে ভাই বইছে কত ঘরে।

পারুল নানী

হান্নান
তিন দিকে তিনটি ঘর মাঝখানে ফাঁকা
সেই বাড়ী বাস করে পারুল নানী একা
দেখলে পরে মনে হয় ভাবে বড় গম্ভীর
বোবার মত থাকে সদা নীচু করে স্বশরীর
বাড়ীর মাঝে পিয়ারা গাছ ফুল ফল নাই
তার মাঝে পারুল নানী বড় ঠারে রয়
প্রত্যাশিত দিন পন্জি কাটে বড় লাজে
রং ঢং চালে নানী খুবই ভদ্র সাজে
সব থেকে দুঃখ নানীর কথার মানুষ নাই
তাইতো নানীর অহংকারে হৃদয় ফেঁটে যায়
কবীর কলমে নানী বড় অহংকারী
নারীর অহংকারে চোখে ঝরে বারী
দেবার মত কিছু নাই নানী তাই দিয়ে যাব
কবিতার মাঝে তোমার স্মৃতি রেখে দেব
করি আর্শিবাদ নানী চীর সুখি হও
নানাকে নিয়ে সুখি সারা জীবন রও
লেখনির ধারায় আছে þyদ্র কটি ভাষা
শেষ দান এটিই বড় মোর আশা

কোথা কৈফিয়ত

হান্নান
কোথায় আজ সে ধুলার তখতী কোথা আজ সে উমর
কোথায় আজ সে মানবতা ভেদী কোথা সত্যের সমর
অর্ধ্ জাহানের বাদশাহ যিনি গাছের নীচে থাকেন তিনি,
ছিল না যাহার কোন প্রহরী একা থাকতেন যিনি,
বাদশা হয়েও ছিলনা যার বিদ্বেশ ওহিংসা,
প্রতিদানে আজ ইতিহাস তার করেছে প্রশংসা।
এই জাহানের জালিমেরা করে জুলুম বাদশাহী,
কলুষিত চরিত্র নিয়ে,সাজে সাহান শাহী।
উমরের শাসনে সাধারণ মানুষ দাড়িয়ে হে উমর
কোথায় পেলে এত বড় জামা করো তার উত্তর।

কোথা সে মানব

হান্নান
ব্যাথাভরা কাঁন্না হৃদয় জলছে যেন সরাক্ষন,
আর কত সইবো যাতনা রিক্তহস্ত এ জীবন ।
হৃদয়খানি ভাংচুর করে বিলায়েছি আঁখিজলে,
শুনবে কে সে কাঁন্না আমার সবাই মোরে পাগল বলে।
ঘুরে ঘুরে চাই কোথা নাহি পায় একটি অতি মানব,

দুদিন গেলেই পরিচয় মেলে এত মহা দানব।
ওগো মাতৃ গর্ভের পবিত্র শিশু এসেছ ধরাধামে,
কোথায় পেয়েছ এ তিক্ত জীবন চলছো তুমি কোন নামে।
ভেবেছিনু আমি তুমি অতিমানব বলবো দুটি কথা,
পরে দেখি তুমি নও সে মানব যে বুঝবে আমার ব্যাথা।
তবে কি পাবনা এ শূন্যধামে একটি অতি মানুষ,
যার আদেশে গড়বো জীবন থাকবে সদা হুশ।
ভাবতে অবাক লাগে আমরা কি ধরনীর শেষ প্রান্তে,
তবে কেন মোরা সত্যকে পারছিনা মানতে।
কি হিন্দু কি খৃষ্টান কি বৌদ্ধ কি মুসলমান,
সবাই ভূলে চলেছে নিজ ধর্মের ফরমান।

নরপশু

হান্নান
দু পায়ে দাঁড়ানো লোকটিকে দেখে
তুমি কি বলবে ওটা মানুষ
একবার আত্ম দর্শনে দেখো
পশুত্বের সব আচরণ ওর বিদ্যমান
ওর þyav যৌনাচার হিংস্রতা সবই যদি
ভারসাম্যহীন পশুর মত হয়
তাহলে সে আর পশুর পার্থ্ক¨ কোথায়
এ ধরনীর যে ধারক আছে
মানব সৃষ্টির যে রহস্য আছে
কূল মাখলুকের যে শ্রেষ্ঠত্ব আছে
এই হিতাহিত জ্ঞান যার নেই
তুমি কি তাকে মানুষ বলতে পারো
শোন মানুষের বেশধারী কিছু নরপশু আছে
তাদেরকে মানুষের আবয়োবে দেখা যায়
তুমি তাদের পাশে যেওনা
হায়েনা অথবা বিশাক্ত সাপের চাইতেও তারা হিংস্র
একবার যাকে দংশন করবে মৃত্যু তার অবধারিত
আমি জানিনা তবুও কেন গোটা জাতী
তাদের পিছে দুর্ব্vর গতিতে ধাবমমান
নিমিশেই তলিয়ে যাবে ধ্বংসের অতল গহ্ববরে

ঝরা বাগানে

হান্নান
দুটি নয়ন ভরে অনেক্ষন তাঁকিয়ে দেখলাম,
কত মল্লিকা গোলাপ ফুলরাজীর শোভা।
মনে হলো কত সুন্দর মনোরম দৃশ্যের ছবি,
ভাবলাম এতো চৈতালী দুপুরের ঝরা রোদে হবে বিলীন।
থাকবেনা তার কোন শোভা,
তখন আর কেউ তাঁকে এমন করে দেখবে না।
শুধু সার গর্ভে থাকবে গাছের ডালাগুলি,
যা দুদিন পরেই জ্বলবে কৃষানীর চুলায়।
কোথায় আজ সে শোভা কোথা মায়াবী দৃশ্য,
যার পাশে বসে ষোড়শীরা বলত কথা ।
কত আনন্দে ভর পুর ছিল সে দিনের বাগান ,
কৈ কোথায় সে বাগান কোথায় সেই ক্ষন লগ্নটি?
কোথায় সেই আনন্দ ঘন মুখর কলরব দৃশ্য,
জানি থাকবে না তবু থাকবে না রবে শুধু স্মৃতি জ্বালে।
তুমি অপেক্ষায় থাকো আবার বাগান হয়ে যে দিন ফুলফুটবে,
সে দিন তো আর আজকের মতো হবে না।

পাগলা চোরা

হান্নান
ওরে ও পাগলা চোরা অন্তরে তোর মোহে ভরা,
আর কত করবি চুরি লোক চক্ষুর আড়ে তোরা।
শরীর ভরা মুখোশ পোশাক,
অন্তরে তোর শয়তানী ফাঁক।
তন্নী তরুনী দুনিয়ার হুরী,
চলে যত রাস্তার পরী।
চোরা চোখের চাহনীতে ভক্ষিলী তুই অন্তরেতে,
কি জবাব দিবিরে তুই অন্ধকার কবরেতে।
ঠকবাজে ধান্দাবাজে ভরপুর এ ধরনী,
আখেরাতে তোদের ওরে নাই কোন তরনী।
বলো বলবো ভালো কারে,
সবাইতো কথা বলে ঠারে।
খোজে সবে ফাঁকীর ফাক,
আসবেরে একদিন মরনের ডাক।

সৈন্যের দাম

হান্নান
সৈনিক সেত চীর দুর্বার মানবতার উর্ধে,
উত্তাল তরঙ্গ সম ভ্রাতৃত্ব যাদের সোহার্ধে।
বিহঙ্গের ডাকে সাড়া দিয়ে তার জেগেছিল রনাঙ্গনে,
অকাতরে তারা দিয়ে ছিল প্রান দিন করেছে গুজরানে।
কোথা আজ সেই একতা কোথা আজ স্বাধীনতা,
সব ভুলে আজ ধরেছি বিলাশিতা।
নয় কোটি মানবের সিক্ত রক্তে এসেছিল স্বাধীনতা,
বাংলার জমিনে ভর পুর আজ যত শয়তান সন্ত্রাসী হোতা।
কেউ বা ঘুমায় অট্রালিকায় কেউ বা গাছের তলে,
ক্লান্ত সৈনিক রাস্তায় ঘুমায় বুট নাহি খোলে।
ওহে স্বাধীনতা জননী জননী মাতা মোরা তামারি সন্তান ,
তুমি কি পারোনা দিতে অধিকার সবেরে সমান ।
তোমার বুকের ছোট্ট শিশু সেও গাই তোমার গান,
তোমাকে ভাল বেসে কেও আবার হয় শুধু অপমান।
সোনার বাংলাতে কভু নাই আজ সৈনিক মমতা,
স্বার্থের তরে পড়েছে তারা সৃষ্টি হয়েয়ছে বৈরিতা।
ন্যায়ের কথা সত্য ডাকে সবে উছলায় ঠোট,
কেউবা করে শয়তানী পরে স্যুট কোট।

বারেক মিয়া

হান্নান
মানুষ নামের কত মানুষ দেখলাম আমি ভবে
বারেক মিয়ার মত মানুষ আর দেখিনিও কবে
বারেক মিয়া নামটি তার বাড়ী কুমিল্লায়
দেখতে পোষা খাশীর মত বড়ই রাগী ভাই
চলন বলন অতি বাঁকা কথা কয় ঠারে
কথার মাঝে কটু কথা বলে যারে তারে
তার কথায় সাই দিলে ভালবাসে তারে
এখানকার সব মানুষ ভয় পাই তারে
এক বিকালে বারেক মিয়া মদ খেয়ে ঢোলে
মদের নিশাই বারেক মিয়া ছুটির কথা বলে
রাতে দেখি বারেক মিয়া ব্যাগ নিয়ে ভাগে
চুপি সারে কলা বাগানে শিয়াল তার আগে
কদিন পরেই বারেক মিয়া ফিরে এল ভাই
ফিরে এসে মিলিটারীর জেলখানাই যায়
জেল থেকে ফিরে বারেক বোবার মত থাকে
দুঃখের কথা কাঁদতে কাঁদতে বলে যাকে তাকে
একযুগ পরে দেখি বারেক মিয়ার ভাব

বিদেশ যাবে নাই এখন তার খুশির অভাব
বিদেশ গিয়ে বারেক মিয়া করে তম্বি গম্বি
তিনমাস পরেই বারেক হার্ট্এ্যাটাকে লম্বি
দেখলে পরেই বরেক মিয়া দোয়া সদা চাই
মনে হয় তার মত অসহায় কেউ নাই

আমি সংগ্রামী

হান্নান
এসেছি আমরা সাগর পেরিয়ে সূর্য্যের সন্ধানে
নিস্তার নেই ধরবো তারে দেখবো সে কেন লাল
সে জালিয়ে দিয়েছে তাহযিব তমদ্দুন সে কে ?সন্ত্রাস।
আগুনের লেলিহান শিখা জালিয়ে কোথাই এসেছো
ভেবেছ পাবেনা পারবেনা নিতে সে প্রতিশোধ
আজ আমাদের মুখে বাঘের হুংকার রক্তের তৃষ্না
মিটাবো সে তৃষ্না তোর বুকের তাজা রক্তে
যাদেরকে নিঃস্ব পরাধীন করেছ
তাদেরকে চেন তারা কারা ?
চোখ মেলে দেখ তাদের শেষ রক্ত বিন্দুর হুংকার আমরা
আজ নিস্তার নেই সংগ্রাম তোর পথে রুদ্ধ
কোথাই পালাবী এইতো সেই শেষ সীমানা
যার অপেþvয় থেকেছি এতদিন
পারবিনা যেতে পারবিনা বেজেছে তোর মৃত্যু ডঙ্কা
খোদার আদেশে নেমে এসেছে আজ্রাইল
অপেþvয় আছে মানবের তৃষ্নায়
না না তুই অপবিত্র তুই কুলঙ্গী
তোকে মারবোনা তোকে ছেড়ে দিলাম
তোর বিচার করবে মহান বিধাতা

শূন্যহাতে

হান্নান
কত যে আশা কত যে বেদনা ঘূর্নমান পৃথিবীতে,
আসা আর যাওয়ায় ধর্ম আমাদের মহা ধরনীতে।
ইহধামে চলার পথে তবু কি যেন ফেলে যায়,
ফিরে এসে আর পারিনাকো নিতে মৃত্যু বলে আয় আয়।
ফেলে গেলাম কি মুক্তা হীরা না শূন্য কৌটা রাশি,
সময়তো নেই আর ফিরে দেখার বাজবে মৃত্যু বাশি।
শূন্য হাতে এসেছিলাম সঞ্চয় করলাম মুঠি ভরা,

নাহি করিলাম ভোগ ও বিলাশ গেললাম অতি ত্বরা।
কিছু না দিয়েই চলেগেলাম শূন্য আমার বানী।
চলে যাবে তুমি থাকবেনা কিছু থাকবে একটি ধন,
সত্য ন্যায়ের নিশান হয়ে রাখো যদি মানব মন।
তোমাকে সেদিন চিনবেনা কেহ চিনবে তোমার নাম,
ধরনীর বুকে কখনো করোনা ক্ষমতার অভিমান।
নস্যাৎ হয়েছে রাজ রাজাধী নস্যাৎ হবে এ পৃথিবী,
রঙ্গমঞ্চ দুদিনের শুধু তাও ছেড়ে চলে যাবি।

রাজভিখারী

হান্নান
কেউ কি জানত আজকের রাজা কালকে হবে ভিখারী,
অশান্তির দাবানল দাউ দাউ জালাবে রাজ্য পূরী।
আনন্দ উল্লাসে ভরা দরবার কঁচি কাঁচার আসর,
বহুত ত্যাগের বিনিময়ে গড়া জীবনের শেষ বাসর।
মনে হয় যেন আসবেনা কোনদিন অশান্ত দুঃখের ছায়া,
সবাই থাকবে মমতার বন্ধনে কেউ ভূলবেনা কারো মায়া।
কিন্ত এ কি ঘন মর্মর হাহাকার বেদনার হাক,
যুদ্ধ যুদ্ধ রবে সৈন্য সমারোহে দিচ্ছে যেন ডাক।
লাল সাদা কুত্তা বেঁধেছে জুটি রাজার দরারে আসছে ছুটে,
রাজার রাজ্য ধ্বংস করে রাজ্য নিবে হাতের মুঠে।
কড়কড় রবে মারছে কামান উপরে ফেলছে বোমার বিমান,
তান্ডব লীলা বড় মর্ম বেদনা রাজ্যের সবে পেরেশান।
কোথায় যাবো কোথায় যাবো বাঁচাও বাঁচাও ধ্বনী দরবারে,
রাজার মুখে পালাও পালাও আর থেকোনা ঘরে।
নিমিশের ভিতর ছিন্ন হলো জীবনের যত বন্ধন।
ভিখারীর বেশে পথে পথে তারা করিতেছে আজ ক্রন্দন।
হায়রে বিধির লিখিত বিধান এই কি রাজার কপাল,
কোথায় রাজার আপন জনেরা কেউ জানেনা হাল।
গতকাল যেখানে ছিল রাজার রাজ সভা,
আজ সেখানে জলছে হায়রে আগ্নেয় গীরীর লাভা।
ছিন্ন ভিন্ন হলো রাজপরিবার নাই কারো ঠিকানা,
ওরা রাখবেনা ওরা রাখবেনা রাজার কোন নিশানা।
ছদ্দবেশে রাজা এখন অচীন গীরি গোহায়,
মত্ত হলো কিছু সাথি এখন অর্থের নেশায়।
কহিল কুত্তাদের রাজার গোপন খবর,
এবার দিবে তারা রাজার কবর।
খড়গ হস্তে কুত্তা সরদার মুখে শয়তানী হাসি,
নির্মম ভাবে রাজাকে দিল তারা ফাঁসী।
হে বিধি এ কি তোমার নিয়তির নির্মম পরিহাস,
মানব জাতীর জন্য এ যে শিক্ষার এক ইতিহাস।

তাই কবী বলে,
এপার ভাঙ্গে ওপার গড়ে এইত নদীর খেলা,
সকাল বেলার ধনীরে ভাই ফকীর সন্ধাবেলা।

কাপুরুষ

হান্নান
এনেছ দুর্বার স্বাধীনতা স্বীকার করেছ স্বাধীন
অর্থের তরে স্বীকারী সেজে হয়েছ কেন পরাধীন
তোমরা নাগরীক নও নগরের আবজ©না
তোমাদের অধিকার তোমাদের তরে শিখেছ তোমরা সবে
করুনার ছলে কঢ়জোড় করে তোমরা কেন রবে
ভীত কি এত অর্থের তরে
স্বাধীনতার জয় তোমরা সকলেই রেখে যাবে
পাহাড়ের মত দাঁড়িয়ে রবে শত্রু সেনার আগে
কিন্ত পারবেনা তোমরা পারবেনা
অর্থ্ ভোগীর নেশাই তোমরা বিলিয়ে দিয়েছ প্রাণ
বাজবে যেদিন রণ ঘন্টা সে দিন হবে অপমান
আসবেনা সেদিন জয়
নিজের স্বথকে হাসিল করতে করছে যারা উপাসনা
হারাবি যে দিন স্বাধীনতা বুঝবি কি তার যন্ত্রনা
বুঝিবেনা এখন তা
প্রাপ্য অধিকার তা ও নিতে করতে থাক ভয়
এভাবে থাকলে এই জাতির কখনো হবেনা জয়।।

রুগ্ন সয্যায়

হান্নান
পড়েছি আজ ঘোর বিপদে কোথায় আমি একাকী
শূন্য হিয়াতলে শায়িত কেন কি যেন আমার বাকী
আমি কি নির্বোধ আমি কেন বুঝিনা কোথায় আমার রজনী
অবি নশ্বরে কখনো ভূলবোনা তুমি আমার সোনা মণি
রোগীদের দর্শনে আসে কত জনের প্রিয়ারা
তুমি আজ দূরে অনেক দূরে তবু কল্পনাতে মনভরা
মনে হয় বার বার মনের গভীরে লুকিয়ে আছ তুমি
প্রিয়া নাম ধরে রোগের বিছানাই ডাকছি শুধু আমি
তুমি কেন আসনা কেন পাশে বসোনা মনে কি করেছ ছল
তবে কেন দেখতে আসনা আমায় হয়েছ কি তুমি পাগল
বিপদের মাঝে পাইনি তোমাকে তাই বলবো দুটি কথা
মনের মানুষ কাছে গেলে হায় ঘুচে যায় সব ব্যাথা
কল্পনাতে কপালে বুলিয়ে দিচ্ছ নরম দুটি হাত দিয়ে
জলভরা দুটি চোখ যেন প্রিয়ার গেছে সাগর হয়ে

প্রেমের ফুল

হান্নান
বারে বারে মনে হয় প্রিয় তোমার কথা
হৃদয়ে কেন ভাসে সদা নিঃসঙ্গতার ব্যাথা
কত যে কথা বলেছিগো প্রিয় তোমার ছোট্ট নীড়ে
তোমার মত কাউকে দেখিনা হাজার মানুষের ভীড়ে
দগ্ধ হৃদয় ডাকে বারে বার তবু আসনা তুমি

যদি না আসো হৃদয়ে আজ কেমনে বাঁচবো আমি
জানিনা প্রিয় কেমনে এসছি তোমার বাসর ছেড়ে
হৃদয়ের সকল প্রেম প্রিয় তুমি নিয়েছ কেঁড়ে
বলেছিলে তুমি আমার পাশে রবে চীরদিন
হয়োনা নিষ্ঠুর প্রেম লীলাতে তাহলে পাবেনা কোনদিন
শূন্য ঠোটের হাসিতে প্রিয় ঝরে পড়ে প্রেম মুকুল
দূরে থাকলেও মনে হয় রজনী আমার প্রেমের ফুল

বাঁধন কেঁটে

হান্নান
আমি রাজ পথের বীর পথিক ,
আমার পথ খুলে দাও।
আমি নির্যাস সমারোহের বীর সৈনিক,
শোনিত ধারা রক্তয় আমার জীবন,
সে জীবন আমাকে বিলাতে দাও।
আমি শত্রু ক্রয়িত রক্তের বিভিশিখা ,
সে ঋন আমাকে শোধিতে দাও।
দাও দাও অমাকে যেতে দাও।
ঐ যে বেজেছে রণ ঘন্টা ,
ছুটে আসছে শত্র সেনা,
লয় হয়ে যাবে জীবনের জয়,
নিভে যাবে আসার প্রদীপ,
সে দীপ আমাকে জালাতে দাও।
আমি পরাজয়ের নই আমি বিজয়ের,
সে বিজয় আমাকে ছিনাতে দাও।
আমি জানিনা আমি বুঝিনা প্রেম ভালবাসা,
আমার বুকে নাই কোন মায়া মমতা।
আমাকে যেতেই হবে রনাঙ্গনে,
যুদ্ধ করবো শত্রু সনে।
আমি মানবোনা আজ কোন বাঁধন,
আমাকে যেতে দাও আমার পথ খুলে দাও।
আমি সিংহের হুংকার,
আমি রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
বুকে আমার শত্রু রক্তের তৃঞ্ষা,
সে তৃষ্না আমাকে মিটাতে দাও।
আমি সূর্য্যের তেজ দিপ্তি,
জালাবো শত্রুর সব ভিত্তি।
ডুবিয়ে দেব রক্তের রণাঙ্গনে,
সেখানে আমাকে যেতে দাও।

তুমি আসলেনা

হান্নান
তুমি বলেছিলে আসবো তোমাকে দেখতে
তা তুমি আসলেনা
দুটি জানালা খুলে চেয়ে ছিলাম প্রত্যাশাতে
জানিনা কোন কারনে কথা রাখলেনা
আমি হাসপাতালের বিছানায় বসে দিন গুনি
শুধু থাকি তোমারী অপেক্ষায়
মজলুম বেশে কত জনের মুখে কত কথা শুনি
ওদিকে ডাক্তার এসে ধিক্কায়
বসে আছি কখন তুমি আসবে
কখন পাশে এসে বসবে
কখন আমাকে ভালবাসবে
কখন কপালে দুহাত বুলাবে
কখন সঙ্গপনে বলবো দুটি কথা
যাতে মিটবে জীবনের ব্যাথা
হৃদয় হবে প্রশান্ত চিত্ত
গড়বে এক প্রেমের বৃত্ত
এসব আমার কল্পনার জাল
এভাবে কাটে সকাল বিকাল
মন যে আমার আর মানেনা
কৈ এখনোতো তুমি আসলেনা

হঠাৎ হজুর

হান্নান
অল্প বিদ্যা ভয়ংকারী কথা মিথ্যা নয়,
ধর্মের নামে কিছু লোক অল্প বিদ্যা লই।
অল্প বিদ্যা পেয়ে মুর্খ্ ভাবে বড় জ্ঞানী,
এই জ্ঞান নিয়ে মুর্খ আবার হয় অভিমানী।
ফতুয়া মারতে থাকে সদা ডানে বামে,
যত বদনাম করতে থাকে আলেমদের নামে।
ফাঁকীবাজ ধোকাবাজ আরো ছিল টেন্ডার বাজ,
সরাজীবন ব্লাক করে পরেছে এখন মুল্লা সাজ ।
হাব্বা জুব্বা গায়ে পরে বড় একটি দাতন নিয়ে,
মারতে থাকে ডাইনে বামে কাঁধে একটি রুমাল দিয়ে।
পানি পড়া তেল পড়া আরো দেয় দোয়া দাওয়া,
অর্থ পেলে ভুলে যায় ধর্ম্ আর নাওয়া খাওয়া।
লুচছা বদমাইস পাড়ার বড় খবিস শয়তান,
সবার সাথে সে করে সদা কলতান।
আড়ে আড়ে চায় সদা তন্নী তরুনী দেখে,
মাঝে মাঝে মুচকী হাসে গালে হাত রেখে।
গায়ে আগুন ধরে তার দেখলে পরে আলেম,
আলেমদের বদনাম করে ঐ জালেম।
অলিতে গলিতে সদা করে গুজুর গুজুর,
সাবধান হও সবে হতে হঠাৎ হুজুর।

নূরানী ওয়ালা

হান্নান
শীতপূর্বের রোদ্রটা যখন মাথার উপর আসে
বড়ই তী² লাগে তার আলোক ছট্টার রশ্মি
কিন্ত মনের চাওয়া আর পা তো থেমে থাকবেনা
কোরবানীর ছুটিতে স্বপরিবারে গেলাম জাফলং
বিধাতার নৈস্বর্গীক লীলাভূমির এক পদচিহ্ন
পাথর প্রবাহমান পানি আর প্রকৃতি সবাই যেন
বিধাতার একত্ববাদের সাþ¨ বিলিয়ে বেড়াচ্ছে
হাজার হাজার দর্শ্নvর্থীদের মাতোয়ারা মন
আর সাঁতার কাটার দৃশ্য এক লীলাঙ্গন
কালের সাþx হয়ে দাঁড়িয়ে আছে
জিরোপয়েন্টের সেই বড় পাথরটি
তারÑ ই চতুরদিকে রাজ সভায় বসেছে
ছোট ছোট বিচিত্র রংঙের পাথর গুলি
মহাশইকে মাঝে নিয়ে যেন ঘোষনা করছে
বিধাতার পবিত্র নামের মহিমা কীর্ত্ন
দু দেশের মানুষকে যেন বলছে
মেতনা কোন জিঘংশায় আমাদের মত
মিলে মিশে এক হয়ে থাকো
গোটা পরিবার ক্লান্ত আর পরিশ্রান্ত হয়ে
শেষ করতে যাচ্ছি জাফলং দর্শ্ন ভাবলাম
বাসাথেকে আনা কাচ্ছি বিরানীই খায়
বার আউলীয়ার দেশের মানুষতো
তাদের আদলেই গড়ার কথা কিন্ত না
বদলে গেল সব ধারনা
কোথায় বসে খানা খাবো ভাবছিলাম
রজনী বলল চলো ঐ হোটেলটাতে যায়
ইচ্ছা না হলেও নুরানী চিহারাধারী লোকটিকে
হোটেলে দেখে নিরাপদ মনে করে ঢুকলাম
মুখে অনেক লম্বাদাড়ি গায়ে পান্জাবী মাথায় টুপি
ফর্সা মানুষ হোটেলে গিয়ে বসলাম কিছুই বললনা
বিরানীর বাটি বের করে খেতে যাচ্ছি তখন এসে
বলল আমাদের এখানে বাহিরের খানা খাওয়া নিষেধ
আমি বললাম ভাই এটা আমার বাড়ীর খাবার
বলল এখানে বসে খানা খেলে একশত টাকা টেবিল
ভাড়া দিতে হবে হাজীন তামাশা এমনতো দেখিনি
বললাম ঠিক আছে তাই নিবেন
নূরানী অলাকে দেখে ছেড়ে ছিলাম নিঃস্বাস
ভালাম কি আর হলো কি কারে করবো বিশ্বাস
এমন দেখে হঠাৎ কাউকে বিশ্বাস করোনা

আমার মত কেউ যেন আর ভূল করোনা

জিকির

হান্নান
পুশু পাখি তরুলতা সবাই বলে আল্লাহু আল্লাহ
মানুষ হয়েও তুমি কেন সেই আল্লাহর জিকির করনা
আল্লাহু আল্লাহ আল্লাহু আল্লাহ
গাড়ি বাড়ি সুন্দরী নারী থাকবেনা তোর টাকা কড়ি
দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবী কবর হবে আসল বাড়ি
সেই কবরের আযাব থেকে বাচার চেষ্টা করোনা
আল্লাহু আল্লাহ আল্লাহু আল্লাহ
কিছুইতো নয় তোমার আমার কূল কায়েনাত সবিযে তার
মহব্বতে ভক্তি ভরে কেন সেই আল্লাহর জিকির করোনা
আল্লাহু আল্লাহ আল্লাহু আল্লাহ

মাটির খাঁচা

হান্নান
তোমরা কাঁদছো যাকে সামনে নিয়ে,
সে তোমাদের কেহ নয়।
সেতো শুধু মাটির খাঁচা,
আসল যে সে দূরে রয়।

আমরে রব্বী ছিল ভিতরে,
তাই ছিল তার বাহাদুরী।
আত্মাগেল দেহ মরলো,
তাই ছাড়লো দুনিয়াদারী।
ভবের ভূবনে বাস করে,
কাঁদিসনে আর মাটি নিয়ে।
তোকে নিয়েও কাঁদবে একদিন,
ভয়ংকর ঐ কবরে গিয়ে।
দেহের খোরাক দিলিরে তুই,

দিবানিশি অকাতরে।
আত্মার খোরাক দিলিনারে,

একবরো তুই কোরআন পড়ে।
দেহের জন্ম দুনিয়াতে তাই এই দুনিয়ার খাদ্য ভোজে,
আত্মা আসে আলমে আরওয়াহ হতে,
তাই খাদ্য যে তার মাহফুজে।
কোরআন পড়ো জিকির করো,
তাজা রাখো আত্মারে।

সুখ পাবে শান্তি পাবে,
এ জীবন গেলে পরে।
জীব আত্মারে সংহার করো,
পরম আত্মা তাজা করো।
অন্তরের চক্ষু মেলে,
খোদার আলম ভ্রমন করো।

লেখাপড়া

হান্নান
লেখাপড়া শিখে যদি ভাল নাহি হয়,
তার মত অধম আর কে আছে ভাই।
লেখাপড়া শিখে সবে হও বুদ্ধিমান,
জাতীর অগ্র সীমায় হও আগোয়ান।
লেখাপড়া শিখে তুমি ন্যায়ের প্রতিক হবে,
কলমের মাইর পেঁচে ধোকা নাহি দিবে।
মানুষকে বাসবে ভালো প্রান খুলে,
সবাই করবে দোয়া উপকার পেলে।
বড়দের সম্মান করবে ছোটদের আদর,
তাহলেই বাড়বে তোমার শিক্ষার কদর।
সন্ত্রাস মস্তান গুন্ডা না হবে,
ইহধামে এরা বলো বড় হলো কবে?
পিতামাতাকে যেন কভু ভূলনা,
তাদের কাছে আছে তোমার অনেক দেনা।
শিক্ষকের কদর করো পাবে যেখানে,
তাহলেই শান্তি পাবে ভূবনে।
অসৎ ছেলেদের সাথে কভু ঘুরনা,
তাহলে কোনদিনও জ্ঞানী হবেনা।
জ্ঞানীকে করিবে তুমি সদয় সম্মান,
তাহলেই হবে তুমি অতি মহিয়ান।
জ্ঞানীর কদর জেনো নাই যেখানে,
জ্ঞানী জন্মাবেনা কভু সেখানে।

পিতামাতা

হান্নান
পিতৃ আদর আর মাতৃ স্নেহে
সন্তান হয় মানুষ,
পিতা মাতাকে ছাড়িয়া কভূ
হয়োনা কেউ বেহুশ।
শীতের নীশিথে আঁচলে মুড়িয়ে
স্ব যতনে রাখে সন্তান,
আদরের রত্ন কহিয়া কহিয়া
করে কত অভিমান।।
বড় হয়ে শিশু হবে কত কিছু
পিতা মাতা করে আসা,
ভূলিবেনা কভু সকলের উধে,
তাদের ভালবাসা।।
আকাশের কোলে মেঘ হাসিলেই
পায় যে মা দুঃখ,
বাছারে আমার কোথায় তুঈ
আয় দেখি তোর মুখ।
ভূবন কর্তা আর মহামানব পরে
তাদের করি সম্মান,
যাদের জন্য এসেছি ধরনীতে

সবার আগে তাদের নাম।।

হে প্রভু

হান্নান
ভাসিয়েছি পাঁপী ভেলা তোমার প্রেম দরিয়ায়,
রহমতের বৈঠা দিয়ে কিনারে না ও আমায়।
আমি অধম পাঁপী বান্দা বৈঠাহীন মাঝি ,
ডাকিতেছি অকাতরে গোনাহ গার সাজি।
রহমান রাহিম তুমি ছাত্তারো গফফার,
রহমাতের বৈঠা দিয়ে নাও কিনারে আমার।
আসর গেল মাগরীব গেল এখন রাতো হবে ভারী,
তোর রহমতের দরিয়াতে রাখব কোথায় তরী ।
আমি অন্ধ লুলা ল্যাংড়া চিনিনা তোর ঘাট,
আসমান জসিনে তোমার মত নাইত কোন লাট ।
তোমার রহমতের মারেফাত জালো আমার বুকে,
রহমতের দরিয়ায় ভেসে যেন চিনতে পারি তোকে।
প্রেম দরিয়ায় পাপির ভেলা ভাসছে তালে তালে,
মাঝ দরিয়ায় যেন না পড়ে শয়তানের জালে।
হকিকতে আহাম্মদী নামের তলোয়ার দাও মোরে,
মারেফাতের শয়তান দেব ধ্বংস করে।
ক্ষমার খাজানা প্রভু মোরে করো দান,
তোমার মত নাই কোন রহিম রহমান।

নেই জীবনের জয়

হান্নান
কে বুঝবে এ নির্ম্ম পৃথিবীর তৃষ্না,
যেখানে বহে শুধু হা হা কার কাঁন্না
, মর্মর বেদনার সুর কে বুঝবে এই সুর?
যেখানেই যায় সবাই করে শুধু দুর দুর।
রাজ প্রাসাদ থেকে বস্তি পর্য্ন্ত,
শুধু তৃষ্না ক্ষুধা আর প্রত্যাশা।
প্রবাহমান নদীর ন্যায় ধেয়ে আসছে সাগরে,
অতল গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে জীবন তরী,
ডুবু ডুবু হয়ে ভাসছে প্রানের ক্ষুদ্র ভেলা।
কৈ খুজে পাইনা কোন কূল কিনারা।
শুধু প্রত্যাশা আর বাঁচার তৃষ্ণা,
জীবন নিয়ে খেলছে যেন তাশের খেলা,
শেষ কি হবেনা এ খেলা ফিরবেনা ঘরে?
মনে হয় যেন মহাসমারোহের ঘন্টা বেজেছে,
রণাঙ্গনে ছুটছে সবে জীবন বাজী নিয়ে।
কে শত্রু আর কে মিত্র সব ই অজানা,
ছুটেছে সবে অজানা পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে।
জানেনা কোথায় সমাপ্তির রেখা,
শুধু অজানা অচেনা প্রত্যাশায়।
দিন গুনছে পথ চলছে নাই ক্লান্তি,
মনে হয় নাই জীবনের কোন শ্রান্তি।

তোমার ছোট্ট ভূবন পরে

হান্নান
তোমার কাজল পরা আঁখি দিয়ে
দেখো আমায় যতন করে
খুজবে কে আর এই ভূবনে
আমার মত নামটি ধরে
স্বর্গ্ ছায়ায় দেখি আমি
তোমার ছোট্ট ভূবন পরে
হারিয়ে যে যায় আড়াল হয়ে
þনিক সময় যাবার পরে
নামটি বুকে ডেকে ডেকে
খোজ কেন এমন করে
হারিয়ে যায় যদি ভূবন পরে
রবে কে আর তোমার ঘরে
ডেকোনা আর অশ্রু ফেলে
দেখা হবে মরন পরে

জীবন সংকুল

হান্নান
জীবন সেতো এক উচ্ছাস তরঙ্গের লীলা,
কোথা থেকে কোথা চলে যায় দূরদূরান্তে।
নিমিশের মধ্যে মুছে যায় ঐ কান্তিক স্বপ্ন,
জীবন সেতো সমুদ্র সৈকতের গধুলীর আনন্দ।
যা শেষ হয়ে যাবে সন্ধার আগমনে,
শুধু রেখে যাবে আনন্দের দুটি পদচিহ্ন।
জীবন সেতো বসন্তের কোকিলের কুহু কুহু ডাক,
যা শেষ হয়ে যাবে গৃষ্মের আগমনে।
উজাড় করে নিয়ে যাবে অতিতের অনন্দ গুলি।
মনে হয় এ যেন ডাক পিয়নের প্রত্যাশিত পত্র,
যা একবার পড়লেই শেষ হয়ে যাবে মনের আবেগ,
আবার থাকতে হবে এই দিনের প্রত্যাশায়।
এই নিঃঝুম নির্মল জীবন শুধু স্বপ্ন দিয়ে ভরা,
যা বাস্তবতার নিরিখে শুধু স্বপ্নই।
আঁখি দুটি বন্ধ করলে দেখা যায় দুঃখের তরঙ্গ,
তবু কেন মানুষ বাঁচতে চায় এই স্বপ্ন নিয়ে?
হ্যাঁ চাবে শুধু চাবে কিছুই দিবেনা এ জীবন,
উজাড় করে নিয়ে যাবে রেখে যাবে শূন্য হাত,
এ নিয়েই জীবন এ নিয়েই স্বপ্ন,
যত প্রেম বিরহে ভরপুর তবু শূন্য এ পৃথিবী।
জীবন সেতো পাহাড়ে ফোঁটা মল্লিকা ফুল,
না জানি কখন ভেসে যাবে ঝর্ণায়,
নিঃশ্ব হয়ে মিশে যাবে সমুদ্র গর্ভে।

প্রিয় বাংলাদেশ

হান্নান
জল তরঙ্গের দেশ মোদের শিশির ভেজা দেশ,
রণ তরঙ্গের দেশ মোদের রক্তমাখা দেশ।
স্বর্গে ঘেরা দেশ মোদের প্রিয় বাংলাদেশ।।
এই দেশেরী মায়ের মুখে যখন দেখি হাসি,
উল্লাসেতে বেজে ওঠে ভাঙ্গা বেনুর বাশি।
উষ্ণ হাওয়ার দেশ আমার প্রিয় বাংলাদেশ।।
আকাশ ভরা চন্দ্র তারা দেয় আমাদের আলো,
দুঃখ যে পাই যখন দেখি মুখটি মায়ের কালো,
মায়ের মুখে ভেসে ওঠে ছোট্ট সোনার দেশ।
কাজল পরা দেশ আমার প্রিয় বাংলাদেশ।।
ফুল গুলি সব ভেসে চলে নদীর জোয়ার দিয়ে,
আমি দেখি তারা যায় বাংলার গান গেয়ে,
শহীদ সোনার দেশ মোদের পিতামাতার দেশ।।
এই দেশেরই গগণ দিয়ে ওড়ে কত পাখি,
কুহু কুহু গান গেয়ে যায় বাংলার নাম মাখি,
স্বজল প্রীতির দেশ আমার সোহাগ ভরা দেশ।
সবার সেরা দেশ আমার প্রিয় বাংলাদেশ।।

সত্যের পথে নাই ভয়

হান্নান
ওহে জাগ্রত বাঙ্গালী
এসো বীর বাংলার মুসলেমীন
সত্যের পথে নেমে এসো ত্বরা
ধরো সীরাতে মুস্তাকিম
নাই আজ কোন ভয়
আমরা আনবো সত্যের জয়
আলক্বোরআনের আলো দানিয়া
কন্ঠে তাওহীদি বানী নিয়া
ঘুরবো সারা ভূবন ময়
আমরা বাংলার মুসলীম সেনা
বুলেট বোমার ভয় করিনা
সাথে আছে মোদের আল ক্বোরআন
ভয় কেন হে তাওহীদি জোয়ান
কাতারে কাতারে হয়েছে শহীদ
তবু ভয় করেনাই বীর মোজাহীদ
বলো হে বাংলার মোসলেমীন
কেন আজ এত সংশয়
বাংলার বুকে ইসলামী সেনারা
কখনো হবেনা পরাজয়
ক্বোরআন আমাদের হাতিয়ার
রাসূল আমাদের ঝান্ডা

শহীদ আমাদের জীবন তৃষ্না
গাজী বিপ্লবী মনটা
উত্থান আমাদের মরুর কাবা
চলন আমাদের গীরি গুহা

স্বরন রেখো

হান্নান
তুমি কি একবার ভেবেছ তুমি কে?
কেন নিজেকে প্রশ্ন করছোনা?
না জেনেও বলবেনা লজ্জা পাবে বুঝি?
দাও তোমর মুখোশ খুলে দাও।
তোমার কিসের এত অহংকার আর বাহাদুরী।
মানব হৃদয়ের আবেগে নির্গ্ত এক ফোঁটা,
নাপাক পানি তোমার জন্মের মূল বাহক।
তুমি কি ভূলে গেছো সে দিনের কথা?
যে দিন ছিলে মাতৃকোলে বড় অসহায়।
পরাধীন ছিল তোমার নিত্য সঙ্গি,
বিধীর করুনা ছিল অবারিত।
সে দিন কি তুমি ভূলে গেছ?
আজ অর্থের দাপট আর শক্তির হুংকার,
আর রুক্ষ দৃষ্টির রঙ্গীন স্বপ্ন,
তোমাকে কি এতই করেছে বিভোর?
দয়াময়ের নামটুকু নিতেও তোমার সময় নেই?
তুমি স্বরন রেখে দাও দুবার পাতলা পায়খানা,
দুবার বমি হলেই তোমার সব শক্তি শেষ।
আর মজলুমের চোখের দুফোঁটা বেদনার জল,
ছিন্ন ভিন্ন করে দিতে পারে তোমার অর্থের স্তুপ।
অর্থ্ আর শক্তির হুংকার থেকে দূরে থাকো।

উপদেশ

হান্নান
তুমি দেখ দুই আঁখি ভরে রিক্ত মায়াবী এ পৃথিবী,
সবার মাঝে শূন্যতা আছে আর আাঁখি ভরা ছবি।
কারো তরে কেউ সুখি নয়,
সুখি হলো সেই জন।
না আছে যার পাতকী অর্থ্,
আছে শুধু সুন্দর মন।
অট্টালিকার রঙীন আলয়ে ফেলনা তবু আঁখি,
দেখেছো কি ভেবে এখনো তোমার বহুদিন আছে বাকী।
নেই বলে অর্থ্ হয়োনা মর্মাহত,
হৃদয়ে এনোনা হা হা কার।
তাহলে জীবনে ব্যাথিত হবে,
সুখ না হবে আর।
সুখি যদি হতে চাও আখি ফেল নীচে,
জীবনের সব ব্যাথা যাবে কভু মুছে।

প্রথম প্রেম

হান্নান
ভূল করে ফুল তুলতে গিয়ে কাঁটার আঘাতে রক্ত ঝরালাম,
জানিনা সে ফুল ছিলনা আমার ভূল করে কেন ঘুরলাম।
শত শত ফুল পেরিয়ে যেদিন গোলাপের বাগানে এসেছি,
একটি ফুল ঝরা রক্তের বেদনা সেদিন বুঝেছি।
ভাবিনি কোন দিন অশ্রু ঝরাবো আজকে তাই ভাবলাম।।
ছিল যে অজান্তে হলো যে জানা ভাবিনি পাবো কোন দিন,
বলেছিলে তোমরা তুলনা একফুল শতফুল পাবে একদিন।
বাঁধা না মেনে সে ফুলের পিছে কেন ঘুরলাম,
সত্যই আজ আমার গোলাপকে খুজে পেলাম।।
জানিতো জোয়ার আসে ধীরে ধীরে একবারে আসেনা,
বাগানে যে ফুল একবার ফোটে সেতো আর ফোঁটেনা।
যাকে করেছি বিয়ে প্রথম জীবনে তাকেই ভালবাসলাম।।

কিশোর পেরিয়

হান্নান
কিশোর পেরিয়ে যেদিন যৌবনে এসেছি
আঘাত আর অশ্রুবানী সেদিন থেকে শুনেছি
জানিনা এ আঘাত কতদিন খেয়ে যাবো
আঘাত খেয়েও সারাটি জীবন তোমার পাশে রবো
নেবার কিছু নেই তাই অশ্রু নিতে এসেছি।।
আশার বানী শুনিয়ে ছিলে যাবেনা ছেড়ে কোন দিন
ভূল বুঝোনা দিয়েছিলে কথা রবে পাশে চীরদিন

ভাবিনি কোনদিন লয় হতে পারে তোমার মুখের বানী
জানলাম আজ হতে তুমি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রানী
বাকী ছিল এটুকু তাই নিয়ে জীবন সাগরে ভেসেছি।।
জীবন সাগরে ভাসিয়েছি ভেলা সাথে আছো ওগো তুমি
তরীর মাথায় বসিয়াগো তুমি পিছে বৈঠা ধরেছি আমি
দুঃখ দিয়োনাগো তুমি
সইতে পারবোনা আমি
জীবন পথে জলিতে জলিতে হয়েছি আমি আঙ্গার
ফেলতে যাচ্ছি জীবনের বাকে ছোট্ট একটি নোঙ্গর
সবাই আমার দিয়েছে ধোকা তুমি আর দিয়োনা
জীবনের শেষ সম্বল টুকু তমি ওগো নিয়োনা

পালা

হান্নান
তুমি ছিলে বাঁধার নয়নে একদিন
বাঁধাকে করতে দূর ঘুরেছি শতদিন
ভেবেছিলাম তাই পাবোনা কথা যতদিন
তবুও ঘুরিবো তোমার পিছে ততদিন
পারেনি কোনদিন বলতে কথা অসহায় জীবনে
পেয়েছি তোমার আপ্লুত কথা কর্মীত জীবনে
স্বার্থের একি নির্ম্ম পরিহাস
এটাইকি পৃথিবীর প্রেমবাস
বুঝেছি সে দিন অসহায় জীবনে প্রেম কভু আসেনা
পকেটে টাকা না থাকলেরে ভাই প্রেম হয়না
এটাই এযুগের রীতি
এরই নাম প্রীতি
পকেট ভরা টাকা নিয়ে যেদিন তোমার স্বমুখে
সেদিন দেখি তুমি যেন আছো অনেক বড় দুঃখে
আজ কেন তোমার কথা বলার এত আকুলতা
আমাকে দেখে কেন বাড়ে আজ তোমার এত ব্যাকুলতা
ভেঙ্গেছে ভূল তোমার হয়েছ অনুতপ্ত আজ
তাই আজ সেজেছো তুমি অসহায় সাজ
বলো তুমি আজ তোমার পিছে ঘুরেছি কতদিন
আজ তুমি হাজার ঘুরিলেও আমাকে পাবেনা কোনদিন

বিদায় লগ্নে

হান্নান
ওগো নব বধু কেন অশ্রু তোমার নয়নে
বারে বারে কেন চাও বাতায়নে
শয়নে স্বপ্নে তুমি আমার মনে
বিদায় ম‡Âর ব্যথা কি তোমার মনে আজ
ভেঙ্গেছে কি তোমার অতিতের লাজ
বিদায় কি দিবে কিছু বলে আজ
সে দিন কি ছিল অশ্রু ভরা বেদনার বানী
হয়েছ কি আজ সিক্ত ব্যথিত হে রজনী
বিদায় বানীর অশ্রু ভেজা দুটি চোখে
বারে বারে চাই যাত্রা পথে বলিতে পারেনা মুখ
ে জানিগো তোমার বিদায় বেদনা কত অধির
পিছু করে তোমার বদন খানি আসিল চোখে নীর
কত থেকেছি আঁধার আলোতে বলেছি কথা
বিদায় লগ্নে স্বরন করে লাগছে বড় ব্যথা
বলেছিলে সে দিন মনে কি হবে এ অভাগীর কথা
হারাতে পারেনি মুখ খানি তোমার লিখেছি বহু কবিতা

তোমাকে ছেড়ে

হান্নান
বেদনা ক্রান্ত দুঃখ ভরা ত্যাগের জীবন নিয়ে
গিয়েছিনু সে দিন তোমার কাছে সুখের বানী নিয়ে
দুঃখ ভরা জীবন যাদের সুখ না তাদের হয়
তাইতো দেখেছিনু তোমাদের মাঝে ব্যথার বানী বয়
তার মাঝে দেখি বারে বারে তোমার চোখে জল
ব্যথা ভরা হৃদয়ে করো জল মোছার ছল
সুখি হবো জীবনে তোমাকে পেয়ে এইতো ছিল আশা
বারে বারে দেখি দুঃখই জীবন সুখ হলো নিরাশা
তাইতো পারিনা থাকতে কভু বেদনার হৃদয় নিয়ে
আাসলাম ফেলে প্রিয় তোমার চোখে জল দিয়ে
দুমুঠো ভাতের জন্য প্রিয় ছেড়েছি তোমার প্রেম
বwÂZ হয়েছ প্রিয় সোহাগে প্রেমই তোমার হেম

দলবেঁধে চল

হান্নান
দূর দুরান্ত হতে এসেছেগো জামায়াত
চল দল বেঁধে যায় মসজীদে
এসো হে মুসলিম জাতী
বাহির হই সত্যের দাওয়াতে
এইতো আমাদের সত্য পথ
ফিরেছে বিশ্ব বুকে
ভরসার বানী দিয়েছেন খোদা
পরকালে থাকবে সুখে
সত্যের সওগাত পৌছে দাও
দুনিয়ার ঘরে ঘরে
সবাই যেন নাজাত পাই
অন্ধকার ঐ কবরে
তার কথার চাইতে আর কার কথা ভালো
বিনা স্বার্থে দেখায় যে খোদার পথের আলো
আঁধার ধরনীতে পাবেগো তোমরা
সত্য আলোর ডাক
বদর ওহুদ ময়দানে যা
দিয়েছিল হায়দারী হাক
দলবেঁধে দাওয়াতে পয়দা করো
সেই ঈমানী শক্তি
মরনের পর হে বন্ধু তবেই পাবে মুক্তি।।

ক্ষুদ্র পাতায়

হান্নান
ইরান আরব পারস্যের কবীরা দিয়েছে সত্যের ডাক,

সেই দাঁত ক্ষত বানী তাদের দুয়ারে দিয়েছে হায়দারী হাক।
সত্য আর ন্যায় বেছে নিয়ে তারা সরিয়েছে সংশয় তিক্ত,
হেন কালে ন্যায় বিরাজ করতো শাসন করতো শক্ত।
তাদের চরনে হ্স্তমুন্ডিত সুধিতে পারেনা সে ঋন,
শত শত বছর কুড়িয়ে খেলেও তা ফুরাবেনা কোনদিন।
ওহে বাংগালী জাতী জানো তোমরা কেন অসহায়?
বাংগালী কবীদের কাব্য কথার মূল্য যে দাওনাই।
দেখ একবার ক্ষুদ্র পাতায় লেখা আছে কি হেথায়,
বুঝিবেনা আজ জানবে সে দিন যেদিন চলে যায়।
মোহের মাঝে ডুবে পুড়ে আজ হারিয়েছ ইন্দ্র জ্ঞান,
ছোট্ট কাগজের টুকরাকে তবে কেন করবে সম্মান।
বাংগালী নব বধু সেও বসে পড়ে বিদেশী যত গল্প,
স্বদেশ সংস্কৃতি বাঙালী সভ্যতা এদেশে আজ অল্প।
অক্কা পেয়েছে স্বাধীনতা অক্কা পেয়েছে সভ্য কবিতা,
তাইত আমরা হারিয়ে চলেছি সভ্য স্বাধীনতা।
ফিরে এসো নজরুল গাও একবার রণগীত,
কোথায় রবিন্দ্র ভূলেছে এরা জাতীয় সংগীত।

শিক্ষার শত্রু

হান্নান
শিক্ষার পথে সংশয় হয়ে দাঁড়ায় যে জাতী হিংসায়,
সে জাতী কোন দিন উন্নত হবেনা দেশকে করবে ক্ষয়।
শিক্ষার শত্রু আমাদের মাঝে সদা সবর্দা রয়,
শিক্ষার আলো ধ্বংস করে সারা জীবন ময়।
বিনা কর্মেও পেরেশান মাঝে ডুবাতে থাকে তাকে,
প্রতি বাদ করলে আসামি হয়ে দাঁড়াতে হয় যাকে।
ঘৃনা করি সেই জাতিকে থুথু ফেলি তাদের মুখে,
শিক্ষাকে যারা দেইনা শিখতে রবেনা তারা সুখে।
এত হিংসা এত অপবাদ আছে যাদের অন্তরে,
শিক্ষার আলোর অভাব তোমরা দেখবে তাদের ঘরে।

ছদ্দ নামে

হান্নান
বাংগালী হৃদয়ে দিয়েছ আঘাত, রবেনা টিকে চীরদিন,
স্বাধিনতা তারা পাবে নিশ্চয়, সে দিন হবে তাদের দিন।
ভাবছ কি এখন তাই?
যাদের প্রতিদানে উঠেছো উচ্চ পর্ব্ত মহা শৃংগে,
দিয়েছো পাড়ি স্বর্ণের সন্ধানে আনন্দ তোমাদের অঙ্গে।
দিয়েছ কি সে প্রতিদান?
দাঁতের উপর দাঁত রেখে করো সদা অপমান,
ধমক আর পরাধীন করে সেজেছো বড় বুদ্ধিমান।
এতই কি হয়েছ বড়?
তোমাদের ভয়ে হয়েছে ভীত খোদার সম নিয়েছ মান,
মনে রেখো হতভাগা খোদার দুনিয়ায় সব একসমান।
জেগেছে কি ঘুমের ভান?
দুখিনি মায়ের কোল খালী করে যারা জীবন করেছে দান,
তাদের রক্তে বাংলার বুকে উড়ছে আজ স্বাধীন নিশান।
সেই হৃদয়কে ভেঙ্গে চুরে তোমরা করেছ ছায়,
তাদের রক্তে স্বাধীনতা আছে তোমাদের রক্তে নাই।
তবে কেন দেখাও বীর দর্প?
কোথায় ছিল সেদিন সাবধান কোথায় চলমান গুলি,
স্বার্থ গর্ব তোমাদের ঝুলি আর শৃংখলা তোমাদের বুলি।
আর কত করবে অবিচার জুলুম অত্যাচার?

তাদের অভিশাপে নিশ্চয় হবে ছারখার।

বেঁচে থাকতে দিলেনা

হান্নান
অনেক কথা বলেছি অনেক আবেদন করেছি
শুধু জীবনের শূন্যতা পুরনের লক্ষে
আমার কবিতা আমার লেখা হলোনা প্রকাশ
তাই ব্যাথা ভরা মোর বক্ষে
জানি এ কবিতা লেখা প্রকাশ হবে একদিন
বুকের এ শূন্যতা নিয়ে চলে যাবো যে দিন
ওহে সাংবাদিক ওহে সম্পাদক
করতে চাও শুধু অর্থ্ ভোগ
নিলেনা তোমরা আমার কবিতা গুলি
দিলেনা জাতীরে উপহার
বলো কি লাভ আমার মরনের পর
কবরে বিছায়ে ফুল সমাহার
বাঁচতে যদি দাও আমার কবিতা গুলো নাও
জীবন্ত আমাকে একটু শান্তি দাও
অশান্তির মাঝে শান্তি দাতা জানি শুধু একজন
তোমরা তার প্রতিনিধি তাই করি গুঞ্জন
তাই একটু আবেদন তোমাদের তরে
আমার কবিতা গুলো দাও ঘরে ঘরে

পাগলা কুকুর

হান্নান
ওরা চাইনি ওরা চাইনা বাঙালী সুখে থাক, তাওতো বোঝেনা বাঙালী হতভাগারা।
ওরে শোন ওরা পাগলা কুকুর,ওদের বিষ ধ্বংস হয়না সহজে।
দেড় যুগ পরেও মাথা চাড়া দেই,ওরা এ দেশ থেকে গিয়েছে সত্য,
কিন্ত পাগলা কুত্তার ন্যায়বাংলারে দংশন করে গেছে।
জানো সে দংশন কিসের?সে দংশন নয় মুখের নয় দন্তের,
সে দংসন নয় হিংস্র কুত্তার,সে দংশন তাদের রচিত আইন।
তাদের রচিত আইনকে চাপিয়ে দিয়েছে,নিরিহ বাংলার মানবের মাথায়।
তারা জানত এআইনের ধারা,যদি বাংগালী মানবের মাথায়
অব্যহত চেপে থাকে , তাহলে চীর দিন জাতিতে জাতিতে
থকবে বৈশম্য আর ভেদা ভেদ।তারা জানে ভেদাভেদী জাতী
কখনো উন্নতি লাভ কনবেনা।আজ তাদের রচিত আইন ও মতবাদে
চলছে বাংলার অফিস ওআদালত ।একই জাতির মাঝে পাঁচ আনা
বিশ আনার ব্যবধান।অর্থের ব্যবধানে দ্বন্দ কর্মকর্তা
আর কর্মচারীর মাঝে।বলো হে জাতি কি করে উন্নত হবে এদেশ?
কি করে আসবে একতার বন্ধন?
অর্থ্ লোভীরা তো কোন দিন চাইবে না তাদের এ আইন বাতিল হোক।
আর গরীবেরা সারা জীবন মরবে ধুকে ধুকে।
উভয়ের মাঝে মিল হবে না আত্নার,
বুঝেছো সে বিষের জ্বালা কত কঠিন।
পাঁচ আনা আর ছয় আনার ব্যবধান যদি থাকতো তবে কতই না
উন্নত হতো এ দেশ।
কত মমতার বন্ধন হতো বাংগালীর মাঝে।
কাও কে দশ তালায় কাওকে গাছ তলায় প্রহর গুনতেহতোনা।
শুনেছি অনেক জ্ঞানী গু নী নাকি বাংলাতে আছে।
তবে দেখেনি তাদের কাজ,
কেউকি পারেনা কুত্তার এ বিষ ধ্বংস করে বাংগালী আইন তৈরী করতে?
ব্যবধান দূর করে জাতীর মাঝে মমতার বন্ধন তৈরী করতে?
কোন দল কি পারেনা করতে এর সংস্কার?
শুনেছি পাগলা কুকুরে কামড়ালে মানুষ ও পাগল হয়ে যায়।
মাথা ঠিক থাকেনা ,
আমার লেখা পড়লে তাদের মাথাও ঠিক থাকবেনা,
তার পরেও সত্যের পথে আমার কলম চলবেই।।

মোনাফেক

হান্নান
দিকে দিকে সব মুসলিম বুলি
বগলে মোনাফেকের ঝুলি
আর কত ধোকা দিবি মসলিমেরে
বুঝবি পরিনাম মরনের পরে
ঈদ পার্ব্ন আর শবেবরাতে
কাটাস নামাজে সারাটি রাতে
চোখের জলে বুক ভাসালী
নামাজ শেষে কি ফল পেলি
দ্বীনের সংগ্রামে সাড়া দিলিনা
তাগুত শক্তির পিছু ছাড়লিনা
নাক সিটকালী দ্বীনের কর্মীদের প্রতি
বল মোনাফেক তোর হবে কি গতি
দাড়ী টুপি ভরা পাঞ্জাবীতে ভরায়ে দেহ
ক্বোরআনের বিধানকে করলে হেয়
সমর্থ্ন দিলি ইসলামের দুশমনেরে
মুখে বললি আমি মুসলিমরে
তুই শয়তান তুই তাগুত জানাই তোরে শত ধিক
মুসলিম নাম নিয়ে তুই আর কত করবি মোনাফিক

ক্বোরআন ধরো

হান্নান
অশান্তির দাবানলে ছুটছে মানুষ দিশেহারা
কোথাও নেই শান্তির লেশ করছে সবে পায়তারা
আসবে কি শান্তি মানব জীবনে
সুখ কি পাবে তারা এ ভূবনে
যে পথের যাত্রী তোমরা সুখ তো নেই এ পথে
সুখের রাস্তারে অবÁv করে চলেছ তোমরা ভূল পথে
এপথে শান্তি তুমি পাবেনা
শত কাতরালেও সুখ হবেনা
জলতরী উঠায়ে স্থল পথে কোটি মানব যদি চিল্লাও সাথে
তোমাদের শ্লোগানে তরী কখনো চলবেনা এ পথে
জ্বলের তরী জ্বলেই চলবে শুধু লাগবে এক মাঝি
বিশ্বশান্তি ক্বোরআনের মাঝে ধরো যদি জীবন বাজী
ক্বোরআনের মাঝে শান্তি ক্বোরআন মানবের মুক্তি
ক্বোরআন ছাড়া শান্তি দেবার নেই কোন শক্তি
ক্বোরআনহারা জাতী ঘোরে আজ পাগলের ন্যায়
বিশ্বের দ্বারে দ্বারে তাই এ জাতী ভিখারী সেজে রয়
ক্বোরআন ধরো ক্বোরআন মানো এতেই আছে মুক্তি
এর বদৌলতে দিবেন বিধাতা ঐশ্বরিক বহু শক্তি

পাগল বাঙালী

হান্নান
ছুটেছে বাংগালি দেখতে নাচনে ওয়ালি
মাতোয়ারা হয়েছে তারা সব করে খালী
যুবক যুবতীদের যেন নব উন্মেষ
ধরেছে তারা সব শয়তানের বেশ
কোমর দুলানীর নাচন দেখিয়া
ধর্ম্ কর্ম্ সব গেছেরে ভূলিয়া
ওরে ও পাগলা মুসলিম বাঙালী
আর কত দেখবি তোরা নাচনে ওয়ালী
হাড়ির খবর রাখলিনারে
এমন পাগল কে করলো তোরে
মা বোনেরাও ওতে দিচ্ছে ঝাপ
বুড়া ব্যাটাও দেইনা মাফ
কোমর দুলানীর কোমর দেখিয়া
মা বোনেরাও সব দিচ্ছে খুলিয়া
বাঙালী মেয়ে ধরেছে ইংরেজ সাজ
অর্ধ্ উলঙ্গী হয়ে ছেড়েছে লাজ
এরা আবার ভাবে চলে সাজে বড় রানী
বিবেক খুলে দেখরে কন্যা তুই কত মানী
সবার চোখের আহাররে তুই দেখলিনাকো ভেবে
নাচনেওয়ালরি নাচন দেখে বড় হলো কে কবে

যাবার বেলায়

হান্নান
আমিতো চলেই যাবো যা চীরন্তন সত্য
হৃদয়ের অনেক ভাষা থাকলো মোর অব্যক্ত
সময়তো বেশি নাই আর
গৃহে নাই মোর ভাষা বোঝার
যাবার বেলায় শুধু বলে যায় রেখো মোর আবেদন
রাস্তার পাশে কবর দিও এটিই মোর নিবেদন
পিলার একটি গেঁড়ে দিও মোর কবর শিয়রে
রাজপুজা যেন দেইনা কেউ লিখে দিও ঐ পিলারে
স্মৃতির পাতা থেকে জানি মুছে যাবে মোর নাম
যশ খ্যাতিতে কি লাভ ছাড়লে ইহধাম
কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাবে কত আলেম উলামা
তাদের পদচার আর দোয়াই আমি হইত পাবো ক্ষমা

বুড়ি

হান্নান
মুজিব নগরের বুড়ি হাতে একটি ঝুড়ি
এক আচলে মুড়ি অন্য আচলে কড়ি
পয়সা চায় ঠারে যেকোন বারে
শুধু মাথা নাড়ে চোখে জ্বল ঝরে
ও বুড়ি তোর দুঃখ কি একু খানি বলবি কি
ভিþv করে লাভ কি কাজ করে খাবি কি
দুঃখ আমার স্বাধিনতা দুঃখ সংগ্রাম
স্বাধীনতায় নিঃস্ব হয়ে ঘুরছি গ্রাম গ্রাম
ভিþv আমার সুখ নেই কাজেই ছিল সুখ
বড়লোকেরা দেয়যে মনে অনেক বড় দুঃখ
আপন বলতে কেউ নাই
দিন আনি দিন খায়
বসে থাকি গেটের পাশে
কখন কোন সাহেব আসে
একটা করে টাকা নিই

গেটের ভিতর যেতে দিই
এটাই আমার কর্ম্
বুঝবে কে মোর মর্ম্
স্বাধীনতার এই পাওনা
এ ছাড়া দিন চলেনা

ডাক্তার

হান্নান
হাসপাতালের ডাক্তার খোদার এক মোক্তার,
রোগীদের সেবা করা তাদের বড় দায়ভার।
সেবাই ধর্ম সেবাই পরম কর্ম বুঝে তা কজন,
সেবার নামে গড়েছে কিছু অত্যাচারী মহাজন।
ডাক্তার নামের কিছু কষাই থাকে আশে পাশে,
শয়তানী ধান্দায় টাকার নিশায় জুড়ে পুড়ে বসে।
রোগীকে জিম্মি করে লুটে পুটে টাকা,
মুখোশের আড়ালে গা দেই ঢাকা।
সরকারী ডাক্তার মাথা ভরা দেমাগ তার,
ধান্দার মধ্যদিয়ে অফিস টাইম করে পার।
রোগীর ভীড় দেখলে পরে মাথা যায় ঘুরে,
রোগী রেখে তখন তারা যায় অন্তপুরে।
হাসপাতালে গেলাম আমি রোগে ধুকে ধুকে,
মনে হলো টিকিৎসা নেই ধরনীর বুকে।
কোন অভিশাপের শিকল আমি পরেছি,
কেন আমি এই কষাইদের কাছে এসেছি।
হাসপাতালের বিছানাতে আছি শুধু শুয়ে,
তিনটা করে ব্যাথা আর হজমের বড়ি খেয়ে।
চারদিন গত হলো দুইবার খবর নিল,
ঐ ছাড়া ঔষধ মোর আর কিছু নাহি দিল।
সরকারী ডাক্তার মুখ সদা করে ভার,
সরকারী গাড়ী বাড়ী সব কিছু আছে তার।
আমার মত রোগীর সেবা করা তার কাজ,
দিনে একবার খোজ নিতে হয় কিসের লাজ।
লাল খাম নীল খামে ভরে দিলে টাকা,
চিকিৎসা দাও তারে করে মাজা বাঁকা।
ডাক্তারের মরন তোমরা কেউ দেখেছ ভাই?
তিন ডাক্তারের মরন কথা পড়ছে মনে তাই,
মরন আগে নিজের মাংস খেত যে সে চিবিয়ে,
পশুর মত ভাব দেখিয়া থাকত সবাই ভয়ে।
শিকল দিয়ে বেঁধে রাখত বাড়ীর আপনজন,
নিজের পায়খানা খাওয়া দেখে সবে করত গুঞ্জন।
রোগী অত্যাচারের এ এক নির্মম অভিশাপ
, নির্মম মৃত্যুই কিছু ডাক্তারের মরন ইতিহাস।

রণ নানা

হান্নান
ঘন ঘন কথাবলে নাম রণ মিয়া
বাঘের মত চাল চলন হুংকার দিয়া
কথা বলে মনে হয় হায়দারী ডাক
চুয়াডাঙ্গায় জন্ম নিল বাঘের ব্যাটা বাঘ
সদয় খোদা ভীরু
পীরকে মানে গুরু
হক কথা বলতে করেনাকো ভয়
মুখের সামনে সদা উচিৎ কথা কয়
ঘর বেঁধেছে নানা আমার আম বৃþ তলে
আমের থোকা দুলছে নানার খড়ের চালে
খাটের পাশে ঝোলে দেখি হনু মারা গুলতি
তার পাশে রয়েছে ভাই পিক ভরা বালতি
আষাঢ়ের বৃষ্টি পড়িতেছে ঝনঝন
ঘরের পিছে মশারা করিতেছে বনবন
দূরবিদটা সাথে নিয়ে যায় নানা বাগানে
চোর ডাকাতের ভয় নেই নানার মনে
সুখের দুঃখের যত কথা ছিল নানার মনে
সংগোপনে নানা সব বলতো আমার সনে

শয়তানের দালাল

হান্নান
নারী কি এতই পরিবর্ত্ন শীল না ধারার মুখোশ
বিবেকের কাছে বারবার প্রশ্ন করি
কোন অজানা নারীকে খারাপ ভাবার অধিকার
আমাকেতো দেয়া হয়নি
কিন্ত যাদের দেখলাম ইংরেজ মেয়েদের মত
অর্ধ্ নগ্নতার সাজে সজ্জিত হয়ে নিজ রূপ যৌবনকে
প্রকৃতির মাঝে বিলাতে
হঠাৎ করে দেখছি বোরখা পরিহীতা
তবে ঠোটের পালিশ কথা বলার ভঙ্গিমা
চলনের ধারার কোন পরিবর্ত্ন হয়নি
না আমি কি কোন খাব দেখলাম
হাত পা নেড়ে চোখ মুছে নিলাম
দেখলাম না এ কোন খাব নয়
এটাই বাস্তবতা
কখনো ভাবি হইত বোযর্গের ছাপ পড়ে
হেদায়েতের মোহতাজ হয়েছে
আবার যখন দেখি পূর্বের ন্যায় অর্ধ্ নগ্ন
তখন সব ভালো ধারনা দূরিভুত হয়ে যায়
সন্দেহ থাকেনা একে শয়তানের দালাল বলতে

নাতে রাসুল

হান্নান
হে মরুর দুলাল জানায় দোয়া সালাম,
জীবনের সব প্রেম তোমায় দিলাম।
তুমি ছাল্লে আলা তুমি কামলে অলা,
অপাঠালেন খুশি হয়ে আল্লাহ তায়ালা।
আসলে ধরার বুকে নিয়ে কোর আন ,
মজলুমের সাথি হয়ে দিলে সম্মান।
তোমার নূরে হলো জগৎ আলো,
তোমার পদবারে সব ধন্য হলো।
জুলুম অত্যাচার আর মদের নিশা,
ছাড়লো মানব কূল পেল পথের দিশা।
তুমি সবার সরর্দার, পেলে পরশ পাথর,
ছোয়াতে স্বর্ণ্ হলো, মুমেন নারী নর।
রাজা বাদশা দুনিয়ার সব জ্ঞানী গন,
নহে তোমার পদ ধুলির সমান।
পাঠালেন প্রভূ তোমার শিক্ষক করে,
তোমার গবেষনা করে সবে জীবন ভরে।

নাতে রাসুল ২

হান্নান
আমি সেই নবীর উম্মত
আল্লাহ তায়ালা পড় যার দরূদ
আমি সেই নবীর উম্মত
ফেরেস্তাকুল পড়ে যার দরূদ
ইমানের দাবীদার হবে যারা
নবীর প্রতি ছালাম জানাবে তারা
নবীর আদর্শ্ ধরো শক্ত করে
শান্তি পাবে তুমি মরনের পরে
মসজীদ মন্দীরে খোদা মিলেনা
খোদাকে মিলাতে তার জানো ঠিকানা
দীদারে এলাহী যারে দিলেন ঠিকানা
তিনিতো ঘুমিয়ে আছেন সোনার মদিনা
আল্লাহর ঠিকানা যদি চাও মুসলমান
নবীর আদর্শ্ ধরে করো গুনগান
চাও যদি পার হতে পুলসীরাত
নবীর ডাকে সাঁড়া দাও দিনরাত

হেরার ঐ গুহা পরে

হান্নান
হেরার ঐগুহা পরে রহমত শুধুই ঝরে,
দশটি বছর নবী কাটালেন ধ্যান ধরে।
আসলেন নিয়ে ক্বোরআন,
মানবের মুক্তি বিধান।
জুলমাতে জললো আলো,
মজলুম সব মুক্তি পেল।
নূরের আলো উঠলো জ্বলে,
হেরার ঐ গুহা পরে।।
পাথরের বুক চীরে এলে তুমি স্বর্ন্ হয়ে,
পেলো ঐ মরূবাসী গেলো গো ধন্য হয়ে।
চিনলনা কাফের বেইমান,
আনলনা তারা ইমান।
জুলমাতের পথ ধরে,
ভ্রান্তিতে রইল পড়ে।।

ফরিয়াদ১

হান্নান
আর্ত্ মানবতার সেবাতেও মানব কত নিষ্ঠুর
পাথর পুজারীদের পাথর ঘেমেও জ্বল পড়ে
কিন্ত কৈ ওরাতো ঘামেনা এতই কি ওরা নিষ্ঠুর
আমি জানি ওদের দুই হাত বাঁধা
তাই কারো প্রতি একটু করুনা করতে পারেনা
কর্ত্ব¨ টুকুই সদা পালন করে যায়
আমি তাদের þwZর করণ হতে চায়না
হাসপাতালের বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছিলাম
সে বেদনা ওদের কাছে মূল্যহীন
স্ত্রী পুত্র সবাই দেখতে এসেছে সত্য
তারা পাশে না থাকলেই ভালো হতো
তাদের সাথে মনখুলে কথা বলতে না পারা
যে কত কঠিন যন্ত্রনার তা আমি বুঝেছি
ওরাতো সেটা বোঝে নাই
কতবার ওদের কাছে সময় চেয়েছি
যে আমাকে একু কথা বলতে দাও
ওরা দিলনা একটু সময়
যদি বোঝে তাহলে কেন দিলেনা একটু সময়
না কি শুধু যন্ত্রনায় দিতে চেয়েছে
না ধরনীতে আগমনই আমার যন্ত্রনা নিয়ে
না কি এটা আমার পাপের শিকল
না বিধাতার কোন পরীক্ষা
এ কোন পরীþv কোন চিকিৎসা
পাশে বসা রেখে নিঃসঙ্গ থাকতে হবে হাস পাতালে
ধুকে ধুকে মরতে হবে নিঃসঙ্গতার বেদনায়
বগুড়া হতে চাকাতে রেফার্ড্ করলো
কবে ঢাকার বিছানা খালি হবে অজানা
দেখতে দেখতে তেরটা দিন কেঁটে গেল
তাও কোন খবর আসলো না
এ্যাসিসিটেন্ট কে বললাম ভাই ছার কে বলে
দুই তিন দিনের ছুটি করে দাও
বৌ বাচ্চার সাথে দু দিন থাকি
না হয় বিকালে দু ঘন্টার জন্য
একটু ছেড়ে দাও
বৌ বাচ্চার সাথে দুটি মনের
কথা বলে শান্ত হই তা ওরা দিলনা
শুধু শুধু হাসপাতালেই রাখলো
এ বেদনা যে কত কটিন
এ বেদনা শুধু আমার একার নয়
এ বেদনা আমার পরিবারের ও
এ আর্তনাদ কি পৌছাবে প্রভুর দরবারে
তিনি কি শুনবে আমার এ ফরিয়াদ
আর এক শয়তান বলল কিছু খাওয়ালে
কিছু মিলে তখন যাবেন চলে
ন্যায়ের পথে যাদের সংগ্রাম
প্রয়োজনে ধুকে ধুকে তারা মরবে
তার পরেও ঐ শয়তানদের কাছে
মাথা নত করবেনা
বিধাতা অবশ্যই একদিন মুক্তি দিবেন
বিধাতার নিক আমার ফরিয়াদ করতে ইচ্ছে হয়
হে বিধাতা তুমি আমার মত কাউকে
এমন বেদনায় ফেলনা
শুনবেকি হে প্রভু তুমি আমার ফরিয়াদ
মানবে কি হে প্রভু আমার অর্তনাদ
পাঁপী হস্ত উঠাতে বড় ভয় করে
না জানি তুমি রাগ করো মোর পরে
হাজার হাজার মানব দুয়ারে করেছি আর্তনাদ
সবাই মোরে তাড়িয়েছে কেউ শোনে নাই ফরিয়াদ
তুমি নও মানব তুমি নও কোন দেবতা
সারা জাহানের স্রষ্টা তুমি মহান সৃষ্টিকর্তা্
মানবের মত তুমি জানি আামাকে ফিরাবেনা
দুনিয়া আখেরাতে পাই যেনগো তোমার করুনা

জুয়েল মিয়া

হান্নান
চাল চলন ঠাট্ ভাট্
ভাব করে বড় লাট্
কথায় বড় যুক্তিবিদ
ছোট খাটো চিকিৎসাবিদ
স্বরন শক্তি আছে ভালো
ব্যবহারটা একটু কালো
কথায় আবার রশ আছে
বড় লোকের কথায় নাচে
ছোট খাটো অন্যায়
তার কাছে ক্ষমা নাই
কারো জন্য শুনলে কথা
রোগীকে সে দেয় যে ব্যাথা
তখন ছিল সার্জিক্যালে

বগুড়া আর্মি হাসপাতালে
হাসপাতাল এক বড় জেল
ঐ ছেলের নাম জুয়েল

কিসের বাহাদুরী

হান্নান
হে মানব তুমি কত অসহায় অক্ষম,
নিজেকে ভূলে কেন আজ এত অধম?
দুর্বলের নিকট কেন দেখাও বড় বাহাদুরি?
থাকতে কি পারবে চীরদিন এ দুনিয়াপুরি?
পারবেনা যেতে আকাশ ও পাতাল ভেদী,
বলো কি করবে তোমার মৃত্যু আসে যদি?
যতই বাড়না কেন পাহাড় সমান হবেনা ,
যতই চালাক হও মৃত্যকে এড়াতে পারবেনা।
শক্তির বড়াই যারাই করেছে সবাই হয়েছে ধ্বংস,
পৃথিবীর দিকে তাঁকিয়ে দেখ হয়েছে তারা নির্ব্ংশ।
হে মানব দেখাও কিসের বাহাদুরী?
ছাড়তে হবে একদিন এ দুনিয়াদারী।
সময় থাকতে ফিরে এসো করো বিধাতার গুনগান,
আগে ভাগে গোছাও ওরে আখেরাতের মুক্তিপন।

ব্যবধানে

হান্নান
চৌহদ্দী শোষনের দিপ্ত শিখায় ছারখার,
নাই নাই বাঙালী জাতীর নিস্তার।
নারীরা কেবল বুক পেট করলেই খালী
, তুমি কি বলবে স্বাধীন হয়েছে বাঙালী?
পাক হানাদের শাসন শোষন গিয়েছে সত্য,
স্বদেশী হানাদের জুলুম নিপিড়ন চলছে নিত্য।
স্বধীন হয়নি এ বাঙালী পাইনি তার অধিকার,
বড় বড় জালেমেরা করছে সদা অত্যাচার।
জাগো হে বাংলার মজলুম যত বাঙালী,
ঘুমের বিছানা করোরে ত্বরা খালী।
হাতে নাও আবার একাত্তরের সেই হাতিয়ার,
গর্জে ওঠে বাংলার জমিনে নামো দুর্বার।
কৃষক শ্রমিক কুলি মজুর আছো যত কর্ম্চারী,
নেমে এসো ময়দানে ধরো শাসনের তরবারী।
বেদনা যন্ত্রনা সবি সয়েছে নির্বোধ এ বাঙালী,
আর নহে শয়তান এবার কর বাংলা খালী।
সময় এসেছে রুখে দাঁড়াও হে বিপ্লবী বাঙালী,
বাংলার বুক থেকে শয়তানরা হবে এবার খালী।
বিশআনা পাঁচ আনার ব্যবধান আামরা মানিনা,
ত্রিশটি বছর সইলাম মোরা ব্যাবধানের যন্ত্রনা।

সুমতি

হান্নান
কবে হবে ওদের সুমতি ওদের ছাড়া নাই যে গতি,
ওদের হাতেই যেন আমাদের জীবন সন্ধা বাতি।
ওদের সাথে কথা বলাও যেন মহাপাঁপ,
স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটলেই দেই বড় ঝাপ
সমস্যার সব বাণী শুনতে ওরা নারাজ,
মনে ভাবে আমরা পরেছি সমস্যার সাজ।
খোদার পৃথিবীতে আমরা সমস্যারই পাত্র,
আমাদের সমস্যা সমাধানের নাই কি সূত্র?
পৃথিবীর সব সমস্যা কি আমাদেরই স্কন্ধে?
তাই আমাদের জন্য চলছে শাসন রন্ধে রন্ধে।
আমাদের এত ছোট চোখে কেন দেখো ভাই?
তোমাদের মতই গর্ভে ধরেছে আমাদের মায়।
তোমাদের মত আমাদের ও আছে বাঁচার অধিকার,
বিধাতা দিয়েছে তোমাদের হাতে আমাদের গুরুভার।
তকদীর বলে তোমরা হয়েছ অধিকর্তা,
মনে রেখো একজন আছেন সৃষ্টি কর্তা।
হাতের পাঁচটি আঙ্গুল জেনো সবার সমান নয়,
তার পরেও সব আঙ্গুল কিন্ত হাতের মধ্যে রয়।
মানবের প্রতি চালিওনা অত্যাচারের রোলার,
আখেরাতে তোমার থাকবেনা কিছু বলার।

স্বাধীনতা মোর মা

হান্নান
হে ঘুনে ধরা জাতী আর কত থাকবি পদতলে
হুংকার ছেড়ে বাহির হয়ে আয়রে দলে দলে
আমরা নই দেশাদ্রহী শুধু মজলুমের হাতিয়ার
হবে এবার জালিমদের সাথে আমাদের খয়বার
সামান্য সার্থে্ চামচাগিরী ছাড়রে ওহে মোনাফেক
ওদের পিছে পিছে আর কত করবিরে ভেক ভেক
পালানোর পথ রুদ্ধ হবে তুল্লে ফনা অজগর
তোদের জন্য খোলা পথ ঐ বঙ্গোপসাগর
সব তমসা ছিন্ন করে জাগো হে মজলুম বাঙালী
ফিরিয়ে দাও মায়ের স্বাধিনতা আপদ করে খালী
স্বাধীনতা মোদের মা মোরা সেই মায়ের সন্তান
বাঙলার বুক থেকে করো ত্বরা জুলুমের অবসান

স্বাধীন করো বাংলাদেশ

হান্নান
চতুর দিক হতে ঘোর অমানিশার অন্ধকার যেন ধেয়ে আসছে,
আলোর সম্ত দুয়ার যেন জাতীর জন্য রুদ্ধ।
অশান্তি আর নৈরাজই যেন এদের নিত্য সঙ্গি হবে,
সবে মাত্র গধুলী দিগন্তে রবি অস্তমিত।
সোবহে সাদেক হতে অনেক সময়ের ব্যবধান,
এ যেন শৈত প্রবাহের রাত্রি লেপ কাঁথা মুড়িত জাতি।
এদের ঘুম সহজে ভাংবেনা প্রভাত ওহবেনা,
সহজে দেখবেনা উজ্জল রবির প্রভাস্কর।
কিন্ত বড় বড় শয়তানেরা তো থেমে থাকবেনা,
এখন তাদের ঘুমানোর সময় নয়,
এ জাতীকে পঙ্গু করেই বদ্ধ করবে চার দেয়ালে,
তার পরে এরা পাড়বে ঘুম।
যাতে করে তোমরা বাহির হয়ে এদের বিরক্ত না করো,
হে জাতী পঙ্গু হয়ে বন্দি থাকতে চাও?
না শয়তান ভাগাতে চাও।
চাওনা কি জীবনের স্বাধীনতা আর অধিকার?
না কি রশি বাঁধা ভল্লুকের ন্যায় বন্দি থাকবে?
তা যদি না থাকো তবে সংশয় ছেড়ে নেমে এসো,
দেখছোনা ওরা আমাদের বন্দি করার জন্য,
নব নব আইন আর শিকল বেড়ী তৈরী করেছে।
ওদের বিষদাঁত ভাঙ্গার সময় এখন,
বায়ান্নর ভাষা থেকে একাত্তরের মুক্তি পর্যন্ত,
পাড়ি দিয়েছি এক সাগর রক্তের তরঙ্গ।
এ রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারেনা,
বন্ধ করো যত সন্ত্রাসী আর টেন্ডারবাজী,
বন্ধ করো অস্ত্রের ঝনঝনানী আর প্রদর্শন।
আর খেতে দেয়া হবেনা রিলিফের মাল,
অফিস আদালতে বন্ধ করো ঘুষের ডামাডোল,
বন্ধ করো কলমের মাইর পেচ।

আসছে সেদিন

হান্নান
আড় চোখে তঁকাবিনা শয়তান চোখ তুলে নেব,
দাঁতের উপর দাঁত রাখবিনা সে দাঁত ভেঙ্গে দেব।
মোরা সংগ্রামী মোরা স্বাধীন
মোরা নই কারো পরাধীন
পরওয়া করিনা তোর ঐ রক্ত চক্ষুর,
আর দেখাসনা রে þমতার বাহাদুর।
বহুত দেখিয়েছিস আর নয় আর নহে আর
তোদের জ্বালিয়ে পুড়িয়ে এবার করেদেবে ছার খার
সময় পেয়ে তোদের উলঙ্গীরাও করেছে মোদের উপহাস,
ঝপটে ধরে চুলের মুঠি রাখবো এবার ইতিহাস।
বুকের পরশেনিয়ে দেখার কত জ্বালা এ বুকে,
þনিকের পরশে সারাটি জীবন মরবে ধুকে ধুকে,
আমাদের জন্যই তোরা,
তোদেরজন্য নহে মোরা
এ কথা বুঝালিনা তোর কোন দিন,
বিদ্রহের আগুন উঠবে জ্বলে ভাবিসনি একদিন,
সংগ্রামের আগুন উঠেছে কে বল জ্বলে

জানি পালাবি এবার পরনের কাঁপড় খুলে

ফিরে কি আসবে

হান্নান
দিকে দিকে সব মর্ম্র ধ্বনী আর ত্রাস,
দেশ জুড়ে চলছে নৈরাজ্য আর সন্ত্রাস।
জীবন সেতো জলন্ত সিগারেটের ধোয়া,
মুখের মত ঘর থেকে বাহিরে আসলেই নিঃশেষ,
পশু পাখির মত হয়েছে মানবের জীবন।
তাদের অস্ত্রের ঝন ঝনানীতে ন্যয় পরায়নতা আজ নিস্তব্দ্ধ,
জ্ঞান ভান্ডার বই পুস্তকেই সীমাবদ্ধ,
লেখকের কলম শুকিয়ে যায়,
একি মানবতার অভিশপ্ত নির্ম্ম পরিহাস।
কোন দিন কি কাটবে ঘোর অমানিশার এ অন্ধকার?
পূর্ব্ গগনে কি মুক্তি রবির আশা মিলবে?
আবার কি নির্ভয়ে জোৎসনা রাত্রীতে বেড়াতে পারবো ?
নাকি রস খাওয়া জীবন আর ফিরে আসবেনা,
শীতের রাত্রে চাদর মুড়ি দিয়ে আখ খাওয়া,
আর আইলের মাথায় ঘুমানো স্মৃতির পাতায়
অতিত হয়েই থাকবে ?

সেভেন বেংগল

হান্নান
ওগো সেভেন বেংগল
তোমাকে জানাই হাজার ছালাম
জীবনের সব প্রেম তোমাকে দিলাম
মমতার বাঁধনে তুমি রবে চীরদিন
বজ্রের হুংকার তুমি নহে শক্তিহীন
আমি জানি তোমার বুকে ঢুকেছে কিছু চান্ডাল,
তোমার গৌরবে তারা দিতে চাই ভেজাল।

এ মায়ায় কেন জড়ালাম

হান্নান
আমি এ মায়ায় কেন জড়ালাম
এ ভূবন কে কোন বাধনে বাধলাম।।
এ বাধন তো থাকবেনা চিরদিন
সব ছিন্ন করে ঘর একদিন,
কোন মমতার বাধনে তারে বাধলাম
আমি এ মায়ায় কেন জড়ালাম।।
মৃত্যকে সামনে নিয়ে ভাবি বারে বার
আমার লাগি কাদে দেখি সবে জারে জার
আদর সোহাগীরা মোর লাশের চতুর পাশে,
আমাকে ঘিরিয়া সবাই কাঁদেছে বসে
রাখতে কি পারবে তারা আমাকে
ছেড়ে আমি যাবো জানি সবাইকে
ছেড়ে আমি যাবো জানি সবইকে
এÑকোন লেখন আমার বিধির কালাম,
আমি এ মায়ায় কেন জড়ালাম।।

নামরে জিহাদে

হান্নান
কোন শয়তানে ধরলো তোরে অলস কেন হে মুসলিম
গর্জ্ন দিয়ে ওঠরে ত্বরা সাথে নিয়ে কলবে সালিম
বিলাশিতা আর তন্নী তরুনী ছাড়োরে মুসলমান
চোখ মেলে দেখ বিশ্ব মুসলিম হচ্ছে কত অপমান
সব অলসতা ছিন্ন করে নেমেছে তারা ময়দানে
সব অলসতা ছিন্ন করে নেমেছে তারা ময়দানে
সংগ্রামে এখন ফরজ লেখা আছে আল্লাহর ফরমানে
তুঈ কাপুরুষ নয় তুই বীর পুরুষ
পৃথিবীর মাঝে তুই শ্রেষ্ট মানুষ
রাখবিনা কি সে শ্রেষ্টত্বের অবিধান
না গোলাম সেজেই হবি শুধু অপমান
হাতে নাও হতিয়ার ছাড়ো বিপ্লবী হুংকার
দাসত্ব্যের লাগাম ছিড়ে করো ছার খার
ইহুদী খৃষ্টান আর যতমোনা ফেক নাফার মান
ধরো মুঠি মুঠি আর নামাও গর্দান
মোরা খালিদের বীর বংশ ধর
মোদের নাই কোন ভয় ডর
মোদের পদবারে কাফির কাপে থর থর
হুংকার ছেড়ে নামরে মুসলিম নাই তোদের ভয় ডর
মোরা রাসূলের সেই বীর সেনা
অন্যায়ের কাছে শীর নত করি না সাথে আছে মোদের আল কোরআন
ভয় কিসের হে মুসলমান
এখনো ডাঞ্চছে ওমরের গেইনাঙ্গা তর বারী
জীহাদের ময়দানে নামরে ত্বরা যত মুসলীম নর নারী

আর করো না দেরী

হান্নান
হায়রে ফিলিস্থিন কাশ্মীরের মজলুম মুসলিম,
তোদের আর্দ্তনাদেই ধ্বংস হবে যত যালিম।
হাহাকার কান্না বুক ভরা বেদনা নিত্য তোদের সাথি,
আল্লাহর উপর ভরসা ছাড়া নাইরে তোদের গতি।
দূর বাংলার প্রান্ত কুঠিরে আহা ছাড়া কিছু নাই,
এ মননো ক্ষমতা নাই যে আমার হেথায় চলে ঘায়।
পাশান্ডের লাগাম পরেছে মুসলিম দরদ নেই তার বুকে,
উলংগীদের পিছু ধরেছে তাই ভুলেছে তোকে।
উলংগীদের রাণ দেখিয়া পাগল হল মুসলমান,
আর দেরী নেই কদিন পরেই দেখবি হবি অপমান।
ভাই এর দরদ নেই বুকে তোর ওরে পাশান মুসলিম,
কোন শয়তানের মুরিদ হলি সাজলি এমন জালিম।
ওরে আমার মজলুম মুসলিম সোনার ভায়েরা,
তোদের জন্য অপেক্ষায় আছে জান্নাতী হুরিরা।
খোদার রাহে জীবন বিলাও মনে রেখোনা সংশয়,
বার বার খোদার কাছে চাও শয়তান হবে আশ্রয়।
জান্নাতের মত বড় নিয়ামত স্বল্পতে না হয়,
খোদার জান্নাত সেতো তর বারীর নীচে রয়।
ভয় পেয়োনা ওহে ফিলিস্তিন কাশ্মিরের মুসলিম,
তোমাদের পায়ের নীচে একদিন আসবে যত জালিম।

জ্বলিয়ে দাও

হান্নান
ত্রাসের আগুন জালিয়ে দাও জালিমদের ঘরে ঘরে
কুত্তার মত হত্যা করে পাঠাও ওদের নরে
ওরা পাপিষ্ঠ ওরা হিংসুক শয়তান
মোদের অর্থে গড়েছে ওরা রাজসিংহাসন
জালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার কর ওদের রজদরবার
এক হয়ে সব নাম রাজপথে নাই ওদের নিস্তার
সময়ের ব্যবধানে হও আগোয়ান
জোয়ান রক্ত মখো বিদ্রহের বান
অধিকার নিতে শোখা উচু করে শীর
সবে যেন বলে তোরে ওযে মহাবীর
শক্ত করে কোমর বেধে নামরে রণাঙ্গনে
বীর দর্পে চল ছুটে চল ভয় রাখিসনা মনে
মোদের অর্থ্ লুটে পুটে কুলঙ্গার আজ মস্তান
হারামখেয়ে খিল খিলয়ে কুলঙ্গী আজ গস্তান
কুলাঙ্গারের জিহবাধরে রাখবীরেতোর পদবারে
কুলঙ্গীরে শায়েস্ত‍াকর ঝেকড়া চুলের মুঠি ধরে
বারুদে মত উঠরে জ্বলে জোয়ার যত ঘরে ঘরে
জ্বালিয়ে দাও শয়তান আসর তৃÂv মিটাও বুকটি ভরে

ধ্বংসের পৃথিবী

হান্নান
ধ্বংসের মুখোমুখি মায়াবী এ পৃথিবী,
অশান্তির দাবা নলে জ্বলছে যেন সবি ।
বিশ্বব্যপী চলছে যেন পরমানু মেলা,
সবার মূলে রয়েছে হায় মানুষ মারার খেলা।
সাদা কুত্তা লাল কুত্তা ঐ যে কালো কাক,
বিশ্ব ব্যপি দ্যাখে কোথায় মানুষ মারার ফাঁক।
কুত্তা কাকের হৃদয়ে হায় নেই কি কোন দয়া
, এত মানুষ মেরে ও কভু হইনা তাদের মায়া।
মানুষ নিয়ে খেলছে খেলা ধ্বংস যজ্ঞে মাতঙ্গী,
ক্ষয় করিল লয় করিল সাথে নিয়ে উলঙ্গী।
অশান্তির দাবানল বিশ্বব্যপী জ্বলে ,
ছুটছে মানুষ হুশ হারিয়ে কুত্তা কাকের পালে।
ইরাক গেল আফগান মল্যো ইরান গ্রাসের মুখে ,
একে একে ধরবে সবার রইবে না কেউ সুখে।
ওদের বাসনা সবাই যেন হয় ওদের গোলাম,
নীচু করে শীর সবাই যেন করে ওদের সালাম।
ওরা মানবতার মুখোশ পরে সদয় দিচ্ছে ফাকী,
ওরা জানেনা বিধাতার দিন এখনো রয়েছে বাকী।
ফিলিস্তিনের অবুঝ শিশুদের হত্যা এটা কিমানবতা নই?
আফগান ইরাকের গন হত্যার ইতিহাস কথা কয়।
ও মানরতার ধ্বজা ধারীরা তাদের পক্ষে কেন কথা নাই?
তাদের পক্ষে কথা বলতে আমি করিনা ভয়।
অনুরোধ করি এ ভাবে আর মানুষ হত্যা করোনা,
হাজারো মায়ের কোল তোমরা আর খালী করোনা।
তোমাদের এ দম্ভ একদিন শেষ হয়ে যাবে,
অথর্ব হয়ে মৃত্তিকা বেশে একদিন পড়ে রবে।

জ্ঞানীর কদর

হান্নান
মানুষের আবয়ব হলেই মানুষ সে নয়,

যার ভিতর হুশ আছে সেই মানুস হয়।
দু,পায়ে দাঁড়ানো দেখে ভেবনা মানুষ,
দেমাগ দিয়ে চিন্তা করো আছে কি তার হুশ।
প্রবৃত্তির লালসাকে দমন করে যে,
জানিও হে জাতী আসল মানুস সে।
অপরকে না চিনে আগে নিজেকে চেনো,
মানুষ হতে হলে জ্ঞানী জন মানো।
অলসতাই কুলালসা জানিও সবে,
লালনার জাতী বলো মানুষ হল কবে?
অলস মাথা ভরা শয়তানের বাসা,
দুঃখ ছাড়া তাদের জীবনে সুখ নিরাশা।
সুখি যদি হতে চাও,মানুষ হও সবে,
আসল মানুষ হলে সুখ তুমি পাবে।
ধন দৌলতে কভূ সুখ নাহি হয়,
যুদ্ধ করে যে,মনের সাথে সে সুখে রয়।
পাওয়ার আশাকে মনে ঠাই দিও না,
পাওয়ার আশাতে কভূ সুখ থাকেনা।
জ্ঞানী মানো জ্ঞানী হও ভূল করো না,
জ্ঞান ছাড়া কভূ কেউ মানুষ হয় না।
জ্ঞানীর কদর দ্যাখো নেই যেখানে,
পশু ছাড়া আছে কি বলো সেখানে?
জ্ঞানীর কদর তুমি যদি করো ভাই,
তুমিও জ্ঞানী হবে নিশ্চয়।

মরা জিন্দা

হান্নান
এক ব্যাটার এক চাচা ছিল বড়ই বিত্তবান,
এলাকার ভিতর নামি দামী বড়ই সম্মান।
চাচার এক কন্যা ছাড়া আপন কেহ নাই,
ঐ ব্যাটাকে ভালবাসেনা চাচা মহাশয় ।
চাচার কন্যা করবে বিয়ে ব্যাটার বড় লোভ,
সম্পতির লোভে ব্যাটা মারল গলে কোপ।
লাশটাকে রাখল ব্যাটা চাচা শত্রু দ্বারে,
মিছামিছি কাঁদে ব্যাটা চাচা চাচীর ঘরে।
নিজের দোষ চাঁপিয়ে দিল অন্য লোকের ঘড়ে,
মনের ভিতর খুশি নিয়ে শুন্য মাথা নাড়ে।
খবর গেল মুসার কানে মুসা অবতার,
সবাই মিলে বলল তারে দেখো কি ব্যপার?
খোদার হুকুসে মুসা কহিলেন শোন ,
বিচার চাইলে পারে গরু কিনে আনো।
যবেহ করো গরু গোশত লাগাও গায়,
মুর্দা জিন্দা হয়ে দেখো কি কয়।
অপারাধী চক্র দেখলো মহা ভার,
মুসার কাছে এবার নাহি নিস্তর।
গরুর ধরন নিয়ে নানা প্রশ্ন করে ,
নিজের প্রশ্নে এখন নিজেরাই মরে ।
কি ধরনের কেমন রংয়ের গরু
বলো হবে অবতার ?
এই ভাবে তে প্রশ্ন করে
তারা বার বার।
ঐ দেশে এক বুড়ি ছিল তাহার কেহ নাই,
হৃষ্ট পুষ্ট হলুদ রংয়ের গাভীটি তার ঠাই।
তাহার মত এমন গাভী দেশে ছিল না,
দেখতে আজব মনে হয় স্বপ্ব কল্পনা।
কহিলেন অবতার তাহা কিনে আনো,
সমাধান পাইবে যদি আমর কথা শোন।
উচ্চ দামে কিনলো গাভী বুড়ি হলো ধন্য,
বিপাক পড়ে মুসাকে করলো তারা মান্য।
যবেহ করলো গরু গোশত দিল গায়,
অমনি চাচা জিন্দা হয়ে আসল কথা কয়।

কাঁপিবে ধরনী

হান্নান
কাঁপিবে যখন বিশ্ব ভূমী

উৎগিরন করিবে সবাই জমি
বলবে মানব কি হলো কি হলো
সব গোপন খবর বাহির হয়ে গেলো
সব ফল স্বমু্খে উঠবে ভেসে
কেউ কেঁদে কেউ উঠবে হেসে
ভালো মন্দ সেদিন সব দেখতে পাবে
ভাবরে মানব তখন তোর কি হবে
আসমান হবেরে দীর্ণ্ বিদীর্ণ্
বিwþপ্ত হয়ে পড়বেন þত্র বর্ণ্
উৎবেলিত হবে সাগর মহাসাগর
উন্মচিত হবে বিশ্বের সবই কবর
সেদিন মানুষ জানবে নিজ হাল
কি করেছে ইহ কাল
হে মানুষ নাই কিতোর হুশ
রব হতে কে রাখলে করে বেহুশ
সুজিয়াছেন যিনি অসি সুন্দর আবয়বে
ইচ্ছা মত দিয়েছেন আকৃতি সবে
না না না তোমার ধর্ম্ কে মানব না
এ কাজের তদারকী আছে সেকি জাননা

সময় দিলেনা

হান্নান
তুমি কি ধরনী ছেড়ে যাবে
না ধরনী তোমাকে তারিয়ে দিবে
ভেবে দেখেছ কি কোন দিন
দুদিনের দুনিয়াতে মুসাফির সবে
স্থায়িত্ব কভূ কারো নাহি হবে
তোমার জীবনে ও আসবে এদিন
সবাই বলে বিদায় নিব
বিদায় কি কেউ নিতে চাই
মায়া জড়ানো পৃথিবীহতে
বিদায় নিতে বাধ্য হয়
ও কবি বলতো কেন এমনটি হয়
বিধির বিধানে বয়স যে নাই
তাই পৃথিবী তাকে তারিয়ে দেই
পৃথিবীর রঙ্গ মন্চ পেলাম
কত বেদনায় ধুকে
সুখের আসর কন বাঁধলাম
এ ধরনীর বুকে
তারিয়ে দিল তখনি এ পৃথিবী
কেড়ে নিল নিঃস্ব করে সবি
এত ভালোবেসে পৃথিবী তুমি
আমার হলেনা
তোমার পিছে এত ঘুরলাম
তুমি একটু সময় দিলেনা

সুখের বাতি

হান্নান
তরুনের নিই তাড় নার শেষ
উল্লাসে চলে নব উন্মেস
পিচিছল সারা নেতা ইতার বাধা
বয় সের চৌ কাঠ
এখানো দিইনি ডাক
ঐ যে ডাকিছে ত্রিশের কোঠা
তখন ঠেকাবে তারে কোন ব্যটা
যখনি হবে দুই টি মাথা
তখনি জোগাবে কমুল কাঁথা
কি যেন কি হলো বলে কূল পায়না
এখন কোথাও আর ঠায় মিলে না
যখনি হয় দেখি ছয় পাও
পিছন থেকে বলে বাবা কোথা যাও
সংসার সংসার করে পাগল
দুদিন পরেই হয় শুধু গন্ডগোল
হিসাবের খাতাটানে এখন দেখি ভাই
এত দিন কোথোয় ছিলে বলো দেখি তাই
তরুনের তাড়নায় সব থাকে অন্ধ
যৌবনে পা দিলে হয় দুয়ার বন্ধ
লাথি মারো কপাট খোল যৌবন সাথি
অন্ধ কারে জ্বাল যুবক তোর সুখের বাতি

মুক্তি

হান্নান
অশান্তির এই অনল দহনে দগ্ধ হবো কতদিন
হিংস্র হায়েনার থাবার নীচে গুনছি আমি দিন
জিম্মি কারার কয়েদী গেল সদয় বসে ভাবি
তরুন যৌবন জিম্মি কারায় শেষ হলে মোর সবি
এখানে নেই কোন শান্তনা বাণী
এখানে আছে শুধু নৈরাজ্য আর অপমানী
এখানে আছে þমতার বাহু বল
এটা হলো মিথ্যা বাদীর আশ্রয় স্থল
চরিত্রহীন লম্পট রাই মহা নামী দামী
এখানে নাই স্হান যার আছে অন্ত যামী
আমি চাইনা আমি চাহিদা এখানে থাকতে
আমি পারিনা এই কুলাংগারদের ভাল বাসতে
এখানে থেকে পেতে চাই আমি মুক্তি
কবে বলো আমার হবে সে শক্তি
বাঁধনের লাগাম ছিড়বো বলো করে
জিম্মি এ কারা থেকে মুক্তি কি মোর হবে

ধুমকেতু

হান্নান
অধবিত্ত চন্দ্রটি সবেমাত্র পশ্চিম দিকে ধাবমান
গ্রামের কোলা হল এখনো শেষ হয় নি
কিছু কিছু বাড়ীতে তখন ও জ্বলছে হারিকেন
রাস্তা হতে ঘরে এসে বসলাম কুরসীতে
বিতৃথ্ঞা ভাবে তখনো মাথায় হাত
মনে হচ্ছে কি যেন অশান্তির দাবানল
দাও দাও করে আমাকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে
পৃথিবীর সব চিন্ডা এখন আমার মাথায়
চেয়ার ছেড়ে উঠে আসলাম বাহিরে
চন্দ্রটি পশ্চিম দিগন্তের প্রাত্তসি মায়
এ যেন এক হলুদ রাত্রী
গ্রামটা স্তব্ধ কোথাও নেই আলোর লেশ
তখন আমার প্রদাপটি পূত্র জলমান
দরজাটা লাগিয়ে সবে মাত্রা হারি কেন
টিপ দিয়ে খাটে হেলান দিয়েছি
হঠাৎ বাহির বাড়িতে খস খস শব্দ
কে যেন আসছে
একটু পরেই দরজায় কড়ী নড়ে উঠল
কে কে কোন সাড়া নেই
আবরে জোড়ে কড়া নড়ে উঠল
জোরে বললাম কে
চিকন গলার আওয়াজ ভেসে আসল
কি ব্যপার কোন পরীর আগমন নইত
শুনেছি মুরুববীরা বলতেন পরী আসে
শরীর যেন কেমন অবশ হয়ে
আসতে লাগল সন্দে হনিয়ে
দরজা খুলতেই লাল শাড়ী
হাতে একটা ছোট ব্যাগ
রাজ পরী আমার দুয়ারে
কি ব্যপার আপনাকে তো
চিনলাম না
রাজ পরী সাথে সাথে ভিতরে
এসে পায়ে ধরে বলল
দয়া করে আমাকে একটু
জায়াগা দিন আশ্রয় দিন
যুবতী রাজ পরীকে আমি কোথায়
আশ্রয় দেব
অগ্র পাছ সব ঘটানা শুনলাম
রাজ পরীকে
এতো আমার কলেজ পথে যাওয়
সেই মেয়েটি যার জন্য আমার
এত প্রেসনা কিন্ত তুমি এখানে
কেমনে আসলে কে চিনালো
গ্রামের কোথাও বাতী নেই
এখানে একটু বাতীর লেশ পেয়ে এলাম
বুঝলাম বিপদে পড়েই এসেছে
তো সকাল হলে কোথায় যাবে
যে দিকে দুচোখ যায়
তার পরেও ওকে আমি বিয়ে করব না
ও কে ঐ যে কামরান সন্ত্রাসীটা
অস্ত্রের মুখে পিতাকে রাজী করেছে

তুমি কি আমার এখানে থাকবে
কিন্ত সকাল হলে পিতা মাতা সমাজ
কি বলবে
রাত্রে যুবতীর আগমন
সব কথা বুকো রেখে জায়গা করে দিলাম
জানিনা সে খুনিয়ে ছিল কিনা
বারান্দায় খুটি হেলান দিয়ে
সারা রাত তারা দেখলাম

সকল তারার পরিবতন আছে
ধুমকেতু একাই স্থির
মনে যখনী কুপ্রবৃত্তি জাগ্রত হয়
তখনী ধুমকেতুর দিকে তাকায়
আর বলি আমি কি পারি না
ধুমকেতু হতে
চেহারাটা কালো বলে কেত ভালোবাসে নি
আমার কি ভালবাোর সাধ নেই
অন্যদের মত আমিও কি
সুন্দরীদের হাত ধরে চলতে চাই না
কিন্ত না কেউ আমাকে ভালবাসেনি
কেউ আমার কাছে আসেনি
রাজপরীকে একা পেয়ে আমি কি
সর্বনাশ করতে পারি

রাজ পরী

হান্নান
সকাল হলো ছড়িয়ে পড়ল দিক দিগন্তে
অপবাদের ছায়া আমাকে ঘিরে ফেলল
কেউ বিশ্বাস করেনা রাজ পরী একা এসছে
সমস্ত অপবাদ মাথায় নিয়ে
রাজ পরীকে আমার বাড়ীতেই রাখলাম
আমার মা ওকে খুব স্নেহ করে
নিজের মেয়ের মত দ্যাখে
রাজপরীর পিতা ভাই আসলো
গ্রামের আনেক মতের বর ও এসেছে
রাজ পরী তাদের সাথে যেতে নারাজ
সে এখানেই থাকবে
সব সময় মায়ের পাশে থাকে
আমি ভূলেও তার সাথে কথা বলিনা
চারটি বছর কোন দিন কোন গুমুক করিনি
মনে সাধ ছিল হইত আমাকে ভালোবাসবে
কলেজ পথে এখন আর রাজ পরীকে
দেখার জন্য আপেÿvয় থাকবে হয় না
রাজ পরী এখন আমার বাড়ীতে
আমার যেমন ব্যক্তিগত ইচ্ছা স্বা্ধীনতা আছে
আমি যেমন সুন্দর সুদর্শ্ন চাই
একজন নারীর ওকি তা থাকতে পারেনা
এই ভেবে বুক যন্ত্রনা বেধেও
রাজ পরীর নিকট কোন দিন
ভালবাসার প্রস্তাব দেইনি

রাজ পরীর পিতা মাতা তাকে
ত্যাজ্য করেছে ঘরে নিবে না
আমার বাবা রাজ পরীর বিবাহে রজন্য
উঠে পড়ে লেগেছে
রাজ পরী তাতে নারাজ
পঁচ ব্যসর পর
আমি বাহিরে চেথার পেতে বসে মাছি
রাজ পরী সবার অজান্তে
আমার পিছে দাড়িয়ে বলল
আর কত দিন এ ভাবে জ্বলবে
কৈ না তো আমার কিছুই হয়নি তো

বাহ বাহ আমি তো কিছুই বুঝিনা
তোমার অনেক কবিতা আমি পড়েছি
আমি জানি পৃথিবীর কোন সুন্দর নারীই
কুশ্রি চেহারার স্বামী চাইনা
কিন্ত পৃথিবীর সে ভূল আমি ভেঙ্গে দেব
আমি প্রমান করবো
বাহ্য সুন্দরকে নজ আদর্শ্ কে ভালবাস
আদর্শকে গ্রহণ করো
রাজ পরী তোমার এই কথাটিয়
আমি শুনতে চেয়ে ছিলাম
তাই নিজের মোহ কে জলাওহলী দিয়ে
তোমার অপেÿvয় জ্বলেছি
আমার জীবনের সব দুঃখের
আজ কবর রচনা হলো
বিবাহের মাধ্যমে ভূবন জয়
করলো রাজ পরী

আট্টালিকা

হান্নান
হে ভাবুক অট্টালিকার দিকে তাঁকিয়ে কি ভাবছ
তোমার জীবনের এতই কি আশা
তাই অট্টালিকার রঙ্গীন আলয় দেখে চোখে জ্বল
সৌন্দয্য মন্ডিত দেখে কেন এত হত বাক
ঐ অন্তপূরীতে কি আছে জানো
তুমি জাননা তাই তোমার এত প্রত্যাশা
তাহলে শোন বিশটি বছর ওখানে থেকেছি
আগুনে জালিয়ে ইটের তৈরী অট্টালিকায়
যারা বাস করে তাদের জীবন আগুনের চাইতেও দগ্ধ
প্রতিটা ইটের ভিতর শোন যায় বেদনার কান্ত্রা
ভিতরের প্রতিটা মানুষের বুকে শুধু তৃথ্ঞা
পেটের ÿzধায় জজরিত উদর সমুহ
মোহ গুলি তাদের শিকলে বাঁধা কয়েদীর ন্যায়
বিবেক গুলি জংলী প্রাণীর ন্যায়
স্ত্রী চলে যাচ্ছে রিক্স অলার হাত বরে
ছেলে মেয়েদের নাই চলার ছাড় পত্র
ওদের বিরহ যন্ত্রনয়ে ধুম চলছে জ্বানালা দিয়ে
ওদের পাপের কান্নায় ফেটে পড়ছে অট্টালিকা
তুমি ওর দিকে তাকিও না
ওদের পাঁপের ছট্টা তোমার গায়ে লাগবে
অট্টালিকা ছেড়ে বাঁশ বাগানের
ঐ কুড়ে ঘরে কত যে সুখের ঘুম
তা বিশটি বছর পর অনুধাবন করেছি
দিন আনি দিন খায়
আমার কোন চিন্তা নাই
অট্টালিকা দুঃখের সাগর এটাই বলে যায়

পাঁচই মের কালরাত্রী

হান্নান
জাতীয় শ্রমিক দিবসের গন্ধ তখনো কাটেনি
লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগমে মুখরিত শাপলা চত্ত্বর
দূর থেকে মনে হচ্ছিল যেন ফেরেস্তার মজলিশ
আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে মুখরিত হচ্ছিল
বাংলার আকাশ বাতাস
সে যেন এক ধর্মীয় কোলাহলে জাগ্রত বাঙ্গালী
আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলের সমাগম
কি চায় তারা কিসের জন্য এই সমাবেশ
তারা অর্থ সম্পদ ক্ষমতা কোন কিছুই চাইনি
তারা চেয়েছিল কোরআন বিরোধীদের শাস্তি
নাস্তিক মুরতাদ ব্লগারদের শাস্তি
কিন্ত এ দাবীতে তারা নিজেই শাস্তি পাবে
এ কি তারা জানত
জীবনের মায়া সাঙ্গ করে চলে যেতে হবে ধরনী হতে
এ ভাবনাও তাদের ছিলনা।
সারা দিন পর রাতে যখন তাছবিহ তাহলীলে ব্যাস্ত
ঠিক সেই সময়ই খড়গ হস্ত ধারন করলো
বন্ধ করে দেয়া হলো শহরের ইলেক্ট্রিসিটি
বন্ধ করে দেয়া হলো ইসলামপন্থী লাইভ
স্যাটালাইট চ্যাণেল গুলো
চতুরদিক হতে হাসিনা বাহিনী স্বয়ংক্রীয় অস্ত্র হস্তে
নিরস্ত্র মানুষের উপর সাড়াশী আক্রমন চালালো
সেদিন শাপলা চত্বরে শুনাযাচ্ছিল শুধু বাষ্ট ফায়ার
আর অসহায় মানুষের আহাজারী
রক্তাক্ত হয়ে গেল রাজপথ আকাশ ভারী হতে লাগল

ইসলামী চেতনা

হান্নান
মোরা বাংলার মোসলমান,
বুকে আছে আলকোরআন ।
সত্য ন্যায়ের পথিক হয়ে, চলরে নওজোয়ান।।
দিকে দিকে চলছে মুসলিম নিধন,
রক্তের বন্যায় ভাসছে আরাকান
রক্ত দিয়েছি আরো দিবো,
আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন,
কায়েম হবেই হবে একদিন।
বাতিলের হুংকারে নাই ভয় ডর
থাকবেনা সেদিন জালিমের জুলুম,
মুক্তি পাবে সকল মজলুম

আরাকানের মুসলিম নিধন

হান্নান
শুনতে কি পাও হে বিশ্ব মানবতা আরাকানের আর্তনাদ?
শুনতে কি পাও মুসলিম রোহিঙ্গাদের বুক ফাঁটা ফরিয়াদ?
ধর্ষন,গুম,হত্যার খড়গ হস্তে মেতেছে বার্মার আর্মি আর বৌদ্ধরা,
ষ্টীম রোলারে পিষে রোহিঙ্গা মুসলিমদের করবেই ওরা দেশ ছাড়া।
ঘরে ঘরে জ্বালাচ্ছে আগুন,কোলের শিশুকেও দিচ্ছে জ্বালিয়ে,
ছিন্নভিন্ন লাশের পর লাশ দিচ্ছে তারা নাফ নদীতে ভাসিয়ে।
পিতামাতা স্বামীর সামনে স্ত্রী কন্যাকে করছে ধর্ষন পর হত্যা,
মেতেছে মাতঙ্গী সূচীর আর্মি আর বার্মিস ন্যাড়া কুত্তা।
আরাকানের মজলুম মুসলিমদের আর্তনাদে ভারী হচ্ছে ধরনী,
দুহাত তুলেছে প্রভুর দরবারে, হে প্রভু আছে কি কোন তরনী?
জেগেছে বাংগালী এসো হে রোহিঙ্গা আমাদের মাতৃকোলে,
মাতৃ ছায়ায় কিছুটা বেদনা যাবে তুমি ভূলে।
তখনো জাগেনি মানবতা, তখনো জাগেনি বিশ্বমুসলিম ,
এরদোগানের হুংকারেও দমেনি বার্মার ন্যাড়া জালিম।
বোবা শয়তানের ভূমকিায় জাতি সংঘ ধরেছে ছদ্দবেশ,
তাদের ইচ্ছা বিশ্বমুসলিম, সব হয়ে যাক শেষ।
তারপরও কি কাটবেনা মুসলমানের ঘুমের রেষ?
কোন নর্তকী আর নেশার মোহে বিভোর মুসলিম জাতি,
কোথায় তোদের অতিতের গৌরব গাঁথা খ্যাতি?
কোথায় উমর,কোথায় আলীর ঐ সে হায়দারী হাক,
নির্যাতিত আরাকান মুসলিম দিচ্ছে তোদের ডাক।
মোরা মোনাফেক,মোরা মুসলিম নামের কলংক,
মোরা ভালবাসি নিজ স্বার্থ আর ঘুমের পালংক।
আমরা ব্যাথিত অসহায়,আমরা নির্বাক নিস্তব্ধ মুসলমান,
বিশ্বের কোথাও নাই যেন আমাদের এতটুকু সম্মান।

অমর একুশে

হান্নান

একুশ,একুশ,একুশ খালী মুখের শূন্য বুলী,
একুশ আসলেই খুশিতে যেন নাচে বনমালী।
একুশ নামের পুঁজি করে কেউবা মারে হাম্বা,
ব্যথিত হয়ে কেউবা কাঁদে ধরে ঘরের খাম্বা।
একুশের দাবী হবে কি পূরন হে বাঘা বাঙ্গালী?
না একুশের মুখে মাখাবী তোরা সদা চুন কালী?
বায়ান্ন হতে বিংশ বিশেও হতে পারেনি বাঙ্গালী,
আর কতদিন রবো মোরা বাংলা ভাষার কাঙ্গালী?
ঘরে ঘরে এখনো শুনি উর্দু হিন্দি ইংরেজ জয়গান,
আর কত করবো মোরা বাংলা ভাষার অপমান?
বাংলা ধরো,বাংলা বলো,বাংলারে দাও সম্মান,
বাংলা মায়ের সন্তান মোরা রাখবো বাংলার মান।
ইতিহাসে মোরা বাঙ্গালী, ইংরেজ উর্দু করেছি খালী,
বাংলা ভাষা রে কখনো মোরা দিব না জলাঞ্জলি।
সালাম বরকত রফিক জব্বার সবার বিজয় মরনে,
তুলি দুই হাত, করি মোনাজাত সবার মুক্তির স্বরনে।

আমার একুশে

হান্নান
একুশ,একুশ,একুশ খালী মুখের শূন্য বুলী,
একুশ আসলেই খুশিতে যেন নাচে বনমালী।
একুশ নামের পুঁজি করে কেউবা মারে হাম্বা,
ব্যথিত হয়ে কেউবা কাঁদে ধরে ঘরের খাম্বা।
একুশের দাবী হবে কি পূরন হে বাঘা বাঙ্গালী?
না একুশের মুখে মাখাবী তোরা সদা চুন কালী?
বায়ান্ন হতে বিংশ বিশেও হতে পারেনি বাঙ্গালী,
আর কতদিন রবো মোরা বাংলা ভাষার কাঙ্গালী?
ঘরে ঘরে এখনো শুনি উর্দু হিন্দি ইংরেজ জয়গান,
আর কত করবো মোরা বাংলা ভাষার অপমান?
বাংলা ধরো,বাংলা বলো,বাংলারে দাও সম্মান,
বাংলা মায়ের সন্তান মোরা রাখবো বাংলার মান।
ইতিহাসে মোরা বাঙ্গালী, ইংরেজ উর্দু করেছি খালী,
বাংলা ভাষা রে কখনো মোরা দিব না জলাঞ্জলি।

সালাম বরকত রফিক জব্বার সবার বিজয় মরনে,
তুলি দুই হাত, করি মোনাজাত সবার মুক্তির স্বরনে।

অতি তের স্মৃতিগুলি

হান্নান
কোথায় আমার ঘুম ভাঙ্গানী মাসীপিসীর স্মৃতি পাতার গান?
কোথায় দাদীর হাম্বলদিস্তার ঠনঠননী বাটায় ভরা পান?
কোথায় মায়ের আঁচল নীচের ঘ্যানঘ্যানানী হু দশ নয়া দে মা
অমনি হাতটি ধরে আঁচল হাতে নাকের পোটা মুছে দিত মা।
কোথায় মায়ের আঁচল বাঁধা, সেই সোনামনি ভোলানো কড়ি?
কোথায় ভেপুর কোমর কুলপি অলা, যেথায় যেতাম দৌড়ি।
কোথায় নদীর পাড়ের বটবৃক্ষ,যার শাখায় দিতাম ডিগবাজী,
চালাক চতুর অনেক বাহাদুর, মারতো আবার উল্টাবাজী।
কোথায় হারিয়ে গেল সে আনন্দ অনুভুতির মনোহরিনী দৃশ্য,
অতিতের সব স্মৃতি হারিয়ে হয়েছি যেন ঘরকুনে এক নিঃশ্ব।
কোথায় শীতের রাতের সেই খেজুর রশের কচুড়ী দেয়া হাড়ি,
কচুড়ী রশ খেয়ে মুখ চুলকাতে চুলকাতে ফিরতে হতো বাড়ী।
কোথায় আমাদের গমের মাঠ দলে দলে যেতাম গম ঠেকাতে,
কোথায় ছোলার শাকের মাঠ,মনোহরিনীরা যেত শাক তুলিতে
কোথায় হারালো আখ মাড়া মেশিনে কানা গরুর ঘুল্লি পাক,
কোথায় আখের বাইনে চিংড়ি পাটালী আর নুরো ময়রার হাক।
শীতের সকালে কাঁচের শাকের গুটি,আর লাটিম খেলার ধুম,
অতিতের বিষ্ময় সব স্মৃতি হারিয়ে এখন দেখি শুধু খুন গুম।
বৈকালের সেই দাড়াগুলি আর খেটে খেলার হাকাহাকি,
কখনো হাততালী,কখনো কুর্নিশ আবার কখনো বকাবকি।
মাথায় গমের বস্তা নিয়ে দলে দলে যেতাম গম ভাঙ্গাতে,
বিশ্রাম নিতাম মাঝপথে ঐ যে খড়্যো মাঠের বট তলাতে।
মেশিন অলার অঙ্গভঙ্গি আর আটাচুরির তালবাহানা,
অতিতের এই স্মৃতিগুলো কেন যানি ভুলতে পারিনা।
আপুদের সাথে কাবাডী আর ফুটবল খেলার সেই স্মৃতি,
সব পিছু ফেলে এখন ঘটতে যাচ্ছে জীবন ডায়েরির ইতি

ওমা মাতৃভূমী

হান্নান
ওমা মাতৃভূমি বলো কি দিইনি তোমার চরনে?
আমার ত্যাগ,তিতিক্ষা সবই তো তোমার বদনে।
রোজ স্বপ্ন দেখতাম শুধু তোমাকে ভালবাসার,
স্বপ্ন দেখতাম তোমার সন্তানদের কাছ থাকার।
স্বপ্ন দেখতাম তোমার কোলের সুখের পরশের,
তাইত হাতে তুলে নিয়েছিলাম ত্যাগের সমশের।
সেদিন ছিন্ন করেছিলাম সমস্ত মায়া মমতার জাল,
তোমাকে নিয়ে আমার ত্যাগে ছিল বড় নির্ভেজাল।
সব ছিন্ন করে তাই তোমার বুকে নিয়েছিলাম আশ্রয়,
আমি জানতামনা তোমার বুকের মানুষেরা এত নির্দয়।
তেজদিপ্ত নবযৌবনের বানটি তোমাকেই সপে ছিনু।
জীবনের সব ত্যাগ করে তোমাকেই ভালবেসেছিনু
জীবন উজাড় করে যা দেবার সবি তোমাকে দিয়েছি।
জীবন সহাহ্নে সবিতো শেষ মা বলো আমি কি পেয়েছি?
বার বার চিন্তা করেছি তোমাকে আমি দিতে পারছিতো?
মায়ের স্নেহ,পিতার আদর,স্ত্রীর ভালবাসা,ত্যাগ করছি তো?
সন্তানদের মমতা ত্যাগ করে কাটিয়েছি মা তোমার চরনে,
ও মা মাতৃভুমি এখন আমি অসহায় তাকিয়ে তোমার বদনে।
আমি মুসাফির তোমাকে দিবার মত আছে শুধু নিঃশ্বাস খানি,
প্রয়োজন হলে এ টুকুও দিতে কুন্ঠাবোধ করবোনা মা মনি।
কিন্ত আমার জন্য কি তোমার কিছুই করার নাই হে মাতৃভূমী?
তোমাকে ভালবেসে বিপদের হাতছানীতে নিঃশ্ব হলাম আমি।
কেন আমার পদে পদে বাঁধা,কেন নাই অন্যায়ের প্রতিবাদ?
তোমাকে ভালবেসে কেন মজলুম অসহায়রা করে আর্তনাদ।
তোমাকে ভালবাসার মধ্যেতো কোন ঘাটতি ছিলনা,
তবে কেন মজলুমের সাথে প্রহসন আর ব্যঙ্গ ছলনা।

নেংটীর হাতছানী৷

হান্নান
ফেসবুক টুইটার ইমু আর ম্যাসেন্জার সার্চে আছে গুগোল,
বুড়া বুড়ি ছোড়াছুড়ি এদের পিছে দৌড়াদৌড়িতে পয়মাল।
বিবেক আঙ্গুলের একটু ইশারাই যখন মনে যা করতে চাই
আপন হাতের মুঠোয় করে গোটা বিশ্বটাকে এরা দেখতে পায়।
বিজ্ঞান বিধাতার বড় প্রতিদান, আমরা রাখছিনা এর মান,
মানুষ্যত্ব হারিয়ে আমরা অজানা গন্তব্যের দিকে ধাবমান।
পরকিয়া,ধর্ষন প্রতারনার ফাঁদ সংসার ভাঙ্গা মানুসিক চাপ,
নানা অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে ফ্রি এমবিতে এক ধাপ।
এখন আর হয়না স্বামী স্ত্রীর সেই কাংখিত গল্প গাঁথার কথা,
সবাই এখন মিছে নেংটীর পিছে কেউ বোঝেনা কারো ব্যাথা।
ব্যস্ততা শেষে বিছানায় এসে দুদিকে ফিরে মোবাইল ঘষাঘষি,
বলে সন্তান কেনো ঘরকুনে হলো এর জন্য খোজো এখন ঋষি।
কিছুক্ষন পর চোখ ডলাডলি লেগেছে ভাইরাসের হাতছানী,
আসল কথা যখন কেউ বলে তখন হয়ে যায় বড় অভিমানী।
কোথায় হারিয়ে গেল নব বধুর ভাংগ ভাংগা হাতের চিঠি লেখা ,
অধির আগ্রহে মনের সংগোপনে যাতে থাকতো আবেগ মাখা।
কোথায় হারিয়ে গেল চিঠির ফাইল যা রাখতাম বড় যতনে,
বার বার খুলে খুলে দরজা বন্ধ করে পড়তাম মনে মনে।
হারিয়ে গেল অপেক্ষা প্রহরের স্নেহ প্রেম প্রীতি ভালবাসা।
অতল গহ্বরে সব হারিয়ে যাচ্ছে নাই কিছু ফেরার আশা।

বিহঙ্গীনী৷

হান্নান
তুমি কি পেয়েছো এটা সে কখনো ভাবেনি আর ভাববেওনা,
সে শুধু ভাবে তুমি কত সুন্দর ভাবে তাঁকে কি দিতে পেরেছো।
সে কখনো চিন্তা করেনি আর করবেওনা তোমার আত্মত্যাগ,
সে চিন্তা করে তার পাওনাটা সে ষোলআনা পেয়েছে কিনা?
তোমার কপালে আরো শনি লাগবে যদি পাশে চাটুকার থাকে,
তোমাকে বলবে অমুক তমুকেরা অমুক করে তুমি কি করো?
কোনদিন যদি ভুলেও অভিমানী হয়ে কর্কশতা অবলম্বন করো,
সে নাক মুছবে আর বলবে আমি দেখে তোমার ঘর করলাম।
আমি জানি সবাই এ রকম করেনা, তবে আকসার এরকম,
ওরা আদমের পাজরের বাঁকা হাড় হতে তৈরী তাই ওরা বাঁকা,
ওদের উপর বেশি জোর খাটিয়ে তুমি যদি সোজা করতে যাও
তবে তুমি নিশ্চত জেনে রাখো ওরা সোজা হবেনা ভেঙ্গে যাবে।
ওদের নিকট যতটুকু তোমার প্রাপ্য তা অধিকার বলে নিওনা,
তুমি যদি নরকের চিহ্ন দেখতে না চাও তবে ওদের ক্ষেপিওনা।
ওরা যদি একবার ক্ষ্যেপে যায় তবে জীবনের লয় অনিবার্য,
ওদের অলক্ষ্যে জয় বিজয় তরান্বিত আমি অস্বীকার করিনা,

স্বাধীনতা মানে

হান্নান
আমি স্বাধীনতা দেখেছি মায়ের আঁচল নীচে থেকে,
আমি স্বাধীনতা দেখেছি দুঃসাহসিক মায়ের বুকে।
কি জ্বালাময়ী দুঃসাহসিক হুংকার মায়ের মুখে,
বেরিয়ে যা স্বাধীনতা নিয়েই ফিরবি অামার বুকে।
সে দিন বুঝি নাই স্বাধীনতা কি?কি এর মর্মকথা,
সে দিন বুঝিনি স্বাধীনতা মানে ঘুচানো মায়ের ব্যথা।
আজ বুঝি স্বাধীনতা মানে এক সাগর রক্তদান,
স্বাধীনতা মানে ফুটন্ত মায়ামুখ‌ি জীবন বলিদান।
একটি স্বাধীনতা মানে ক্ষরস্রোতা রক্ত বন্যার সাগর,
একটি স্বাধীনতা মানে সব হারানো বিরান এক নগর।
স্বাধীনতা মানে শোষনের বিরুদ্ধে মজলুমের হুংকার,
স্বাধীনতা মানে আপন হারাদের আর্তনাদের ঝংকার।
স্বাধীনতা মানে সব হারিয়ে শুন‌্য হাতে মায়ের মুখের হাসি,
স্বাধীনতা মানে ওগো বাংলাদেশ আমি তোমায় ভালবাসি।

বাংলার সৈনিক

হান্নান
তুমি বাংলার সৈনিক, তুমি সদা নির্ভিক,
তুমি মায়ের আঁচলে হয়েছো দুঃসাহসিক।
তুমি আস্তা অবিচলে,তুমি চলো গুটনার বলে,
মিথ্যার কালো ছায়া থাকে তোর পদতলে।
তুমি বিক্ষুব্ধ সাগর নাবিক,তুমি ঝঞ্জার মাস্তুুল,
তুমি রাহবার, তোমার পথচলা হোক নির্ভুল।
তুমি কখনো নিঃসঙ্গ,কখনো মাজলুম মুসাফির,
কখনো ক্লেদাক্ত বেদনা বিদ্ধ,কখনো আঁখি নীর।
তোমার চেতনা আর মূল্যবোধ সুদুর প্রসারী,
শুধু কাগজের পাতায় রেখে হয়োনা স্বপ্নচারী।
দেখে এসো কত স্থানে আর্তনাদকে তবু সাথি,
ছুটে যাও সেখানে তার বুকে জ্বালো অভয় বাতি।
জ্বল স্থল আকাশ জয়ী, সবই তোমার সমান,

জীবন দিয়েও রাখো তুমি স্বাধীনতার মান।
মূল্যবোধের মূল্য দিবে তোমার জীবন দিয়ে,
সৈনিক জীবন গড়বে তুমি সেনা চেতনা নিয়ে।

বিমারের বিছানায়

হান্নান
যতদিন দিতে পেরেছি সবারে এ ভবে,
ততদিন ভালবেসেছিল আমারে সবে।
বয়সের ভারে যে এখন নুহ্য আমার দেহ,
দেখো একটু ফিরেও এখন চাহেনা গো কেহ।
সবার জীবনে ওগো দেখো আসবে এমন দিন,
এমন মানুষদেরকে তুমি ভেবোনা কখনো ক্ষীন।
বীর দর্পে যখন চলবে তুমি তখন সবাই তোমার সঙ্গে,
মাখিয়ে দেবেযে আদরের রঙ্গীন ধুলা সবাই তোমার অঙ্গে।
আমিও যে ছিলাম কোন একদিন এই বীর পথিকের প্রান্ত শালাই,
জীবন যুদ্ধে পরাজিত, নির্বাক এক যোদ্ধা শুয়ে আছি বিমারের বিছানায় ।
অবজ্ঞা অনাদর দুঃছেই গ্লানির হাতছানি সব যেন আসে জীবন প্রান্তসীমায়,
শুধু চেয়ে চেয়ে দেখা আর আঁখিজল ঝরানো ছাড়া এ জীবনে আর কিছু নায়।
জীবনের ছেড়া ডায়েরীর পাতাগুলো কোনদিন কি পড়বে কোন মনিষীর ন্যায় চোখে?
যে অব্যক্ত কথা আমি কখনো বলতে পরিনি,যে কল্পনা দৃশ্যমান হয়নি তা বলবে তার মুখে।
কোথায় সহযোদ্ধাদের প্রতি সহমর্মিতা,কোথা আজ ভাতৃত্ববোধ,কোথায় তাদের নীতি কথার ছন্দ?
কোথায় কলিন পাওয়েলের উক্তি ,কোথায় আজ মোদের নেতৃত্ব,তবে কনে প্রকৃতির দানে আমি হবো
মন্দ?

বর্গীর আকাংখা

হান্নান
আনন্দ উচ্ছাস আর কোমলমতি হেলাদুলায়
স্বাধীন সর্বা বর্গীর মনো আনন্দ
চাওয়া পাওয়ার আকাংখার অনুভব
বোঝা মানবীর অভাব না থাকলেও মানবের অনেক অভাব।
মানবীরাতো শিকলি, তাদের দৌড়ঝাপ উঠুন আর পাশ বাড়ী পর্যন্ত।
তার আশা আকাংখাও ঐ রকম ছিল,
নিয়তির দীর্ঘশ্বাস আজ তাঁকে শিকলি করেছ।
নুতন সর্বা বর্গীর আকাংখাও কি তবে এ রকম বিলীন হয়ে যাবে?
সে কি অনুভব করে
যে তাঁকেও একদিন আকাশের দিকে তাঁকিয়ে শুধু দীর্ঘ শ্বাস নিতে হবে?
হাঁ শতকোটি বর্গীর জীবনেতো এটাই বাস্তবতা।
কত আসা কত স্বপ্ন কত আকাংখা সব শেষ হয়ে গেছে।
সর্বশেষে নিয়তি নামের বাক্যের আর খোদার শুকরিয়া দিয়ে
জীবন নামের ঝর্নাধারা প্রবাহমান।
না বর্গীরা কেন তাদের লক্ষভেদে পৌছাতে পারবেনা?
তাদের অন্তরায় কোথায়?
কোন সে দুশমন তাদের পথ রুদ্ধ করে দাড়িয়ে
সব আশা আকাংখা ম্লান করে দিচ্ছে?
হাঁ আশা আকাংখা নিয়ে পথচলা নিরাপদ
কিন্ত মুক্তমনা শয়তানি কখনো নিরাপদ না।
আমি বর্গীদের আকাংখা নিয়ে লক্ষে পৌছানোর উপদেশ দিবো
কিন্ত মুক্তমনার নামে নোংড়ামীর প্রতি বিধাতার অভিসম্পাত।

অবাক

হান্নান
দিনদিন পৃথিবীর মানুষ গুলোর আচরনের
এত পরিবর্তন হচ্ছে ভাবতে অবাক লাগছে,
না জানি কখন এরা এলিয়েন বা ইয়েতী হয়ে যায়। তাহলেও মন্দ নয়
কেননা এলিয়েনদের ভিতর এত স্বার্থপরতা নেই।
সর্বনাশ মানুষ এতবড় স্বার্থপর হবে ভাবিনি।
সামান্য ব্যাক্তি স্বার্থের জন্য মানুষ আজ
নীতি নৈতিকতার তোয়াক্কা করছেনা।
কোন দিকে চলছে জাতী বুঝতে কি
আমার মতিভ্রম হচ্ছে কিনা জানিনা।
এই চরিত্রের মানুষের কর্নধার যদি কখনো হও
তবে সৎ ব্যাক্তি যারা আছো কখনো
এই শয়তান দুমুখোদের প্রতি করুনা করোনা,
ক্ষমতা খাটিয়ে দাও, ওরা স্বার্থপর,
ওদের স্বার্থ হাসিলের জন্য
নির্দিষ্ট সময়ে ওরা তোমার পা ডলবে,
ভেবোনা ওরা তোমার লোক,
স্বার্থ হাসিল হলেই ওরা তোমাকে লাথি দিবে,
তার আগেই ওদেরকে লাথি দিয়ে সরিয়ে দাও।
ওদের প্রাপ্য টুকু অবশ্যই দিবা
কারণ সেটা তাদের অধিকার।
ওদেরকে যত তাড়াতাড়ি তুমি চিনতে পারবে
ততই তোমার কল্যান, স্বার্থপরদের হতে সাবধান।

নির্বাক পৃথিবী

হান্নান
সেদিন ছিল যৌবনের উন্মাদনা,বেকারত্বে থাকবোনা,
কিছু একটা করতেই হবে তা যতবড় কষ্টেরই হোক।
বেছে নিলাম একটা কঠিন জীবন,
যেখানে কাগজের পাতায় আছে সহপাঠীদের প্রতি সহমর্মিতার কথা।
যাদের নির্দেশনায় লেখা আছে ভ্রাতৃত্ববোধের কথা,
তবে কেন আমি যাবনা সেখানে?
ঘাম রক্ত করার জীবনে, কষ্টকে ভয় পাইনি,
প্রতিটা কাজে অদম্য সাহসে সামনে এগিয়ে গেছি ।
জীবনবাজী নিয়ে যখন কাজে সফল হতাম
তখন সবার হাততালী আর প্রশংসা পেতাম।
নিজের ও ভালো লাগতো,সবার মাথার মুকুট যেন আমি।
দিন সপ্তাহ মাস বছর শরীরের উপর দিয়েই চলতে চলতে
চুল দাড়ী পাকা শুরু যৌবনের দিপ্ততা মনে হচ্ছে লোপ পাচ্ছে,
আগেরমত লাফালাফি আর যেন শরীরে কুলাইনা,
রক্তের তেজে কোমরের হাড় ভাংগাও টের পাইনি।
কিন্ত বয়সের ভার ছাড়লোনা,
কোমর ব্যাথায় পা অবশ হয়ে গেল বিছানায় পড়ে গেলাম,
দুদিন সবাই আহা করলো,
হলো কোমর অপারেশন হারালাম কর্মক্ষম।
এখন দেখি আমি প্রিয় লোকদের ও চোখের কাটা।
মানুষ সব হারানোর পরও বিশ্বাসের একটা জায়গা থাকে,
যার বলে সে দাড়িয়ে থাকে আমারও এরকম একটা জায়গা ছিল,
সহসা সেটাও আমার কাছ হতে হারিয়ে গেল।
আসমানের নীচে কর্ম জীবনে এখন আমি বড় অসহায়,
আমি একটা বোঝা।ষাড় গরুটা বৃদ্ধ হলে শেষমেশ
বিক্রি করলে কিছু টাকা অথবা যবাই দিলে কিছু মাংস দিয়ে যায়।
কিন্ত আমারতো সেটা দেবার মত শক্তিও নেই।
যারা আমার সফলতায় হাত তালি দিয়েছল,
তারা যে ব্যবহার করে মনে হয় আমি তাদোর দুশমন।
না আমি কারো দুশমন না,
আমি এখন আর আগের মত কাজ করার শক্তি পাইনা,
তার পরও ওরা আমাকে ছাড়েনি,
আমার দিয়ে অনেক শক্ত অভিযান ওরা করিয়েছে,
কোমরের কাটা হাড় অপারেশন
শরীর নিয়ে জীবন বাজি রেখে পাহাড়,
জংগল,খালে অভিযান করেছি শুধু মাত্র পেনশনটার জন্য।
তার পরও ওদের একটু মায়া হয়নি,
কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে বুড়িঘাটের পেট্রোল রেজিষ্টার,
প্রমোশন নিতে পারতাম কিন্ত কারো চোখের বোঝা হয়ে থাকতে চাইনা,
তাই শেষ সিদ্ধান্ত সরে যাওয়াই উত্তম।আমার দেবার যা ছিল সবই দিয়েছি।
আপনজনদের জন্য শুধু নিঃশ্বাস টুকু নিয়ে যেতে চাই।

মুসাফির

হান্নান
মুসাফির জাগ্রত হও,সোবহে সাদেক সমাগত,
ছাড়ো জুলমাত বিছানা,মন্থর করো অপসৃত।
মসজিদে মসজিদে ধ্বনিত ঐ ফজরের আযান,
সময় এখন তোররে মুসাফির তৌহীদে দে শান।
তোর তাকবীরে মুন্ডিত হবে,বাতিলের গর্দান,
তুই বাঁচলে গাজি মরলে শহীদ আল্লাহর মেহমান
জামাতে শামিল হও মুসাফির গাঠরী রাখো পিছে।
খোদার রাহের কর্ম ছাড়া,সবই তোমার মিছে।
তোলো দুই হাত,করো মুনাজাত বিধাতার দরবারে,
তুই মুসাফির তুই মজলুম,শুনা তোর আর্জি প্রভুরে।
না এখন আর তুই মজলুম না,না কোন মুসাফির,
এখন তুই বাতিলের আতংক, এক সিংহ মুসলিম বীর।
ভয় পেয়োনা,চিন্তা করোনা ভেবোনা কেউ নেই এ পথে,
রহমতের খাজানা নিয়ে,রহমান রহিম আল্লাহ আছে সাথে।।
মুসাফির ভাবোতো কোথায় তোমার গন্তব্য?
মনে হচ্ছে চেনা অজানা দ্বীঘাত সমীকরণে
দ্বিধা আর দ্বন্দের বেড়াজালে মত্ত মনোযুদ্ধে,
সংবরণ করো তোমার বিভ্রান্ত নাঙ্গা সমসের।
মুসাফির স্থির হয়ে শুনো ঐ ঐশী কালাম,
বায়য়াত নাও ঐ তাহতাশ শাজারতের ন্যায়।
মুসাফির শপথ নাও কন্টকযুক্ত রক্তভেজা সিরাত পারাবার।
মুসাফির একটু অপেক্ষা করো,ঐতো সুবহে সাদেকের আভাস,
সুবহে সাদেক পেরিয়েই মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ধ্বনিত হবে ফজরের আযান।
,একটু ধৈর্য্যধরো,প্রভুর দরবাবে অবনত সিজদাতে,
পেশ করো জালিমের বিরুদ্ধে আর্জি।
সাত তবক আসমান ভেদকরে ,
আরশ মুয়াল্লাতে পৌছাক মজলুমের আর্তনাদ,
ফজর নামাজের পূর্বেই কাঁপবে জালিমের মসনদ,
ভোরের রক্তিম সূর্যের সাথে সাথে দাফন হবে জালিমের।
আগামী দিনের সূর্য্য উদিত হবে শান্তির বারতা নিয়ে,
একটু ধৈর্য্যধরো মুসাফির।
মুসাফির তোমার রঙ্গিনের প্রতি কেন এত আবেগ?
মনে হচ্ছে দুনিয়ার সব কিছু তোমার কাছে রঙ্গিন।
আসলে দুনিয়া রঙ্গিন নয়,
তোমার চোখে নফসের রঙ্গিন চশমা পরা,
তাই দুনিয়াকে রঙ্গিন দেখছো,
সতর্ক করছি মুসাফির, ফিরে এসো।।

মূল্যবোধ চেতনা৷

হান্নান
আমি অক্ষরে পড়েছি মূল্যবোধ,বাস্তবে দেখিনাই,
আমি অক্ষরে পড়েছি চেতনা,বাস্তবে পাইনাই।
মোরা কেন শুধু শুধু মূল্যবোধের গান গাই?
মোরা কেন শুধু চেতনার নাম বাতলাই?
চেতনা,মূল্যবোধ শুধু মুখের বুলি ছাড়া কিছু নয়,
মূল্যবোধ,চেতনা আজ ব্যক্তি ক্যারিয়ারে।
মূল্যবোধ আজ হাতের টিস্যু পেপার ছাড়া কিছু নয়,
চেতনা আজ ধান্দাবাজদের কিছু মুখের বুলি।
রন্ধে রন্ধে মানুষের হাহাকার আর আর্তনাদ,
রাজপথ হতে ধেয়ে আসছে দূরবৃষ্ট মনুষ্য গন্ধ,
বৃদ্ধাশ্রম ভেসে যাচ্ছে বুকভরা বেদনার আঁখিজ্বলে,
জ্ঞানীর চোয়ালে গন্ডমুর্খের থাপ্পড়,
অফিসে অফিসে চলছে ঘুষ আর টিয়ে ডিয়ের হাতছানী।
ঘর সাজানো,বৌ এর গলা,মেয়ের নলা সাজানোই ব্যস্ত,
ওদের কাছে চেতনা মূল্যবোধ মূল্যহীন।
কোথায় মূল্যবোধ, কোথায় চেতনা? কৈ কৈ?
এই সমস্ত বুলি দিয়ে মূল্যবোধ চেতনা জাগ্রত হয়না,
মূল্যবোধ চেতনার জন্য মানুষ্যত্বের প্রয়োজন।
সে মানষ্যত্ব আমরা হারিয়ে ফেলেছি।
চেতনা মূল্যবোধের বৃক্ষটিই শুধু, আছে দেখি দাঁড়িয়ে।

বীর যুবক

হান্নান
হে যুবক তুমি বাংগালী,তুমি মুসলিম,তুমি মানুষ,
মানবতায় তোমার ধর্ম,জাগ্রত করো সে হুশ।
হে টগবগে নওজোয়ান,চালাও তোমার অভিযান,
মানবতার পথে,মুক্তির পথে,হও নিবেদিত প্রান।
তুমি নহে কোন রাজ্যের,তুমি নহে কোন রাষ্টের,
তুমি গোটা বিশ্বের,তুমি মুক্তির উলঙ্গ সমশের।
তোমার পদধ্বনীতে শুনি মুক্তির পথ চলা,
তোমার কন্ঠে শুনি,স্বাধীনতার কথা বলা।
তুমি শান্তির,তুমি মুক্তির,তুমি নব মুক্তির আশা,
তুমি বিশ্ব মানবতার,তুমি জাতির ভালবাসা।
তুমি অদম্য শক্তির, তুমি ধৈর্য সৌর্যে বলিয়ান,
তুমি দীপ্ত,তুমি ক্ষিপ্ত,তবু বিশ্বকে করেছো মহিয়ান।
তোমার পদবারে লুন্ঠিত হোক যত অনাচার দুরাচার,
তোমার হুংকারে দুরিভুত হোক ধরনীর যত আঁধার।

কবর

হান্নান
কবর কবর কবর ,কার কবর হবে অন্ধকার?
কি হবে কবরে তোমার তা ভাবো একবার।
রাখো তোমার বাহদুরী,রাখো তোমার হুংকার,
সব হারিয়ে হাউ হাউ করবে, হবে যখন সৎকার।
সাদ্দাম,গাদ্দাফি ভেবেছিল, দিন যাবে এভাবে,
নিয়তি বড় নিষ্ঠুর, তারা মরেছে নির্মম ভাবে।
থাকতে রুহু হশিয়ার হও, হয়োনা মাতঙ্গী,
বিপদের সময় তুমি পাবেনা কোন সঙ্গী।
পৃথিবীর যত ইতিহাস এটাই সাক্ষ্য দেয়,
অত্যাচারীদের মৃত্যু বড়ই নির্মম হয়।
কবরের নির্মমতা এখনো সব বাকি,
ভাবো তুমি এখন দিচ্ছ কাকে ফাকি?
কবরের ভয়ে ভীত হয়ে, ফিরে এসো হে জাতী,
কোন কাজে আসবেনা তোমার দুনিয়ার যশখ্যাতি।

প্রহসন মূলক শিক্ষা ব্যবস্থা

হান্নান
আমি সূচনা আর ভূমিকা টানতে চাইনা।
আমি সরাসরি বলতে চায় আমার মনের ভাষা,
আমার মায়ের ভাষা।
বর্তমানে যারা আমাদের এমপি মন্ত্রি ,
তারা অবশ্যই আগের জামানার সিলেবাসে পড়াশুনা করেছে।
দশক বছর পর হইত বোর্ড মূল বইয়ের,
দু একটি গল্প বা কবিতা পরিবর্তন করতো।
নুতন ক্লাসের ছাত্ররা পাশকরা বড় ভাইদের,
বই গুলিকে কখনো অর্ধেক দামে,
আবার ৩য় জনের কাছে আসলে ,
৩ভাগের একভাগ দাম দিয়ে বই নিয়ে পড়াশুনা করতো।
অনেক এমপি মন্ত্রি বা তাদের আত্মীয় আত্মীয়ারাতো বয়স্ক,
ত্রিশের কোটার যারা তারা নিশ্চয় এ ভাবেই পড়ে ,
কেউ আজ এমপি, কেউ সচিব,কেউ ডাক্তার,
কেউ মন্ত্রি ইত্যাদী।আপনারা যদি এটা পারেন,
তাহলে আমাদের সন্তানদের জন্য এই প্রহসন কেন?
কেন প্রতি বছর বই পাল্টিয়ে দেশের অর্থনীতিি
এবং মানুষকে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে?
বলবেন বইতো সরকার ফ্রি দিচ্ছে।
কোন মন্ত্রি তার বাবার গোলার ধান বিক্রি করে,
দেশের মানুষের বই কিনে দিয়েছে?
কিছু আমলা বইয়ের ব্যবসা খুলে,
সরকারের প্রিয় মুখদের সন্তুষ্ট করে ,
জাতীর ঘাড়ে বই পরিবর্তন ,
আর গাইড আবিস্কারের মেলায় মত্ত
মন্ত্রিও সন্তুষ্ট,আমলাও খুশিতে ডগমগ,
মাঝ পথে প্রধান মন্ত্রী হলো সমালোচিত,

স্মৃতির পাতায়

হান্নান
মোরাতো সেদিনই শপথ নিয়েছি মহা মৃত্যের,
প্রশিক্ষণ নিয়েছি যেদিন প্রশ্নাতীত আনুগত্যেরl
মোরা টগবগে রণতূর্য হাতে নওজোয়ান,
দেশের জন্য মোরা মৃত্যুকে করেছি মহিয়ান।
মোরা দৃঢ় মোরা সদা প্রস্তুত দিতে মোদের প্রাণ,
জীবনের বিনিময়ে মোরা রাখবো দেশের মান।
মায়ের আদর বাবার স্নেহ সবই এক আপ্লুত নিঃশ্বাসে।
মায়াবীনি স্ত্রী আদরের সন্তানেরা বেঁচে আছে শুধু বিশ্বাসে।
কর্তব্যে এসবের মোহ ভালবাসা শুধু হৃদয়ের পিঞ্জিরায়,
তাই বলে ভেবোনা আমাদের অন্তরে কারো মায়া নাই।
মায়া,স্নেহ ভালব্সাকে একমাত্র উপভোগ করে সৈনিকেরা।
আমার কাছে থেকে কি পেয়েছ সেটা ভেবোনা,
আমিতো আমার জীবনটাই বিলিয়ে গেলাম,
একবার বলোতো বিনিময়ে কি আমি পেলাম।
না না না আমি পেয়েছি তোমাদের অবিভাদন,
পেয়েছি তোমাদের দোয়া,ভাতৃত্বের বন্ধন।
কতযে হাটলাম,কত জায়গায় ঘুমালাম সবই আজ স্মুতি।
ভাবিনি কখনো এত অল্পতে টানতে হবে জীবনের ইতি।

অমর বাংগালী

হান্নান
স্বাধীন দেশের মানুষ মোরা গড়বো নব প্রাণ,
মাতৃভূমীর জন্য রক্ত করবো মোরা দান।।
সদা মুক্ত রাখবো মোরা মুখ করবো উজ্জল,
দেশের জন্য সদা সর্বদা থাকবো গো সবল।।
বিশ্বাস ঘাতকদের পতন করবো বাংলার জমিনে
ভাতৃত্বের বাঁধনে বাঁধিত হবো সবুজের লাল নিশানে।
অসহায় আর মজলুমের পাশে থাকবো মোরা সর্বক্ষন,
মনের বেদনা বুঝবো মোরা করবো আত্ন দান।
জন্ম নিয়েছি বাংলার বুকে হয়ে বাঘা বাংগালী,
জুলুম আর সন্ত্রসীদের করবো মোরা খালী।
আমার ভায়েরা রক্ত দিয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামে ,
তাইতো সবাই মুক্ত হয়েছি ফিরেছি সোনার আশ্রমে।
আমরা যাদের বিশ্বাস করেছি তারাই অবিশ্বাসী,
ঝঁপটে ধরে তাদের গলে পরাবো এবার ফাঁসী।
এরা ছদ্দবেশি আর কলমের আগাই করেছে রাহাজানী,
এরাই চামচা এরাই দালাল সবই এরা এরাই আবার খুনী,
এদের বিচারে করবো মোরা যাত্রা মোদের দুর্বার,
অসত্য থেকে সত্য আসতে ভয় কেন হে যাযা বর।।

অবাঞ্চিত শিশুর ডাক

হান্নান
আমি দুঃখিত মর্মাহত বেদনায় ব্যাথাতুর,
আজকের মায়েরা কেমনে হারালে সত্যের নূর।
ভালবাসা নামের কলংকের দাগ মুছার প্রয়াসে,
গর্ভের সন্তানকে বস্তায় ভরে দিচ্ছে বনবাসে।
ও মা তোর বুকে কি একটু জাগেনা মমতা?
আমাকে জঙ্গলে রেখে তুই করবি নরবতা?
ওমা আমিতো এসেছি নিঃশ্বাস নিয়ে দুনিয়াতে,
তবে কেন আমাকে রেখে নিরন্তর আবনীতে।
ওমা আমাকে বাঁচতে দাও আমাকে মেরোনা,
আমাকে মেরে কোনদিন তুমি সুখি হবেনা।
ও বাংগালী ও মুসলিম দয়া কি নাই তোর বুকে,
কোলের সন্তানকে তুই ফেলেদিলি কোন সুখে।
কি জবাব দিবি তুই বিধাতার মহান আদালতে,
সুখি হবিনা ইহ জনমেও পারবিনা বিপদ সামলাতে।
পিছু চেয়ে দেখ অসহায় সন্তান দিচ্ছে তোরে অভিশাপ,
খোদার দরবারে তুই কখনো পাবিনা মাফ।

ঝড়

হান্নান
লাল শাড়ী পরে জুমি কংকন হস্তে, দাড়িয়ে দখিনা জানালায়,
মনে বইছিলো প্রবল ঝড়,বধু আছে যানি কার অপেক্ষায়।
চতুরদিকে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছিল প্রতিরোধ,
অমর ও গিয়েছিল রনাঙ্গনে, নিতে বাঙ্গালী নিধনের প্রতিশোধ।
চলছিল চৈত্রের ক্ষরাদগ্ধ মাস,পাগলা ঝড়ের আশু হাতছানি,
আঁখি জল ছল চৌকাঠ ধরে দাঁড়িয়ে আমি হয়ে অভিমানী।
পতিক্ষায় থাকতাম পূর্ব দিগন্তে কখন উঠবে রক্তিম সূর্য্য?
স্বাধীনতার জন্য লুটিয়ে দিচ্ছে জীবনের সব সূর্য বীর্য।
কখন স্বাধীন হবে মা মাটি মাতৃভূমির মজলুম মানুষ?
কখন ফিরিয়া মায়ের সন্তানেরা এসে ফিরাবে মায়ের হুশ?
কেন যে মনে মোচড় দিলো আজ কিছুই ভাল লাগে না,
কেন চোখে এত অশ্রু আসছে কিছুইতো বুঝতে পারছিনা।
বেলুনিয়া বাজের অভিযান শেষেই লিখেছিলো সে আসবে,
পহেলা বৈশাখে আলপনা এঁকে রঙিন সাজে সাজবে।
কৈ আজতো বৈশাখীর পড়ন্ত বিকেল এখোনতো আসলনা,
চৌকাঠ ধরে টানা নিঃশ্বাসে ভাবছিলাম ও আর আসবেনা।
সহসা চেঁচামিচির শব্দ ভেসে আসলো কারা করে হাহুতাশ?
আমি কি জানতাম আমার জীবনে আসবে আজ সর্বনাশ।
বুকে গুলিবিদ্ধ রক্ত ভেজা পোশাকে অমরকে নিয়ে সাথী,
চীর দিনের জন্য নিভে গেল আমার মিলন মেলার বাতি।

মার্চের রক্ত বন্যা

হান্নান
মার্চ আসছে, মার্চ যাচ্ছে, ফিরে কি পেয়েছি মোর বাচাধন?
মসজিদ, মন্দীর, গির্জাতে দু হাত তুলে শুধু একদিন ক্রন্দন।
নানা রঙের পতাকা ফেসটুনে সজ্জিত পূষ্প স্তবক অর্পন,
দেশ মাতৃায় সশস্ত্র বাহিনী বছের বছের করে সমরাস্ত্র প্রদর্শন।
লোঙ্গর খানা গুলিতে বড় ঘটা করে রাধেঁ হরেক রকম খানা,
হামড়া কুমড়ি করে খেয়ে পেট চিতিয়ে করে মার্চের অবমাননা।
রঙ বেরঙের পোশাকে স্বামী স্ত্রী, কপোত কপোতীদের ভীড়,
আমি ক্ষন ভঙ্গুর আখরাজের মত চেয়ে ঝরায় আঁখি নীর।
দামাল সন্তান বুকে আদর করে ঘুমিয়ে ছিল মা হবে প্রভাত,
সে কি জানতো এটাই তার আর সন্তানের সকাল না হওয়া রাত।
সে কি জানে হায়েনার বুলেট কেঁড়ে নিবে তার আগামীর স্বপ্ন?
সে কি জানতো মা আর সন্তানের রক্তে ভেসে যাবে এই বিছানা,
কেউ কি জানে কি স্বপ্ন ছিল তাদের, কি ছিল তাদের আশা?
তারা চলে গেছে নিরন্তর স্বপ্ন দেশে, রেখে গেছে ভালবাসা।
জাতীর আজ আর্তনাদের দিন,জাতীর সর্বোস্ব হারানোর দিন,
এটা নহে কোন বড় খানার দিন এটা নহে রঙ্গীন উল্লাসের দিন।
এই দিনে আর্তনাদে স্ব স্ব ধর্মে বিধাতার কাছে করো ফরিয়াদ,
যারা হারিয়েছে একবার শোন তাদের আপনজনের আর্তনাদ।
রক্ত বন্যার দিনে আমি মানতে পারিনা তোমাদের এ উল্লাস,
হে বাঙ্গালী শোকের পোশাক পরো তুমিতো তাদেরই নির্যাস।
আমি ঘৃনা করি ঐ কাপুরুষ মানুষ্যত্বহীন পাক হানাদারদের,
আমি অভিসম্পাত করি ঐ বর্বর নৃসংশ হত্যাযজ্ঞ কারীদের।
এরকম মা সন্তান পিতাতো তোদের ও ছিল,তাহলে কেন?
কেন তুই কেড়ে নিলি আমার বুকের সোনামনিকে কেন?
ওতো একটু আগেও ঠোট ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলছিল,
দুহাত নাড়িয়ে পা দাপিয়ে আমার বুকে মাম মাম করছিল,
তুই কেমনে গুলি করলি ওর ছোট্ট বুক খানির উপর,
তোর কি একটুও কষ্ট হয়নি,তুইতো সীমারের চাইতেও নিকৃষ্ট,
আমার বুকের রক্ত বন্যায় তুই ভেসে হবি দুকুলের পথভ্রষ্ট।

স্বপ্নের পৃথিবী

হান্নান
আমি মাতৃ গর্ভের রক্ত মাংস মাখা শিশু অনাগত ভবিষ্যত ,
আমি নিষ্পাপ রুহু আসবো ধরনীতে নিতে তালিম তরবিয়ত।
রুহানী জগত আর মাতৃগর্ভের মতো চাই নিরাপদে থাকতে,
তোমাদের প্রান্তশালায় সুখের ভেলায় পারবে মোরে রাখতে?
আমি রক্তের বন্যা পেরিয়ে এসেছি দেখতে চাইনা কোন রক্ত,
আমি বিশ্ব শান্তির নিকেতন চাই সবার মাঝে হয়ে সবার ভক্ত।
আমি তাছবিহ জপেছি রুহানী জগতে খেলেছি প্রেমের খেলা,
তোমাদের ধরনীতে আমি বসাইতে চাই, ভাতৃত্ব বন্ধনের মেলা।
ঐ জগতের মতো শুনবো কি তাছবিহ তোমাদের আবনীতে?
জানিনা কেমনে থাকবো আমি তোমাদের প্রিয় বসুন্ধরাতে।
ওটা কি রুহানী জগত আর মায়ের গর্ভের চাইতেও বড়?
ওরা যে বলেছিল ওখানে গেলেই সবে হয়ে যাবে জড়ষড়।
আমি অনাগত ভবিষৎ আমি জানিনা কেমন ঐ পৃথিবী?
ওখানে গেলে এই জগতের স্মৃতি নাকি ভূলে যাবো সবি।
আমি যেতে চাইনা আমি আসতে চাইনি তবু চলে এসেছি,
এটাই আমার বিধাতার হুকুম, তাই তামিল করে বসেছি।
রুহানী জগতের বিচ্ছেদ ব্যাথায় আমি অতিব ব্যাথাতুর,
মায়ের গর্ভ হতে পৃথিবীর প্রান্তশালা জানিনা হবে কতদূর।

সংগ্রামী নব বর্ষ

হান্নান
নব বর্ষে হলুদ শাড়ী না পরে, পরেছিলাম লাল বেনারশ,
বধুবেশে গিয়েছনু লাল পালকীতে পরে আলপনা রাশ।
জানতামনা এই দিনে, আমার জীবনে আসবে সর্বনাশ।।
স্বাধিনতা সংগ্রামে চৈত্রের তাম্র খরায় পিপাসিত পথিক,
কাঁধে হাতিয়ার কোমর বদ্ধ গুলি দৃঢ় প্রত্যয়ী এক নির্ভিক।
কতদূর পথ যেন হেটে এসছে তবু ক্লান্তিতে নহে পরাজয়,
যেন শনিতের ক্ষুরধার আত্মদানে,এরাই করবে দিগ্বীজয়।
মনে পড়ে গেল ওর কথা জানিনা কোথায় কেমন আছে,
মনে হয় যেন ও ছায়া হয়ে, সদয় থাকে মোর পিছে পিছে।
অপেক্ষায় আছি ওদের মত ওঔ হইত আসবে নববর্ষে,
আলপনা এঁকে দেবো হৃদয় মন্দীরে ভালবাসার পরশে।
হৃদয় জুড়ে আছোগো তুমি,আমার স্বপ্নচারী বাতায়ন,
মসের যত কথা বলবো আমি রেখে হৃদয়ে দুই নয়ন।
সহসা দেখি কিগো ঐ যে দূরে ধরাধরি করে আসে কারা?
ওমা ওযে মিলিটারী,ক্ষত বিক্ষত শরীরে বইছে রক্ত ধারা,

কাছে আসতেই বাতাসী পানি দাও,আমি আর বাঁচবনা,
ওতো আমার সংগ্রাম, না না তোমাকে মরতে দেবনা।
আঁখি ভরা জলে কোলে মাথা রেখে করলো পানি পান,
বিধাতান নাম জপতে জপতেই জীবন করলো দান।

মজলুম মুসাফির

হান্নান
আমি মজলুম মুসাফির, জালিমের জুলুমে বড় অসহায়,
আমি বাক হারা নির্বাক,দুনিয়াতে নাই কেহ মোর সহায়।
ন্যায় অন্যায় নেই ভেদাভেদ,বিভ্রান্তে মনে হয় সবে অন্ধ,
হে মহিয়ান দুনিয়ার সব করুনার দরজা আমার জন্য বন্ধ।
যেখানেই যায় শুধু দুচ্ছেই কোথাও নেই যেন একটু করুনা,
তোমার কাছে কাতর আর্জি হে মহান প্রভু তুমি মোরে ভুলনা।
হে প্রভু মজলুমদের আকাশ ভারী আর্তনাদ কি শুনতে পাও?
তুমিতো নও কোন কাষ্ঠ পাথর, তুমিতো আজরের মুর্তি নও।
মজলুম আর তোমার মধ্যে তো কোন পর্দা নেই হে দয়াময়,
জালিমের জুলুম, অত্যাচার হতে প্রভু তুমি বাঁচাও আমায়।
আমি জানি প্রভু মজলুমের কাঁন্না, আর্তনাদ বড়ই ভয়ংকর,
তার চোখের একফোটা জলেই ভেসে যাবে জালিমের ঝংকার।
সাবধান হও জালিম সাবধান হও,নিওনা অভিশাপ মজলুমের,
শেষ পরিনতিতে বড়ই নির্মম অসহায়ত্বের মৃত্য হয় জালিমোর।
হে প্রভু জালিমরা সর্বদাই ছদ্মবেশে ধর্মের ছায়ায় করে জুলুম,
ওদের বিচারের ভার তোমার হাতে দিলাম হয়ে আমি মজলুম।
আমি বড়ই অসহায় প্রভু,আমি বড়ই ক্লান্ত শ্রান্ত এক মুসাফির,
তোমার সাহায্যের অপেক্ষায় তুলেছি দুহাত হয়ে অতি অধির।

আমি দুর্জয় দুর্ভেদ্য

হান্নান
আমি দুর্জয় দুর্ভেদ্য সসীম শক্তিসম এক বৃদ্ধ যাযাবর,
আমি করিনা কারো পরোয়া কুর্নিশ,ধারিনা কভু ধার।
আমি হতে চাই দিগ্বীজয়ী কালপুরুষ, আমি নহে হিমাংগো,
আমি প্রতিবাদী এক দানব, আর বিচ্ছুরিত অগ্নি অংগো।
আমি আগ্নেয়গীরির অগ্নী লাভা করে দেব সব ছারখার,
আমি অন্যায় অসত্যকে পায়ে পিশে করে দেব বিছমার।

বঙ্গবন্ধু

হান্নান
জীবন্ত এক জীবনী যদি দেখতে চাও, বঙ্গবন্ধুর জীবনী দেখো,
জীবন্ত ইতিহাস যদি লিখতে চাও, বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস লিখো,
মজলুম নিপীড়িত মানুষের বন্ধু দেখতে বঙ্গবন্ধুকে দেখো,
হৃদয়ের মাঝে কাউকে যদি রাখতে চাও বঙ্গবন্ধুকে রেখো।
শত ধারার মহা কবিতার মহা কবি আমার প্রিয় বঙ্গবন্ধু,
জীবনের সব চাওয়া বিলিয়ে তিনি ইতিহাসের বিষাদ সিন্ধু।
বাতিলের মসনদ কাঁপিয়ে সেদিন কন্ঠে নিয়ে হায়দারী হাক,
বাঁচাতে বাঙ্গালীকে দিয়েছিল সেদিন বাঙালির মুক্তির ডাক।
শতবাঁধা পেরিয়ে বীর দর্পে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী,
বজ্রের হঙ্কার দিয়ে পাক হানাদারদের করলো বাংলা খালী।
তোমাদের জন্য প্রতিদান দিলেন কন্টকমুক্ত বাংলাদেশ,
কেমনে ভুলে যাও হে বাঙ্গালী আমার বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ।
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির পরশে নিপিড়িত বাঙালী হয়েছে ধন্য,
বিশ্বের বুকে বাঙালীকে তাই আজ করে সবাই গন্য।
অমানিশির আধার ভেদিয়া আলোর প্রদীপ হাতে নিয়ে,
রাহবার হয়ে পথ দেখালেন নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে।
বিপ্লবী চিরভাস্কর আমার বঙ্গবন্ধু,হাজার ত্যাগের মহিমায়,
অপোষহীন সংগ্রামের অগ্রনায়কপাঠালেন প্রভু বাংলায়।
মৃত্যুর করিডোরে মাথা নাহি নীচু করে মুখে জ গর্জন,
ভেঙ্গে যাবে তবু মচকাবেনা এযে বাঘা বাংলার বীর জোয়ান।
নিজের জীবন যৌবন মায়ার বাধন ত্যাগ করলো কাদের জন্য?
নিরাপদ দেশ আর আশ্রয় দিয়ে বাঙ্গালীকে করলো কে ধন্য?
ধন্য বিশ্ব ধন্য মজলুম নিপীড়িত ধন্য আমার বাংলাদেশ,
ধন্য হে বঙ্গবন্ধু ধন্য হে মহাবীর ধন্য তোমার সোনার দেশ।
তুমি ফাঁসীর মঞ্চকে করেছো জয়,মিথ্যাকে করেছো ক্ষয়,
পাক হানাদার বিশ্বাসঘাতক দোসররা হয়েছ আজি লয়।

এমনতো ছিলনা বাঙ্গালী

হান্নান
অন্যয় দেখে কিছু বলবেনা এমন তো ছিলনা বাঙ্গালী,
মমতার বাঁধন আর বিবেকের দংশন হলো কবে খালী?
কারো বিপদে কেউ আসছেনা,বলছে যা করে সরকার,
মানুষের সামনে মানুষকে মারে চেয়ে দেখে সবে নির্বিকার।
কোথায় গেলো সে মানবতা কোথা আজ বাঙালির একাত্মতা,
স্বাধীনতা সংগ্রামের যুদ্ধ দামামায় দেখিয়ে ছিলাম যে দৃঢ়তা।
পিতামাতার সামনে মেয়ে, স্বামী সন্তানের সামনে স্ত্রী ধর্ষিতা,
দেখেও দেখে না শুনেও শোনে না কেন যেন সবাই নিরবতা।
বিশ্বজিৎ, রিফাতেরা আর্তনাদ করে চেয়ে চেয়ে দেখে বাঙালি,
এমনতো ছিলনা বাঙালীরা, কে করলো ওদের বিবেক খালী?
আজ শিক্ষকের দ্বারা ছাত্রী,পিতার দ্বারা কন্যা,সন্তান দ্বারা মা,
আবাল বৃদ্ধ বনিতা কিশোর কিশোরী কোথাও নিরাপদ না।
বঙ্গবন্ধুর পবিত্র বঙ্গভুমিতে এমনতো হবার কথা ছিলনা।
মজলুম সবে দুহাত তুলে সাহায্যর জন্য করছে ফরিয়াদ,
বাঁচাও আমাদের হে দয়াময় তোমার কাছে করি আর্তনাদ।
হে জাতি কখন ভাংবে ঘুম কখন তোদের বিবেক হবে জাগ্রত?
জাতির বিপদে ঝাপিয়ে পড়বি,কখন হবে তোদের এই ব্রত।
এটা ছিলোনা এমনটি না কোথায় কেন যেন গেল হারিয়ে,
কখন কোন দৈব বাতাস গেলো বাঙালীর উপর দিয়ে বয়ে।
হে জাতি অপরের বিপদ দেখে থমকে যেওনা এগিয়ে যাও,
তোমার ঘাড়েও আসতে পারে এ বিপদ তাই সবে এক হও।

কাতর আরজি

হান্নান
হে আমার প্রতিপালক যেখানেই রাখো সত্যের সাথে রাখিও,
যেখান হতে নিতে চাও মোরে হে প্রভু সত্যের সাথে নিও।
আর আমার জন্য সর্বদা রাষ্টের সুলতানের সাহায্য পাঠিও,
তুমি ক্ষমাকারী হে প্রভু, ভালোবাসো বান্দাকে ক্ষমা করিতে,
আমার পাঁঁপরাশি ক্ষমা করিও যেন পারি নিঃস্পাপে মরিতে।
সাজা যদি দাও মোদের হে প্রভু, মোরাতো তোমারই বান্দা,
ক্ষমা যদি করে দাও হে প্রভু কৈফিয়ত নিবেনা কোন বাসিন্দা।

কবে পাবো ঐ বাংলা

হান্নান
মাগো আমি কবে পাবো ঐ বাংলা, যেখানে থাকবে শুধু শান্তি,
আমি কবে পাবো ঐ বাংলা, যেখানে থাকবেনা কোন ভ্রান্তি।
কবে পাবো ঐ বাংলা যেথায় থাকবেনা খুন গুম রাহাজানি,
মা কবে দিবে ঐ বাংলা যেখানে থাকবেনা অস্ত্রের ঝনঝনানি।
ও মা কবে লয় হবে? বাংলা হতে ঐ সন্ত্রসীদের দৌরাত্ম্য,
কবে বিলীন হবে এই বাংলা হতে গডফাদারদের প্রভূত্ব।
মাগো শান্তি নামের সোনার হরিণ কোথায় গেলে পাবো?
অভয়ে তোর পদবারে কবে, মাগো অঞ্জলী আমি দেবো?
ছোট্ট শিশু বৃদ্ধা বণিতা ধর্ষিতা মা তোমার আঁচল পরে,
মজলুম মানবতা আর্তনাদ করে মাগো খুন গুম হয়ে মরে।
মাগো ওদের ভয়ংকর দন্ত নখরে ছিন্ন ভিন্ন মানবতা,
ওদের ভয়ে তোর মজলুম সন্তান অসহায়ে নিরবতা।
কি অমানিশা নামলো মাগো কখন হবে সোবহে সাদেক?
তোমার বাংলা কখন দূর হবে মাগো শয়তান মোনাফেক?
অন্ধকারের বদ্ধ কুঠিরে মাগো থাকবো বলো কতদিন?
আশার বানী শোনাও মাগো বলো ঘুচবে কবে দুর্দিন?
মাগো আমি অসহায় খনভঙ্গুর নির্বাক এক বোবা সন্তান,
মুক্ত নিঃশ্বাসে তোমার বাংলাতে বলো হবে কবে মোর স্থান?
মাশরেক হতে মাগরীবে যাবো মা থাকবেনা কিছুর ঝামেলা,
মুক্ত আকাশের নীচে মুক্ত বাতাসের কবে পাবো ঐ বাংলা?

কবিতা ও প্রবন্ধ

হান্নান
কবিতার ন্যায় ছোট লাইনে লিখলেই তাকে কবিতা বলেনা,
মানব প্রকৃতির কল্যান ছাড়া গদ কিছু লিখলেই প্রবন্ধ হয়না।
কবিতা প্রবন্ধ যাই লিখি তা হবে মানবতা আর প্রকৃতির জন্য,
শিখবে জানবে মানবে মানুষ কবিতা প্রবন্ধের লেখক হবে ধন্য।
মানব বিধ্বংসী কুরিপুর শিহরন লেখা কোন কবির কাব্য নয়,
যে কবিতার মাঝে থাকে মানুষ্যত্ব মানবতা কবিতা তারে কয়।
যে প্রবন্ধে থাকে জাতীর নৈতিক উত্থানের কৃষ্টি প্রবন্ধ সেটি হয়,
যে প্রবন্ধে জাগে নফস কুরিপুর শিহরন কখনো তা প্রবন্ধ নয়।
ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে কোন কিছু লিখলেই হয় না সে বড় লেখক,
কুকুর ছানা যতই হোক রুষ্টপুষ্ট সে কখনো হবেনা সিংহ শাবক।
বৃষ্টি যেদিকে ছাতা ধরে সেদিকে,লিখে দু চার লাইন ছন্দ কথা,
বড় কবি হইলো রাজার নামে বন্দনা করিয়া লিখিয়া কবিতা।
নন্দিনী জন্মদাত্রীদের উদাম করে লিখতে, কলম পায়না লাজ,
রিপুর সঙ্গে অঙ্গনাদের ব্যঙ্গ করে, সাজছে ওরা কবিতার রাজ।

জাগো নারী

হান্নান
হে কোমলমতি নারী তুমিই আমার মা বোন মেয়ে স্ত্রী,
তোমার অপমান মানে আমার রক্তকে নিয়ে অপমান,

তোমার উপর খড়গ হস্ত মানে জাতীর ঔরশে পদাঘাত,
তোমাকে ধর্ষন করার অর্থই জাতীকে জারজ বানানো,
সব অপমান সয়ে আঁচলের নীচে চোখ মুছো কেন মা?
মা তুমি ঘুরে দাঁড়াও শক্ত করো তোমার বুকের পাটা,
এর জন্য আমি তোমাকে বোরখা পর্দা খুলতে বলিনা।
শুধু বলবো তোমার মায়াবিনী দুর্বলতার ঘুম ভাঙ্গো,
সমাজে কলংক হবে এমন ভাবনার মুখে লাথি মারো,
হাতে তুলে নাও হাতুড়ী, রাখো একহাত লোহার ডান্ডা,
টালটি ফাল্টি করলেই ধুমধাম নাকে মুখে করে দেবে ঠান্ডা।
জাগ্রত হও হে নারী বহুত ঘুমিয়েছ, আর নয় জাগ্রত হও,
তোমার সোবহে সাদেক সমাগত,লম্পটেরা হবে অপসৃত।
দল বেঁধে চলো,যেখানেই শীষ কটুক্তি টার্গেট চিহ্নিত করো,
কোন কথা নেই ধমাধম বসিয়ে দাও,শক্ত করো তোমার মন।
তুমি যে সমাজে আছো এর পুরুষেরা আজ কাপুরুষ,
তোমার মরনের পর দুদিন মিছিল মিটিং তারপর শেষ,
তোমার যাবার তুমিই অকালে ঝরে যাবে,কেন জাগ্রত হবেনা?
প্রতিবাদী হও মা, আর নির্যাতিত নিপিড়িত তুই হইস না।
আমি তোকে ধর্ম কর্ম পর্দা হতে বেরিয়ে যেতে বলিনা,
আমি শুধু তোর নিরাপত্তার কথা বলতে চাই,তুই বাঁচ।
শত শত মা বোন আজ ধর্ষিত কলংকিত হয়ে নিশ্চুপ,
হাজার হাজার স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা শিক্ষক,
,লম্পটদের হাতে জিম্মি হয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় পথের দিশা পাচ্ছেনা।
দ্বীঘাত সমীকরনে পড়ে জিম্মি হয়ে,
একবার এরে একবার ওরে বিবাহের মত
ঘটনার মাধ্যম দিয়ে চলছে তোদেন জীবন।
আর নয় বসে থাকার সময় জাগো নারী জাগো।
তোর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জাগ্রত তোকে হতেই হবে।
তোর জাগ্রতে আমি পূর্ব দিগন্তে তোর মুক্তির রবি দেখি।

ধর্ষকদের বিংশ উনিশ

হান্নান
হে বিংশ উনিশের মাতৃ লোলুপ পুরুষ তোমাদের ধিক্কার,
তোমরা মানবের বেশধারী মুখোশ পরা শয়তান বদকার।
আমি পদাঘাত করি তোমাদের পাপিষ্ঠ পুরুষ সমাজকে,
মায়েদের কাছে প্রতিটা বিশ্বাস তোমরা ভঙ্গ করে চলেছো,
তোমরা লম্পট তোমাদের কাছে মাতৃ জাতির কেউ নিরাপদ না।
তোমার মা, বোন, এমন কি তোমার মেয়ে ও নিরাপদ না।
বিংশ উনিশে কলংকিত অধ্যায় রচনা করেছো তোমরা,
স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদারেরা ও শিশু ধর্ষন করেনি,
জাহালিয়াতের যুগে শিশু হত্যা থাকলেও ধর্ষন ছিলনা।
তোমাদের ভাল সাজার আর কোন অজুহাত থাকলো না,
তুমি ধর্ষক না হলেও ধর্ষক সম পাপিষ্ঠ অপরাধী,
তোমার চোখের সামনে তোমার সমাজে ধর্ষণ হয়,
তুমি শুধুই কান পেতে শোন আর ভাবো আমার না,
তুমি ধর্ষকের পক্ষে কথা বলো,উকালতি করে মুক্ত করো,
তুমি কি একবার শুনেছো ধর্ষিতা শিশুর মায়ের আর্তনাদ?
তুমি কি একটু শুনেছো ধর্ষিতাদের পিতামাতার ফরিয়াদ?
আমি ধিক্কার দেই আমাকে, আমি কেন পুরুষ এ সমাজের,
আমি পদাঘাত করি আমাকে,কেন ধরতে পারিনা সমশের।
ইতিহাস করবেনা ক্ষমা,যখন জানবে অনাগত ভবিষ্যত,
তোদের কবরে করিবে প্রস্রাব মানবেনা তালিম তরবিয়্যত।
এক অনিরাপদ মায়ের গর্ভে জন্ম আর এক অসহায় মায়ের,
আমাকে আমি পদাঘাত করি আমি পুরুষ এই জাতির ধর্ষকের

আবার তোরা মানুষ হ

হান্নান
আবার তোরা মানুষ হ রে মানুষত্বহীন জাতি,
আমি বলিনা তোরা দু পেয়ে এলিয়েন বা ইয়েতী।
যে মানুষত্বের কথা জেনেছি, যে মানবতাকে বুঝেছি,
যে মানুষত্বকে নিয়ে ভাবি, যে মানবতাকে স্থান দিয়েছি,
তোদের মাঝে নাইরে আজ সেই মানুষত্ব আর মানবতা,
তোদের অন্তরে সদা বিরাজিত শয়তান তিক্ত বক্রতা।
তোদের জন্য ধিক্কার,তোরা হিংস্র গাদ্দার স্বার্থপর,
সামান্য সার্থেই তোরা হয়ে যাস বেসামাল যাযাবর।
বিংশ শতাব্দীর হাতছানিতে ধ্বংস হলো সব মানবতা,
স্বার্থের তরে মুসলিম জাতি আজি পালন করে নিরবতা।
তোরা মুসলিম নামের কলংকিত কুলাঙ্গার বোবা শয়তান,
তোরা মিথ্যুক,তোরা জালিম,তোরা নিশা খোর হাইওয়ান।
তোরা কেন নির্যাতিত, কেন নিপীড়িত নিগৃহীত এ দুনিয়ায়,
অপর ভায়ের রক্ত দেখেও হেসেছিস,কভু ব্যথিত হস নাই।
আমি বলিনা তোরা পরাজিত জাতি পরাজিতই থাকবি,
সেই দিন তোরা জিতবি, আবার যেদিন তোরা মানুষ হবি।

আমার বাংলাদেশ

হান্নান
আমার বাংলাদেশ তোমার বাংলাদেশ সবার বাংলাদেশ
আমার মায়ের দেশ।
ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে রঞ্জিত ভেজা ভুমি,
সব হারানোর আর্তনাদের শান্তনা ওগো তুমি।
তুমিই আমার জীবন মরন তুমিই আমার শেষ।ঐ

লাল সবুজের ঐ পতাকায় রয়েছো মাগো তুমি,
রক্ত ফুড়ে উঠছে দেখো আমার জন্মভূমী,
গাছ গাছালী পাখ পাখালী ভরা আমার দেশ।ঐ
এই দেশেরই আকাশে বাতাসে শান্তি অবিরত,
এই দেশেরই মায়ের আঁচলে শান্তি সুধা যত,
ছায়ায় ভরা দেশ আমার মায়ায় ভরা দেশ।ঐ
ধন্য আমি ধন্য তুমি ধন্য এ ধরনীর পুষ্পবন।
জীবন মরন তোমার চরনে করি ওগো সমর্পন,
তোমার বুকে মাথা রেখে ভূলি কষ্ট ক্লেশ।ঐ
ষড় ঋতুই ঘেরা আমার মায়ের বদন স্মৃতি,
আঁধার ঘরে উঠলো জ্বলে আমার মায়ের জ্যোতি,
জ্ঞানী গুনিই ভরা আমার সোনার বাংলাদেশ ।ঐ

মন ভেঙ্গনা যুবক

হান্নান
হে যুবক তুমি বাংগালী,
তুমি মুসলিম,তুমি মানুষ।
তুমি মানবতার ধর্মমালী,
জাগ্রত করো সে হুশ।
হে টগবগে নওজোয়ান,
ভাঙ্গো তোমার অভিমান।
তুসি মানবতায় নিবেদিত প্রান,
মুক্তির পথে ধরো রাজ নিশান।
তুমি নহে কোন রাজ্যের,
তুমি নহে কোন রাষ্টের।
তুমি বীর গোটা বিশ্বের,
তুমি মুক্তির উলঙ্গ সমশের।
তোমার পদধ্বনীতে শুনি,
মুক্তির পথ চলা।
তোমার কন্ঠে শুনি,
স্বাধীনতার কথা বলা।
তুমি শান্তির,তুমি মুক্তির,
তুমি নব মুক্তির আশা।
তুমি অদম্য শক্তির,
তুমি জাতির ভালবাসা।
তুমি উষার আলোয় দীপ্ত,
তুমি ধৈর্য সৌর্যে বলিয়ান।
তুমি অন্যায় দেখে হবে ক্ষিপ্ত,
তুমি বিশ্বকে করবে মহিয়ান।
তোমার পদবারে লুন্ঠিত হোক,
যত অনাচার দুরাচার।
তোমার হুংকারে দুরিভুত হোক,
ধরনীর যত আঁধার।
দীপ্ত শপতে এগিয়ে চলো,
ঘুচাও সকল যন্ত্রনা।
সত্যের পক্ষে কথা বলো,
বিপদে মন ভেঙ্গনা।

কবিতায়ে কোবরা

হান্নান
শূন্যতায় নিরন্ত নিরবতায় ভাবাচ্ছন্ন্যে ভাবিলেন প্রভু,
ঈস্পাইল প্রভু সৃজিবেন, অবনী কুল কায়েনাত কভু।
নৃ ব্যতিত সৃজিলেন সব বলে কুন, হলো সব ফায়াকুন,
জন রে করিল সৃজন প্রভু নিজ হস্তে,করিয়া আলিঙ্গন।
কহিলেন বিধাতা যাও হে আদম আমার স্বর্গ পুরিতে,
এই বৃক্ষ ছাড়া সর্বত্র তুমি পারিবে থাকিতে আর ঘুরিতে।
নিসঙ্গ আদম উদাসীন মন চাওয়া পাওয়ার শুন্যতা দৃষ্টি,
ঘুমন্ত আদমের বাম পার্শ হতে প্রভু হাওয়াকে করলো সৃষ্টি।
খোদার নামের তাছবিহ জপে সদা জান্নাতের ভিতরে,
ইবলিশ এখন লাগলো পিছে,ক্ষতি করবে আদম হাওয়ারে।
কহিল শয়তান গন্ধক খাও হে হাওয়া হবে চীর জীবি
ধন্য হলো অবনী, পেয়ে ধরিত্রীতে সৃষ্টির সেরা মাখলুকাত,
প্রভুর করুনায় ধরনীতে হলো,আদম হাওয়ার মুয়ামালাত।

নবান্ন

হান্নান
ব্যথিত ভুবনের আনন্দ লহুরী নবান্ন আসলে দুয়ারে,
স্বপ্নচারীরা স্বপ্ন বুনে কি দিবে ওদিন তার প্রিয়ারে,
বাড়ির গিন্নীরা খুজে ফেরে সদা কোথাই বিন্নী ধান,
খির না বিলালে পড়শীদের কাছে হতে হবে অপমান।
নবান্ন আসলেই ধুম পড়ে যায় কৃষান কৃষাণীর ঘরে,
মিষ্টি পায়েশ বিলিয়ে বেড়াই পাড়ার আপন পরে।
নবান্নের আনন্দে গীত গেয়ে ফেরে দলে দলে লাঠিয়াল,
নবান্নের মিষ্টি ঠান্ডা হাওয়ায় খেলা দেখে সব পয়মাল।
সাঁপুড়িয়ারা ঝাপান গেয়ে দেখাবে সাপের খেলা,
সাজ সাজ রবে বসবে ঐ দিন ডানাকাটা পরী মেলা।
মেহেদী রঙে রাঙিয়ে হস্ত মুখে পরে আলপনা রাশ,
সাজুগুজু করে লক্ষীর সাজে জীবনকে করে পরবাস।
নবান্নের ভোরে সাজিয়ে গরু কৃষক দিতো ক্ষেতে লাঙ্গল,
নবান্নের খির বিলালে উঠত কৃষাণ কৃষাণীর ঘরে মঙ্গল।
জানি এ সব অপসংস্কৃতি,তবু বাঙ্গালী হয়ে নাছোড় বান্দা,
নবান্নের নামে অনেক কুলাঙ্গার করে ফেরে সদা ধান্দা।
সময়ের ঘনঘটায় বদলায় বয়সের ভারে

কে দায়ী

হান্নান
আমি নিঃসঙ্গ উদভ্রান্ত নিঃস্ব এক মুসাফির,
তিলে তিলে সঞ্চিত বুকভরা ব্যথায় অধীর।
কাল সাপের ঐ বিষাক্ত বাতাস করেছে ভর,
কে আপন আর কে পর সবই আমার ডর।
আমি কোন অপশক্তির স্নায়ু যুদ্ধের শিকার,
তছনছ করে দিচ্ছে সব যেন বিক্ষুব্ধ ঝঞ্জার।
মনে হচ্ছে আমার খুব পাশে থেকে করছে আক্রমণ,
তাদের তরে করতে হবে যেন সবই আমার সমর্পন।
ওর অলক্ষ্য বুলেটে ঝাঁজরা হয়ে যাচ্ছে বক্ষ পিঞ্জর,
নাই কোন প্রতিবাদের ক্ষমতা না আছে কোন খঞ্জর।
আমি পরাজিত জুলুমের কাছে অসহায় এক মজলুম,
আপনের চাইতে আপনারা করেছে আমার প্রতি জুলুম।
আসমানের নীচে জমিনের উপরে যেন বড়ই আমি একা,
নেক আমল ছাড়া সঞ্চিত জীবনের সবই আমার ফাকা
আঘাতে আঘাতে অপমৃত্যুর হাতছানী দিচ্ছে যেন ডাক,
বলো কে হবে দায়ী ওরাই সাজবে সন্যাসী দিবে হাক।
মানুষ হয়ে মানুষের উপরে হয়োনা খড়গ হস্ত, মানুষ্যত্বই সবার উপরে কাউকে করোনা হেনস্থ

ফেলে দিওনা মা

হান্নান
মোরা কার কাছে থাকবো বলো নিরাপদে,
অপ মৃত্যুর হাতছানি মোদের পদেপদে।
শিশুর জন্য নিরাপদ ছিলো পিতামাতার কোল,
যারা ছিলো ঝঞ্জা বিক্ষুব্ধতেও সন্তানের আশ্রয় স্থল।
আমরাতো আজ পিতামাতার বলির স্বীকার,
আমাদের অপমৃত্যে সবাই যেন নির্বিকার।
তোমাদের পুরানো জন্জালে মোরা কেন বন্দী?
অন্যকে ফাঁসাতে মোদের নিয়ে কেন আঁটো ফন্দী
পিতামাতার প্রেম নিবেদনের ফসল আমরা,
যদি হও পাপিষ্ঠ তবে তা বহন করবে তোমরা।
কোন অপরাধে আমাদের ছুড়ে মারো,
কোন অপরাধে ব্যাগ বস্তা বন্দী করো?
কোন অপরাধে আমাদের গলে ছুরি চালাও?
কোন অপরাধে আমাদের বলিদান দাও?
তোমাদের বুকে কি একটু মায়াও হয়না?
মায়াবী মুখস্মৃতি কি একটুও দেখনা?
আমার ছোট্ট মুখটি দেখে কি মায়া লাগেনা?
ওমা আমিতো তোমার রক্তাক্ত ফসল,
দশটি মাস তোমার ঔরস ভুবনের হিরক খন্ড।
কেন আমাকে ফেলে দাও মা,
ও মা আমি বড় হয়ে আদর করে মা বলে ডাকবো,
তুমি কি আমার সে ডাকটুকু শুনবেনা?
বড় হয়ে মায়াবীনি বেনীতে ডানাকাটা পরী সাজবো,
তুমি কি সে সাজ দেখে নয়ন জুড়াবেনা?
হইত ভাবছো আমাকে কেউ কুড়িয়ে নিবে,
তবে আমার কি শুদ্ধ পরিচয় থাকবেনা?
মায়ের জাতিরা না মায়াবিনী দরদী হয়?
ও মা তবে কেন আজ পাশান্ড হয়ে,
নির্জন জংগলে আমাকে রেখে যাচ্ছো?
ও মা আমার নরম শরীরে পিঁপড়া লাগবে,
পোকে কামড় দিয়ে কুরে কুরে খাবে।
হিংস্র প্রানীরা কচমচ করে চিবাবে মা,
তুমি কেমনে সইবে মা?
ও মা তুমি আমাকে বাঁচতে দাও,
আমাকে ফেলে দিওনা মা।

ইতিহাস পড়ো

হান্নান
ইতিহাস পড়ো হে জাতি
ধরো ইতিহাসের পাতা,
খুনি কেন হবে শিক্ষিত জাতি
কেন মুছবে জীবন পাতা।
রন্ধো রন্ধে কেন হাতছানি
জীবন নিয়ে খেলা,
জীবনের বাঁকে কেন রাহাজানি
কেন ত্রাসের মেলা?
শিক্ষিতেরই হাতের কলম
কেন হলো পিস্তল?

পাহাড়ী বনানী

হান্নান
ওহে বাংলার স্বর্ন্ শিখর পাহাড় ও পর্ব্ত
তোমার তলে দেখি যেন আজ স্বর্গের শরবত
তাপিত হৃদয়ে পেয়েছি তোমাকে মিটাব মনের পিপাসা
বৃþ লতায় আবৃত তুমি বাংলার নব ভরসা
পাহাড়ী বাংগালী সবে মিলে আজ গাহিছে তোমার গান
ইতিহাসের পাতায় হয়ে থেকো তুমি মহা সম্মান
তোমার বুক থেকে তাকিয়ে দেখি নব বৃþ বাগান
উচু নিচু হয়ে গাহিছো মথুর বিধাতা নামের গান
পাহাড়ী বালিকারা দল বেধে চলে কাস্তে কোদাল নিয়ে
পাট্টা পরে পাড়ি দেই তারা গুন গুনিয়ে গান গেয়ে
তোমার বুকের বাঁশ বৃþ তন্নী তরুলতারাজি
সকলে মিলে আনছে যে তা উল্লাসে সাজাসাজি
মাতৃ হৃদয়েযর গৌরব তুমি ধন্য তোমাকে পেয়ে
ছায়ায় ভরা স্বর্গের সুখ বাংলাকে দিয়েছ দিয়ে
তোমার সকাশে গড়েছে শিবীর বাংলার সেনা সমাহার
রণ তরঙ্গের পূর্ন্ কৌশল আর দিয়েছ নির্যাস সার
আলু আর অটল টিলাতে দাড়িয়ে দেখেছিলাম নীচু চেয়ে

বাংগালী সব ভাই ভাই

হান্নান
দুপুরের রবি কিরণ মালার প্রখর তপ্তময়ী শক্রুর অবিচার,
কলংকের দাগ মোচন করিতে মুক্তিরা আসিল দুর্বার।
শত শত মায়ের নয়নের মনিরা করল তাজা রক্ত দান,
রক্তের বদলে পেলাম মোরা স্বাধীন এক বাংলা নিশান।
পরাধিনকে আমরা স্বাধীন করেছি বন্দিকে করেছি মুক্ত,
ধনী গরীব রাজা প্রজা একই বাঁধনে যুক্ত।
বাংলার একতা স্বাধীনতার জয় দেখিয়া দেশোদ্রহী,
কি ভাবে তা পতন করিবে ভাবে বসি বসি।
তারা বাংলার বিদ্রহী তারা দেশের শক্র,
তারা কারা ? তারা কর্ম্কর্তার ছদ্দবেশি কিছু মিত্র।
তারা অবহেলা করে অর্থ্ হীনকে স্বাধীনকে রাখে পরাধিন,
তারাই কা পুরুষ যারা থাকে তাদের অধিন।
পরাধিন যদি থাকবো তবে করলাম কেন রক্ত দান ?
এরা কি খোদা না দেবতা ? তাই এত সম্মান?
পাওনা যা নিবে তা অধিক কিছু নয়,
সকলে স্বাধীন কেউ নয় পরাধিন,
বাংগালী সব ভাই ভাই।
ওরে ও সয়তানেরা ক্ষমতার ভাব দেখাই যারা,
আর করিসনা দেরী তোরা পশু স্ব‍াভাব বদলা ত্বরা।।
আসবো দুর্বার ফিরে আবার নবীন মোরা বিদ্রহী
ধরবো টুটি মারবো লাথি থামরে ওহে দেশাদ্রহী।।
জনমের অনন্দ উপভোগ করো মোদের করে পরাধীন,
তোরা শাসক নয় তোরা শক্র, বাংগালীর করলি শক্তিহীন।

গুরুর শিক্ষা

হান্নান
মহানশ্বরে আসে মানব থাকেনা বুদ্ধি জ্ঞান,
বুদ্ধির পরিচয়ে মানুষ,মানুষকে করে সম্মান।
অন্ধ ভূবনে জ্ঞানের সন্ধানে যায় পাঠশালায়,
জ্ঞানের পাহাড় হেথায় থাকেন শিক্ষক মহাশয়।
ভাল মন্দ বিধাতার কথা বুঝাতে থাকেন গৌরবে,
সে তো কভু নহে মহাশয় যিনি সময় কাটান নিরবে।
গুরুর মর্যাদা শিখানোর মাঝে শিক্ষক হলেন তিনি,
শিক্ষক নহে জাতীর দুশমন,ক্লাসে বসে ঘুমান যিনি।
শিক্ষকের দান,বড় সম্মান সঠিক ভাবে দিলে,
পাবে নিশ্চয় মহা সম্মান সঠিক শিক্ষা পেলে।
কবীগুরু সাহিত্যিক যত আছেন গেছেন ইহলোকে,
পেয়েছে সকলে গুরুর শিক্ষা তাই পদবী বেঁধেছে বুকে।
চিন্তার ভাবে দেখি একবার কার কত মান,
যাদের শিক্ষায় হয়েছি বাদশাহ করি তাদের প্রনাম।

অমর বাংগালী

হান্নান
স্বাধীন দেশের মানুষ মোরা গড়বো নব প্রাণ,
মাতৃভূমীর জন্য রক্ত করবো মোরা দান।।
সদা মুক্ত রাখবো মোরা মুখ করবো উজ্জল,
দেশের জন্য সদা সর্বদা থাকবো গো সবল।।
বিশ্বাস ঘাতকদের পতন করবো বাংলার জমিনে
ভাতৃত্বের বাঁধনে বাঁধিত হবো সবুজের লাল নিশানে।
অসহায় আর মজলুমের পাশে থাকবো মোরা সর্বক্ষন,
মনের বেদনা বুঝবো মোরা করবো আত্ন দান।
জন্ম নিয়েছি বাংলার বুকে হয়ে বাঘা বাংগালী,
জুলুম আর সন্ত্রসীদের করবো মোরা খালী।
আমার ভায়েরা রক্ত দিয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামে
তাইতো সবাই মুক্ত হয়েছি ফিরেছি সোনার আশ্রমে
আমরা যাদের বিশ্বাস করেছি তারাই অবিশ্বাসী
ঝঁপটে ধরে তাদের গলে পরাবো এবার ফাঁসী।
এরা ছদ্দবেশি আর কলমের আগাই করেছে রাহাজানী,
বিচারক,শাসক সবই এরা এরাই আবার খুনী,
এদের বিচারে করবো মোরা যাত্রা মোদের দুর্বার,
অসত্য থেকে সত্য আসতে ভয় কেন হে যাযা বর।।

শীতের স্মৃতি গাঁথা

হান্নান
শৈতালী পদবারে লেপ কাঁথীর আড়ম্বর ,
আর জামাই বাবুদের নকশী কাঁথী
শেলায়ে রমা ভাবিনীদের ধুম ধামাক্কা ,
বাতলাচ্ছে শীতের আগমন বার্তা।
নন্দিনী জামাই আসবে,
মা শাশুড়ী ব্যস্ত নুতন ধানের আটা কুটবে,
ওগো ঝিউরী জামাই আসবে,

হাঁসের খোজ করো।
কোথায় রাজঁহংস, পাতিহাঁস?
হরেক রকমের পিঠাপুলি আর
হাঁসের গোশত রুটি পিঠেতে,
যেন বাঙালী জামাই মহিয়ান।
শৈতালী সকালের কড়কড়া ভাত,
আর ঠান্ডা সরপুঁটির ঘন ঝোল,
সুটকী দিয়ে ছোলার শাকের ঘন্টো,
আর খ্যুদে বড়ি মাখা ভাত,
মুখ দিয়ে ধোয়া ছাড়বে আর খাবে,
এ যেন আমার বাংগালীর শীতের ঐতিহ্য।
শৈতালী প্রত্যুষে সাজাল পোয়ানো,
ফাঁটা পায়ে আমের আঠা গরম দেয়া,
জাম্পার আর চাদরে মুড়ে,
শাকের গুটী আর লাটীম খেলা,
এসব আজ শীতের স্মৃতি কথা।
শীতের বিকালে ডানাকাটা পরীদের
দলবেঁধে ছোলার শাক তোলার দৃশ্য,
হইত আজকের সেলফীতে হতো সেরা ছবি।
শীতের জোৎসনা রাতের প্রথম প্রহরে,
আখ ক্ষেতে খসখসিয়ে আখ ভাঙ্গা,
আর খেজুর রসের ভাড় পেঁড়ে ,
কচুড়ী দেয়া রস খেয়ে মুখ চুলকানো,
আজকের দিনের কল্পনার উপন্যাস।।
সব আনন্দের মাঝেও থাকে বেদনা,
কারো জন্য আনন্দ পৌষ মাস,
আবার কারো জন্য শীত সর্বনাশ।
শীতার্ত বস্ত্রহীন আবাল বৃদ্ধ মানুষ গুলো,
ফুটপাত স্টেশন অলিতে গলিতে,
চট গায়ে যখন কাঁপতে থাকে,
মনে হয় যেন বিবেক কাঁপছে।
লোম উঠা কুকুর গুলির ঠ্যাং,
উচিয়ে কাঁপনী আর ফ্যাল ফেলিয়ে
তাঁকানো,আর মহা নায়কদের দু ছেই,
কখনো কখনো বিবেককে নাড়া দেই।
পল্লীর গরু ছাগল গুলির শ্যাকালী,
গায়ে দেয়া দেখলে মানবতার কথা মনে পড়ে।
পাশ্চাত্যের অনুকরন আর নগ্ন আধুনিকতায়,
শীতের বাংগালী ঐতিহ্য আজ এক স্মৃতি গাঁথা।

Comments